নিমতলী ট্র্যাজেডিতে নিহত চারজনের লাশ সোইমুড়িতে দাফন : সাহারা বানু ও তাঁর প্রিয় নাতির এক সঙ্গে পরকাল যাত্রা !
11
রুদ্র মাসুদ-
তিন বছরের আদরের নাতি সানিকে বুকে জড়িয়ে রেখেও বাঁচাতে পারেননি সাহারা বানু (৪০)। আগুনেই নিভে গেছে তাদের প্রাণ প্রদীপ। আর এ সাথেই হয়েছে তাঁদের পরকালের যাত্রা।  আগুনে পুড়ে যাওয়া দুইটি লাশ জোড়া লাগার কারণে আলাদাও করা যায়নি তাই একই কাফনের কাপড়ে মুড়িয়ে দু’জনকেই সমাহিত করা হয় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বজরা ইউনিয়নের বারাহী নগর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। একই সময়ে দাফন করা হয় সাহারার স্বামী মুকবল আহম্মদ ও মেয়ে শারমিনকেও।
এই হৃদয়বিদারক দৃশ্যটি নিহত সাহারার জীবিত দুই মেয়ে তাছলিমা (২০) ও আকলিমা (১৮) এবং একমাত্র ছেলে সোহাগের (১৪) সাথে গোটা গ্রামবাসীকে কাঁদিয়েছে।
পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার নিমতলী ট্রাজেডীতে সাহারা বানু ছাড়াও মারা যান তাঁর স্বামী মুকবুল আহম্মদ (৫০), বড় মেয়ে ফেরদৌসী (২৫) ও তাঁর আড়াই বছর বয়সের শিশুপুত্র ফাহিম, মেঝমেয়ে শারমিন (২২), স্বামী ছিদ্দিক (২৮) ও শিশুপুত্র সানি (৩)। এঁদের মধ্যে ফেরদৌসী ও তাঁর শিশুপুত্র ফাহিমকে স্বামীর বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া ও ছিদ্দিককে তাঁর গ্রামের বাড়ি মতলব উপজেলায় এবং অন্য চারজনকে সোনাইমুড়ী উপজেলার  বারাহীনগরে সাহারা বানুর গ্রামের  বাড়িতে দাফন করা হয়।
এলাকাবাসী জানায়, শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ঢাকা থেকে সাহারা বানু ও তাঁর স্বামী মুকবুল, মেয়ে শারমিন ও নাতি সানির লাশ গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছলে গোটা এলাকায় সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্যের। এসময় নিহত সাহারার জীবিত দুই মেয়ে ও একমাত্র ছেলের  বুক ফাঁটা আর্তনাদ এবং আত্মীয় স্বজনের কান্নায় এলাকার পরিবেশ ভারী করে তোলে।
গতকাল রোববার বারাহি নগর গ্রামের চাঁনগাজী ভূঁইয়া বাড়িতে কথা হয় সাহারার মেয়ে আকলিমার সঙ্গে। আকলিমা জানান, ছোট ভাই সোহাগ পিতা-মাতার সঙ্গেই নিমতলীতে থাকতো। ঘটনার দিন গেন্ডারিয়ায় মামার বাসায় থাকার কারণে সে বেঁচে যায়। এছাড়া তিনি নিজে স্বামীর সঙ্গে পুরানো ঢাকায় এবং ছোট বোন তাছলিমা গার্মেন্টে চাকরীর সুবাদে চট্টগ্রামে থাকায় তাঁরা তিনজন বেঁচে গেছেন।
আকলিমার মামা সাহাব উদ্দিন জানান, অগ্নিকান্ডের আগের দিন ঢাকায় নিমতলীর ৫৫নং কাঠের দ্বোতালায় মেঝো মেয়ে শারমিনের বাসায় বেড়াতে যান সাহারা বানু। তারও আটদিন আগে চাঁদপুরের মতলব থেকে একই বাসায় এসেছিলেন আড়াই বছরের সন্তান নিয়ে বড় ভাগ্নি ফেরদৌসি। সে রাতে ওই বাসায় তাঁর ভগ্নিপতি মুকবুল মিয়াও যান। বাসায় থাকা সাতজনের সবাই আগুনে পুড়ে মারা যান।
বিশেষ প্রতিবেদন