সেনবাগে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুল ছাত্রীর বিয়ের ঘটনায় বর,বরের বাবা, কনের বাবা-মা, মৌলভী, স্বাক্ষী ও কাজীর জেল-জরিমানা
সেনবাগ প্রতিনিধি-
নোয়াখালীর সেনবাগে অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুল ছাত্রীকে বিয়ে দেওয়ায় ঘটনায় কনের মা-বাবা এবং বিয়ে করানোর অপরাধে বর ও বরের বাবা, বিয়ের স্বাক্ষী ও কাজী’র (নিকাহ রেজিষ্ট্রার) এবং বিয়ে পড়ানোর অপরাধে মসজিদের মুয়াজ্জিনের জেল জরিমানার খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে এ বিয়ের পর খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে বিয়ের সত্যতা পান এবং পরবর্তীতে তাঁর কার্যালয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসে।
বিকালে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বসা আদালতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট (ইউএনও) মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা ওই আদেশ দেন। আদালত একই সঙ্গে বিয়েটি অবৈধ ঘোষনা করে এবং মেয়েটির বয়স ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত পূনরায় বিয়ে না দেওয়ার আদেশ দেয়।
জানা যায়, আদালতের আদেশের পর কনের পিতা সাহাব উদ্দিন ও মাতা জোসনা আক্তার, বর জামাল হোসেন রাসেল (২৩), তার বাবা মোহাম্মদ সেলিম,  বিয়ের স্বাক্ষী জামাল হোসেন, মোহাম্মদ হারুন, মোহাম্মদ সেলিম, জসিম ও কাজী (নিকাহ রেজিষ্ট্রার) এনামূল ইসলাম এমাম’র এক হাজার টাকা জরিমানা; অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড এবং ওই বিয়ে পড়ানোর অপরাধে স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জিম নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে পাঁচ শত টাকা জরিমানা; অনাদায়ে ১৫দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেওয়ার পর পরই প্রত্যেকে জরিমানা পরিশোধ করে কারাভোগ থেকে রেহাই পান।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের সাহাব উদ্দিন মেয়ে ও স্থানীয় মোহাম্মদপুর রামেন্দ্র মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী শিরিন আক্তার (১২) এর সঙ্গে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে জামাল হোসেন রাসেলের (২৩) সঙ্গে বিয়ে হয়।
খবর পেয়ে সকাল ১১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বাল্যবিয়ের সত্যতা পান। পরবর্তীতে তিনি পুলিশের সাহায্যে কনে ও কনের বাবা-মা, মোয়াজ্জিমকে তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। এবং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম দুলালের মাধ্যমে বর ও বরের বাবা ও বিয়ের ৩জন স্বাক্ষীদের তাঁর কার্যালয়ে ডেকে আনেন।
বিকেলে এলাকার গন্যামন্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা (নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট) তাঁর কার্যালয়ে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে উভয় পরে বক্তব্য শোনার পর রায় ঘোষনা করেন। রায়ে ইউএনও ২০০৯ সালের মোবাইলকোর্ট আইনের আওতায় ১৯২৯ সালের বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের ৪, ৫ ও ৬ ধারায় বাল্যবিয়েতে সহায়তা করার অপরাধে জরিমানা ও বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দেন।


সড়ক দূর্ঘটনা, অপরাধ ও হামলা-সংঘর্ষ