বিশেষ প্রতিনিধি-
‘আমি নিজে মুন্সিয়ার মোবাইলে ফোন করে আমার ভাইয়ের (ইব্রাহিম) প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছি। সে কোন সায় দেয়নি উপরন্তু বলেছে আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দিবে। আজ সকালে নাকি আমার ভাইকে
মাটিতে পুঁতে ফেলেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বুধবার হাতিয়ার দমার চর ও কালাম চরে দুই দল জলদস্যুর বন্দুক যুদ্ধে নিহত ইব্রাহিমের ছোট বোন চরচেঙ্গা এমসিএইচ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা আক্তার (১৬)।
এসময় বিলাপ করে কাঁদছিলেন ইব্রাহিমের মা ছালমা বেগম (৫১)। জানালেন পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার মুন্সিয়ার মোবাইলে ফোন করে ইব্রাহিমের প্রাণ ভিক্ষা চাইলে উল্টো হুমকি দেয়া হয় তাঁর অন্য ছেলেদেরও হত্যার। জানালেন, জীবিত পাওয়ার সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় অন্তত ছেলের লাশের অপোয় রয়েছেন তিনি।
এদিকে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দক্ষিণে জাহাজমারা ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল দমার চর ও কালাম চরে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত দুই দল জলদস্যু বাহিনীর মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে আট জন নিহত হাবার খবর বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দৈনিক ও টিভি চ্যনেলে প্রচারিত হলেও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কোন লাশ উদ্ধার হয়নি। বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় ও যান্ত্রিক (নৌযান) সুবিধা না থাকার অযুহাতে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত (বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আট টা) পুলিশ কিংবা কোষ্টগার্ডে কোন দল যায়নি কালাম চরে কিংবা দমার চরে। উপরন্তু হাতিয়া থানা পুলিশ এবং কোষ্টগার্ড একে অপরের ওপর দায়িত্ব ফেলছে। এদিকে দমার চর ও কালাম চরের সংলগ্ন এলাকা হওয়ার কারণে নিঝুম দ্বীপের বন্দর টিলা এলাকায় মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। এ দ্বীপের মানুষজন ঘর থেকেও তেমন বের হয়নি বলে জানান নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী ও জেলে।
অপরদিকে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে মৃতের অসংখ্যা ১৫ ছাড়িয়ে যেতে পারে। নদীতে স্রোত থাকায় এবং সাগর উত্তাল থাকায় লাশগুলো পানিতে ফেলে কিংবা চরের মাটিতে পুঁতে ফেলা হতে পারে। এছাড়া আহত অবস্থায় যারা নদী সাঁতরে হাতিয়া পৌঁছেছে তাঁরাও গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাতিয়ার চরচেঙ্গা ইউনিয়নের কেনজাখালী গ্রামের ইউনুস ব্যাপারী বাড়িতে সমকাল প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে ইব্রাহিমের ছোট ভাই আব্দুর রহিম জানায়, বুধবার দুপুর ১২টায় তাঁর মোবাইলে সর্বশেষ কথা হয় ইব্রাহিমের সাথে। পায়ে গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিম তাঁকে জানায় কালাম চর থেকে দমার চরে পালিয়ে যাচ্ছে ইব্রাহিম। এসময় তাঁর সাথে ১৩ সঙ্গী ছিলো। ইব্রাহিম এময় তাঁকে জানিয়েছিলো জলদস্যু মুন্সিয়া চোরা, বাহার কেরানী, টিপু, সফিবাতাইন্যা (কালকিনি), গেসু ডাকাত, ঝাটকি বাবুল, রফিক ও সফিকের বাহিনীর দুই শতাধিক লোক তাঁদের (ইব্রাহিম ও তার সঙ্গীদের) ঘিরে ফেলেছে। এর পর আর কোন খবর পাওয়া যায়নি। কালাম চর ও দমার চরে ইব্রাহিম ও মাকছুদের সাথে ৩৪জন ছিলো বলে ইব্রাহিম তাকে জানিয়েছিলো।
এনিয়ে যোগাযোগ করা হলে জাহাজমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, মারা গেলেও যেই আবহাওয়া এখনকি আর কাউকে পাওয়া যাবে? তাছাড়া বিষয়টি পুলিশ ভালো বলতে পারবে।
যোগাযোগ করা হলে হাতিয়া কোষ্টগার্ডের কন্টিজেন্স কমান্ডার মোঃ সফিক জানান, এটি দূর্গম চরাঞ্চল এখানে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সাপোর্ট তাদের নেই। তাছাড়া ওপরের থেকে নির্দেশ আসেনি। বিষয়টি পুলিশ দেখার কথা।
লাশ উদ্ধার কিংবা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এস আই জামিল জানান, নিহত হওয়ার বিষয়টি তারও শুনেছেন সাংবাদিকদের মতো। নৌযান না থাকায় তারা সেখানে যেতে পারেননি। তাছাড়া এটি কোষ্টগার্ডের দেখার কথা। ইতোপুর্বে পুলিশ নৌযান ভাড়া করে বিভিন্ন সময়ে অভিযানে নামলেও দিনভর বৃষ্টি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাতিয়া থানা পুলিশ নদীতে নামতে পারেনি।
প্রসঙ্গতঃ চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইব্রাহিম হচ্ছে দ্বিতীয়। সে দুই সন্তানের জনক। গত বছরের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার বিশ্ব কলোনী থেকে ইব্রাহিম ও মাকছুদকে গ্রেফতার করেছিলো পাহাড়তলী থানা পুলিশ।
হাতিয়ার মেঘনায় চাঁদাবাজির আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স›দ্বীপের মাকছুদ বাহিনী ও হাতিয়ার ইব্রাহিম বাহিনী যৌথভাবে মঙ্গলবার রাতে দমার চরে ও কালাম চরে পুরস্কার ঘোষিত জলদস্যু সর্দার মুন্সিয়া চোরার আস্তানায় সশস্ত্র হামলা চালায়। এসময় উভয়পরে মধ্যে গোলাগুলির এক পর্যায়ে মুন্সিয়া তাঁর দলবল নিয়ে পিছু হটে।
বুধবার সকাল আটটার দিকে নদীতে সক্রিয় অন্যান্য জলদস্যু বাহিনীকে একত্রিত করে মুন্সিয়া শক্তি সঞ্চয় করে তাঁর হারানো আস্তানা পুনরুদ্ধারে ইব্রাহিম ও মাকছুদ বাহিনীর ওপর অতর্কিতে হামলা করে। এসময় উভয়পরে মধ্যে বন্দুক যুদ্ধ ও সংঘর্ষ হয়। এসময় ইব্রাহিম, মাকছুদ ও পিচ্চি খোকাসহ আট জন নিহত হয় বলে তখন জানা যায়। পরবর্তীতে মৃতের সংখ্যা কত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
‘আমি নিজে মুন্সিয়ার মোবাইলে ফোন করে আমার ভাইয়ের (ইব্রাহিম) প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছি। সে কোন সায় দেয়নি উপরন্তু বলেছে আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করে দিবে। আজ সকালে নাকি আমার ভাইকে
মাটিতে পুঁতে ফেলেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কান্নাজড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন বুধবার হাতিয়ার দমার চর ও কালাম চরে দুই দল জলদস্যুর বন্দুক যুদ্ধে নিহত ইব্রাহিমের ছোট বোন চরচেঙ্গা এমসিএইচ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ফারজানা আক্তার (১৬)। এসময় বিলাপ করে কাঁদছিলেন ইব্রাহিমের মা ছালমা বেগম (৫১)। জানালেন পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার মুন্সিয়ার মোবাইলে ফোন করে ইব্রাহিমের প্রাণ ভিক্ষা চাইলে উল্টো হুমকি দেয়া হয় তাঁর অন্য ছেলেদেরও হত্যার। জানালেন, জীবিত পাওয়ার সুযোগ শেষ হয়ে যাওয়ায় অন্তত ছেলের লাশের অপোয় রয়েছেন তিনি।
এদিকে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার দক্ষিণে জাহাজমারা ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল দমার চর ও কালাম চরে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত দুই দল জলদস্যু বাহিনীর মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে আট জন নিহত হাবার খবর বৃহস্পতিবার বিভিন্ন দৈনিক ও টিভি চ্যনেলে প্রচারিত হলেও বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কোন লাশ উদ্ধার হয়নি। বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল থাকায় ও যান্ত্রিক (নৌযান) সুবিধা না থাকার অযুহাতে এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত (বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আট টা) পুলিশ কিংবা কোষ্টগার্ডে কোন দল যায়নি কালাম চরে কিংবা দমার চরে। উপরন্তু হাতিয়া থানা পুলিশ এবং কোষ্টগার্ড একে অপরের ওপর দায়িত্ব ফেলছে। এদিকে দমার চর ও কালাম চরের সংলগ্ন এলাকা হওয়ার কারণে নিঝুম দ্বীপের বন্দর টিলা এলাকায় মানুষের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। এ দ্বীপের মানুষজন ঘর থেকেও তেমন বের হয়নি বলে জানান নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যবসায়ী ও জেলে।
অপরদিকে একাধিক সুত্র নিশ্চিত করেছে মৃতের অসংখ্যা ১৫ ছাড়িয়ে যেতে পারে। নদীতে স্রোত থাকায় এবং সাগর উত্তাল থাকায় লাশগুলো পানিতে ফেলে কিংবা চরের মাটিতে পুঁতে ফেলা হতে পারে। এছাড়া আহত অবস্থায় যারা নদী সাঁতরে হাতিয়া পৌঁছেছে তাঁরাও গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাতিয়ার চরচেঙ্গা ইউনিয়নের কেনজাখালী গ্রামের ইউনুস ব্যাপারী বাড়িতে সমকাল প্রতিনিধির সাথে আলাপকালে ইব্রাহিমের ছোট ভাই আব্দুর রহিম জানায়, বুধবার দুপুর ১২টায় তাঁর মোবাইলে সর্বশেষ কথা হয় ইব্রাহিমের সাথে। পায়ে গুলিবিদ্ধ ইব্রাহিম তাঁকে জানায় কালাম চর থেকে দমার চরে পালিয়ে যাচ্ছে ইব্রাহিম। এসময় তাঁর সাথে ১৩ সঙ্গী ছিলো। ইব্রাহিম এময় তাঁকে জানিয়েছিলো জলদস্যু মুন্সিয়া চোরা, বাহার কেরানী, টিপু, সফিবাতাইন্যা (কালকিনি), গেসু ডাকাত, ঝাটকি বাবুল, রফিক ও সফিকের বাহিনীর দুই শতাধিক লোক তাঁদের (ইব্রাহিম ও তার সঙ্গীদের) ঘিরে ফেলেছে। এর পর আর কোন খবর পাওয়া যায়নি। কালাম চর ও দমার চরে ইব্রাহিম ও মাকছুদের সাথে ৩৪জন ছিলো বলে ইব্রাহিম তাকে জানিয়েছিলো।

এনিয়ে যোগাযোগ করা হলে জাহাজমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম জানান, মারা গেলেও যেই আবহাওয়া এখনকি আর কাউকে পাওয়া যাবে? তাছাড়া বিষয়টি পুলিশ ভালো বলতে পারবে।
যোগাযোগ করা হলে হাতিয়া কোষ্টগার্ডের কন্টিজেন্স কমান্ডার মোঃ সফিক জানান, এটি দূর্গম চরাঞ্চল এখানে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত সাপোর্ট তাদের নেই। তাছাড়া ওপরের থেকে নির্দেশ আসেনি। বিষয়টি পুলিশ দেখার কথা।
লাশ উদ্ধার কিংবা ঘটনাস্থলের পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা এস আই জামিল জানান, নিহত হওয়ার বিষয়টি তারও শুনেছেন সাংবাদিকদের মতো। নৌযান না থাকায় তারা সেখানে যেতে পারেননি। তাছাড়া এটি কোষ্টগার্ডের দেখার কথা। ইতোপুর্বে পুলিশ নৌযান ভাড়া করে বিভিন্ন সময়ে অভিযানে নামলেও দিনভর বৃষ্টি এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে হাতিয়া থানা পুলিশ নদীতে নামতে পারেনি।
প্রসঙ্গতঃ চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে ইব্রাহিম হচ্ছে দ্বিতীয়। সে দুই সন্তানের জনক। গত বছরের ৫ জানুয়ারি চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকার বিশ্ব কলোনী থেকে ইব্রাহিম ও মাকছুদকে গ্রেফতার করেছিলো পাহাড়তলী থানা পুলিশ।
হাতিয়ার মেঘনায় চাঁদাবাজির আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স›দ্বীপের মাকছুদ বাহিনী ও হাতিয়ার ইব্রাহিম বাহিনী যৌথভাবে মঙ্গলবার রাতে দমার চরে ও কালাম চরে পুরস্কার ঘোষিত জলদস্যু সর্দার মুন্সিয়া চোরার আস্তানায় সশস্ত্র হামলা চালায়। এসময় উভয়পরে মধ্যে গোলাগুলির এক পর্যায়ে মুন্সিয়া তাঁর দলবল নিয়ে পিছু হটে।
বুধবার সকাল আটটার দিকে নদীতে সক্রিয় অন্যান্য জলদস্যু বাহিনীকে একত্রিত করে মুন্সিয়া শক্তি সঞ্চয় করে তাঁর হারানো আস্তানা পুনরুদ্ধারে ইব্রাহিম ও মাকছুদ বাহিনীর ওপর অতর্কিতে হামলা করে। এসময় উভয়পরে মধ্যে বন্দুক যুদ্ধ ও সংঘর্ষ হয়। এসময় ইব্রাহিম, মাকছুদ ও পিচ্চি খোকাসহ আট জন নিহত হয় বলে তখন জানা যায়। পরবর্তীতে মৃতের সংখ্যা কত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।






