
রুদ্র মাসুদ-
আল্লায় রাইলে বাঁচুম, নইলে ভাসি যাইয়ুম। এটা ছাড়া আঙ্গো আর কি করার আছে। কোন কিল্লা নাই, বেঁড়ি নাই, আশ্রয় কেন্দ্র নাই। তুফান আইলে মরি যান ছাড়া গতি নাই। সোমবার বিকালে ক্ষোভের সাথে কথাগুলো বললেন হাতিয়ার নলের চরের ভূমিহীন সফি উল্যা। তাঁর মতে আবহাওয়া যে গতিপ্রকৃতি আবারো কোন ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে শুধু লাশ পড়বে। তবে; সফি উল্যাই নয় উপকূলে বসবাসরত পরিবারগুলো রয়েছে এমন দূর্যোগ ঝুঁকিতে।
হাতিয়াসহ উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরতদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বছরের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় আইলায় মারা যায় ৩৬জন। তাৎক্ষণিকভাবে সরকারি তহবিল থেকে ত্রাণ তৎপরতাও চালানো হয়েছিলো। বরাদ্দ দেয়া হয়েছিলো ভাঙ্গা বেড়ি বাঁধগুলো মেরামতেও। কিন্তু নোয়াখালীর সুবর্নচর উপজেলা ও দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার মূল ভুখন্ড লাগেয়া ও বিচ্ছিন্ন নিঝুম দ্বীপ, দমার চর, ঢাল চর, মৌলভীরচর, জাগলার চর, বদনারচর, সাহেবানির চর, চর নুরইসলাম, চর ইসলাম, নঙ্গলিয়ার চর, কেরিংচর, নলের চর, নামার চর ,পাতার চর, চরলক্ষ্মী, পশ্চিম উরির চর, দক্ষিণ চরক্লার্ক, উরির চর, চর বায়জীদ, চর নোমান, চর কনক, চর মকসুমুল, চরবালুয়া ও দিয়ারা বালুয়ায় বসবাস করে ৬০ হাজারেরও বেশি পরিবারের তিন লাধিক মানুষকে দূর্যোগের হাত থেকে বাঁচাতে সরকারের তরফ থেকে দীর্ঘ মেয়াদী কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। যেসকল বেঁড়ি বাঁধ মেরাতম হয়েছে সেগুলোর অবস্থায় ভালো নয়। হাতিয়ার সুখচরসহ যে বেড়ি নির্মিত হয়েছে তা বড় ধরণের জোয়ার শুরু হলে প্রথম ধাক্কাতেই ধ্বসে যাবে। আইলের মতো এরকম বেঁড়ি মেরামত নিয়ে ক্ষুব্ধ এলাকার জনগণও।

ক্ষুব্ধ উপকূলবাসীর মতে ৩৬টি লাশও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পারেনি প্রাকৃতিক দূর্যোগ হ্রাসে। কারণ ঝড় জলোচ্ছ্বাসের সময় গবাদি পশু যেমন তিগ্রস্থ তেমনি দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকটও। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। আইলার পর বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে জরুরী ভিত্তিতে কিছু কিল্লা ও বেঁড়ি নির্মাণ হবে এমন প্রত্যাশা ছিলো এখানকার মানুষের কিন্তু সেই উদ্যোগও দেখা যায়নি।
তবে হাতিয়ার বাইরের বিচ্ছি চর ও দ্বীপ সমূহের বাসিন্দাদের দূর্যোগ ঝুঁকির কথা স্বীকার করলেও বেঁড়ি মেরামতে অবহেলার কথা অস্বীকার করেন হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন উর রশিদ। ৪০ দিনের কর্মসূচীর আওতায় সুখচরে নতুন করে টেকসই বেঁড়ি নির্মাণ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি জানান, নিঝুম দ্বীপে ক্রসড্যাম হলে সেখানকার পরিস্থিতি উন্নতি হবে। পাশাপাশি চর নাঙ্গলিয়া, নলেরচর, কেরিংচর ও আশপাশে চরগুলো চর উন্নয়ন বসতি স্থাপন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। প্রকল্পে কাজ শুরু হলে হয়তো দূর্যোগ ঝুঁকি কমবে; তবে তাও ৩/৪ বছর লেগে যেতে পারে।
অপরদিকে হাতিয়ার উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক ওয়ালী উল্যাহ জানান, শুধু হাতিয়ার বাইরের চরগুলো নয়; হাতিয়ার মূলভুখন্ডও ঝুঁকিমুক্ত নয়। তাই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার গ্রহন জরুরী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আইলার পর হাতিয়ার চেয়ে সাতীরাসহ ঐসব অঞ্চলে বেশী বরাদ্দ গেছে। অথচ হাতিয়া প্রাণহানী ও অন্যান্য য়তি কোন অংশে কম ছিলো না। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেয়া হয়েছে এবং শীঘ্রই উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।







