সোনাইমুড়ীতে গ্রাম্য শালিসী বৈঠকে কিশোরীর সম্ভ্রমের মূল্য ২৫ হাজার টাকা : মামলা না দেয়ায় ঘটনা জেনেও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ !
রুদ্র মাসুদ-
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে কিশোরী ধর্ষনের ঘটনায় গ্রাম্য শালিশে সম্ভ্রমের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ হাজার টাকা । শনিবার রাতে উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের আমকি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে । বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সোনামুড়ি থানায় অবহিত করার দুই দিনেও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ না পাওয়ার অজুহাতে কোন পদক্ষেপ নেয়নি সোনাইমুড়ি থানা পুলিশ। এনিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, জয়াগ ইউনিয়নের  আমকি গ্রামের তালেমদ হাজ্বী বাড়ীর রিকসা চালক সহিদ উল্যার তের বছরের কিশোরী মেয়ের সাথে পার্শ্ববর্তী পাটোওয়ারী বাড়ীর জাহাঙ্গীর আলমের পুত্র শামীম (১৮) এর সাথে মন দেওয়া নেওয়া চলছিল। শনিবার বিকেলে শামীম বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে ঐ কিশোরীকে পার্শ্ববর্তী পাটোওয়ারী বাড়ীর মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে ধর্ষন করার এক পর্যায়ে হতভাগ্য কিশোরী চিত্কার দিলে বাড়ীর লোকজন  তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।
এ ঘটনা জানাজানি হলে, দরিদ্র পিতা আইনের আশ্্রয় নিতে চাইলে এলাকার প্রভাবশালী সহিদ উল্যা (দুলাল ডাক্তার) তাতে বাঁধা দেয়। এলাকায় মিমাংশা করবে বলে ঐ রাতে দুলাল ডাক্তারের নেতৃত্বে গোপন শালিশ বসে। শালিশদারের মধ্যে দুলাল ডাক্তার ছাড়াও গ্রাম সরকার আবুল খায়েরের পুত্র অহিদ, সাকায়েত উল্যা পাটোওয়ারী ও আবদুল হক উপস্থিত ছিলেন। ছেলে পক্ষ প্রভাবশালী ও দুলাল ডাক্তারের ভাইয়ের ছেলে  হওয়ার সুবাদে কিশোরীর সম্ভ্রমের মূল্য ২৫ হাজার টাকা নির্ধারন করেন। এতে কিশোরীর দরিদ্র পিতা সহিদ উল্যা রাজি না হয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে দুলাল ডাক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দিয়ে বলে, রায় দিয়েছি মেনে নিতে হবে! অন্যথায় গ্রামে থাকতে পারবেনা। বর্তমানে অসহায় ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে সহিদ উল্যা মামলা করতে ভয় পাচ্ছে। শালিসী বৈঠক চলাকালে এবং পরবর্তীতে বিষয়টি সোনাইমুড়ি থানা পুলিশকে অবহিত করলেও পুলিশ কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
শালিসী বৈঠকে উপস্থিত স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, দু‘পক্ষের কথা শুনে আমি ২০ হাজার টাকা দেয়ার রায় দিলে কিশোরীর পরিবার তা না মানায় আমি শালিসী বৈঠক থেকে চলে যাই। পরে গ্রাম সরকার আবুল খায়েরের পুত্র অহিদসহ অন্যান্যরা বসে ২৫ হাজার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করি; তখন পুলিশ মামলা দেয়ার জন্য বলে।
এনিয়ে যোগাযোগা করা হলে সোনাইমুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে মিমাংসা করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এমন ঘটনা শোনার পর ব্যবস্থা না নেয়া প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমার কাছে কেউ মামলা নিয়ে আসেনি। মামলা হলে শক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সড়ক দূর্ঘটনা, অপরাধ ও হামলা-সংঘর্ষ