ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরামের জমজমাট অভিষেক : কানাডার অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বাংলাদেশি কানাডিয়ানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে-পরিবহনমন্ত্রী ক্যাথলিন ওয়াইন
11
চ.নো.রিপোর্ট-
কানাডার ওন্টারিও সরকারের পরিবহন মন্ত্রী ক্যাথলিন ওয়াইন বলেছেন, কানাডার অর্থনীতি ও রাজনীতিতে বাংলাদেশি কানাডিয়ানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের সাথে সকল প্রকার সম্পর্ক উন্নয়নে আমাদের সরকারের অন্তরিকতার অভাব নেই।
ওয়েষ্টার্ন অন্টারিও ইউনিভার্সিটির ভিসি ও প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডিয়ান ড. অমিত চাকমা বললেন, নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়েই এই দেশকে জয় করতে হবে। হতাশ না হয়ে কেবল এগিয়ে যেতে হবে।
গত ২০ জুন টরন্টোর কানাডিয়ান রয়েল লিজিয়ন হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরামের নতুন কার্যকরী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে তারা এসব বলেন। সংগঠনের নবনির্বাচিত সভাপতি আব্দুল হালিম মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনার এ এম ইয়াকুব আলী, বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক খোদাদাদ খান। সংগঠনের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টুর পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানে ওন্টারিও প্রিমিয়ার ড্যাল্টন ম্যাকগুইনটির শুভেচ্ছাবার্তা নিয়ে আসেন লরেনজো বেরারডিনিটি এমপিপি। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন অন্টারিও পার্লামেন্টে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার বিল উত্থাপনকারি খলিল রামাল এমপিপি, ফোরামের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিষ্টার কামরুল হাফিজ, সাবেক সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ, অভিষেক উদযাপন কমিটির আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, লেখিকা ফরিদা রহমান, তাসরিনা শিখা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের সাফল্য কামনা করে শুভেচ্ছা পাঠান ফেডারেল সিটিজেনশীপ ও ইমিগ্রেশন মন্ত্রী জেসন কেনি, অন্টারিওর সিটিজেনশীপ ও ইমিগ্রেশন মন্ত্রী ড. এরিক হসকিন্স, শ্রমমন্ত্রী পিটার ফনসেকা। কানাডিয়ান ও বাংলাদেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি ভিন্নমাত্রা লাভ করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী ক্যাথলিন ওয়াইন বলেন, বাংলাদেশের সবোর্চ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটদের এই অনুষ্ঠানে আসতে পেরে আমি আনন্দিত। আমি আশা করবো এই গ্রাজুয়েটরা কানাডা-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক ইস্যুগুলো নিয়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টুর অনুরোধে উপস্থিত দর্শকরা বাংলাদেশের গর্ব ড. অমিত চাকমার সাফল্যকে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে সম্মান জানান। ড. অমিত চাকমাকে গেষ্ট অব অনার ঘোষণা করা হয়। 10
এসময় ড. অমিত চাকমা বলেন, যে সম্মান আমাকে দেয়া হলো সেটা আমি সবসময় মনে রাখবো। আমাদেরকে এই দেশটিকে আপন করে নিতে হবে। নিজের মেধা ও জ্ঞানকে একাডেমিক ফরমেটে এখানকার উপযোগি করে পরিশীলিত করতে হবে। তাহলেই কেবল সাফল্য আসবে হাতের মুঠোয়।
বাংলাদেশ হাইকমিশনার এ এম ইয়াকুব আলী বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন সবসময় ফোরামের পাশে থাকবে। বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে হবে।
বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব বলে শেষ করা যাবে না। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এলুমনাই হিসেবে আমি গর্বিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক খোদাদাদ খান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস ঐতিহ্যের প্রতীক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় । এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গরিব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের সহায়তায় প্রবাসীদের এগিয়ে আসতে হবে।
সংগঠনের সাবেক সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাজুয়েটদের সংগঠন হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরাম একটি স্বতন্ত্র মাত্রা লাভ করেছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ব্যারিষ্টার কামরুল হাফিজ বলেন, ফোরাম ইতিমধ্যেই অরাজনৈতিক ও নিজস্ব একটি ভিন্নমাত্রার অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি ফোরাম গঠনের সময়কার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। লেখিকা ফরিদা রহমান বলেন, নতুন কমিটি এই সংগঠনকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাবে। লেখিকা, আবৃত্তিকার তাসরিনা শিখা বলেন, প্রাণের এই সংগঠনের যে কোনও আয়োজনে প্রাণের টানেই ছুটে আসি আমরা। সভাপতির ভাষণে আব্দুল হালিম মিয়া উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরাম অতীতের মতো আগামীতেও ভিন্নধর্মী আয়োজনগুলো অব্যাহত রাখবে। বাংলাদেশ ও কানাডার অর্থনীতি-রাজনীতিতে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবে। এরপর এটিএন মেগা স্টোরের আনোয়ার শামসুদ্দোহার সৌজন্যে আমন্ত্রিত অতিথিদের উপহার দেয়া হয়।
12এরপর ছিলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিবর্তনের ধারায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিরোনামের ব্যতিক্রমী আয়োজনে অংশ নেন প্রাবন্ধিক হাসান মাহমুদ, লেখিকা রুমানা চৌধুরী, মৌ মধুবন্তী, সুমী রহমান, ইশতিয়াক আহমেদ প্রমুখ। রুমানা চৌধুরী, জসিম মল্লিক ও মৌ মধুবন্তীর বইয়ের মোড়ক উম্নোচন করা হয়। এই পর্বটি পরিচালনা করেন ইশতিয়াক আহমেদ। আবৃত্তিসন্ধ্যা উপস্থাপনায় ছিলেন শেখর ই গোমেজ। আবৃত্তি করেন তাসরিনা শিখা, শেখর ই গোমেজ, মেহরাব রহমান, নাইমা সিদ্দিকা, শিশির প্রমুখ। সংগীত পরিবশন করেন নাহিদ কবীর কাকলী, মৌসুমী কাদের, আশরাফ হুদা, সুমী বর্মন, শিমুল প্রমুখ। নৃত্য পরিবেশন করে অন্তমা। পুরো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন আনজুমান রোজী ও সুমী রহমান। এরপর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত মুরাদ পারভেজ পরিচালিত ও আযম ফারুক প্রযোজিত ‘চন্দ্রগ্রহণ’ ছবিটি দেখানো হয়। আর অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে বটতলা, টিএসসি, মধুর ক্যান্টিন ও হাকিম চত্বর স্থাপন। হলভর্তি দর্শক পুরো আয়োজনটি দারুণভাবে উপভোগ করেন। 
ক্রীড়া ও সংস্কৃতির খবর