
রুদ্র মাসুদ-
যে খালের নামে নোয়াখালী জেলা সেই নোয়াখালী খালের পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে বিষ। একই সাথে বিষাক্ত হয়ে পড়েছে চৌমুহনী-ফেনী খালের পানিও। প্রশাসনের নাকে ডগায় বেগমগঞ্জ বিসিক শিল্প নগরীর শিল্প বর্জ্য এবং অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা কলকারখানার বর্জ্যে এ দুটি খালের পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ায় কৃষি ও পরিবেশের ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশংকা করা হচ্ছে। অথচ; খালের মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ড, কৃষি বিভাগ, বিসিক কিংবা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দূষণ রোধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে খালের পানি ব্যবহার করে বিপাকে পড়ছে সাধারণ মানুষ।
সংশ্লিষ্ট সুত্র এবং সরেজমিনে দেখা যায়, বেগমগঞ্জ বিসিক শিল্প নগরীর ওষুধ ও কেমিক্যাল কারখানাসহ ৭৮টি শিল্প ইউনিট প্রতিনিয়ত নোয়াখালী খালে এবং চৌমুহনী-ফেনী সড়কের পাশ্ববর্তী কলকারখানা চৌমুহনী-ফেনী খালে প্রতিদিন বিষাক্ত বর্জ্য ফেলছে। ফলে খাল দুটির পানি বিষাক্ত হয়ে কালচে রং ধারণ করেছে এবং প্রতিনিয়ত দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এমনকি পানি বিষাক্ত হয়ে পড়ার কারণে খালে ভাসমান কচুরি ফেনাসহ সকল জলজ উদ্ভিদ মরে গেছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, বর্ষা মওসুম শুরু হওয়ায় এই বিষাক্ত পানি বৃষ্টির পানির সাথে মিশে সর্বত্র ছড়িয়ে যাবে। ফলে বেগমগঞ্জ এবং সেনবাগসহ আশপাশে উপজেলার আবাদী জমি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। ইতোমধ্যে যেসকল কৃষক ও মাছের খামার মালিকরা এ খালের পানি ব্যবহার করেছে তাঁদের কপাল পুড়েছে। এলাকাবাসীর মতে; বেগমগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগায় বিসিকের বর্জে নোয়াখালীর খালের মরনদশা হলেও প্রশাসন কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। এমনকি পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকেও কোন তদারকি নেই। যার মাশুল গুনতে হবে সাধারণ মানুষকে।
বেগমগঞ্জের আলাইয়া পুর ইউনিয়নের সুজায়েত পুর গ্রামের তরুণ মৎস চাষী মোঃ সুমন (৩২) জানান, ১৫/১৬ দিন পূর্বে নোয়াখালী খাল থেকে তাঁর খামারে পানি তোলার পর খামারের সব মাছ মরে গেছে। এতে তাঁকে বিপুল অঙ্কের ক্ষতির সন্মুখিন হতে হয়েছে।
এনিয়ে যোগযোগ করা হলে বেগমগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তোফায়েল আহম্মদ চৌধুরী জানান, বৃষ্টির পানিতে মিশে হয়তো এই বিষাক্ত পানির তীব্রতা কমবে। তবে; সাময়িকভাবে এর ক্ষতি না পড়লেও এ অঞ্চলের কৃষিতে স্থায়ী ক্ষতির আশংকা রয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান পানি বিষাক্ত হয়ে দূর্গন্ধ ছড়ানোর কথা স্বীকার করলেও দূষণ রোধে কোন ব্যবস্থা নেননি। তিনি জানান, আগামি জেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি তোলা হবে।
অপরদিকে বেগমগঞ্জ বিসিক শিল্প নগরীর এষ্টেট অফিসার জীবন কৃষ্ণ মজুমদার বিসিকের শিল্প বর্জে দূষণের কথা স্বীকার করে বলেন, ৭৮টি শিল্প ইউনিটকে নিজস্ব উদ্যোগে বর্জ শোধনের জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে কিন্তু কেউ এতে সাড়া দেয়নি। পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এনিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান এক বাক্যে বলেনদূষণ রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।






