দাগনভূঞায় তাল কুড়াতে গিয়ে লাশ হলো কিশোর এমরান
জুলহাস তালুকদার-
তের বছরের এমরান ষষ্ট শ্রেণীতে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে ওঠে তাল কুড়াতে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পরও ফিরে না আসায় শুরু হয় খোঁজাখুজি, চলে সারা দিন। বিকেলে লোকজনের সন্দেহ হয় পাশের মত্স খামারের এক চালার নীচে রাখা বস্তার দিকে। অবশেষে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা মত্স খাদ্যের গুলোর নীচ থেকেই উদ্ধার করে কিশোর এমরানের মৃতদেহ। শুক্রবার ফেনীর দাগনভূঁঞা উপজেলাধীন পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামে ঘটে এই লোমহর্ষক ঘটনা। এই গ্রামের জনৈক সালাউদ্দিনের মত্স খামারের একচালায় থাকা মত্স খাদ্যের বস্তাগুলির নীচ থেকে উদ্ধার করা হয় একই গ্রামের রিক্সা চালক মোঃ ইব্রহিমের স্কুল পড়ূয়া ছেলে মোঃ এমরান হোসেনের লাশ। 
পুলিশ ও পারিবারিক সুত্র জানায়, শুক্রবার সকালে দাগনভূঁঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের মোঃ ইব্রহিমের ছেলে মোঃ এমরান হোসেন ঘুম থেকে ওঠে তাল কুড়াতে যায়। কিন্তু এমরানের জানা ছিলোনা পাশের মত্স খামারের মালিক সালাউদ্দিন তার খামারের মাছ ও খাদ্য চুরির রোধে চলাচলের পথের পাশে অবৈধভাবে বিদ্যুায়িত করে রেখেছিলেন। আর সে পথ দিয়ে যাওয়ার সময় এমরান বিদ্যুত্স্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এরপর খামার মালিকের লোকজন দ্রুত এমরানের মৃতদেহটি নিয়ে একচালার নীচে থাকা মাছের খাবারের বস্তাগুলোর নীচে লুকিয়ে রাখে। সারাদিন এমরানকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে তার বাবা মোঃ ইব্রাহিম ও মামা দুলাল মিয়া সালাউদ্দিনের খামারের বস্তাগুলো ওলট পালট করে ছেলের মৃতদেহ দেখতে পায়। খবর পেয়ে দাগনভূঁঞা থানা পুলিশ খামারের এক চালার বস্তার নীচ থেকে এমরানের বিদ্যুত্স্পৃষ্ট মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এমরানের মামা দুলাল মিয়া বাদী হয়ে খামার মালিক সালা উদ্দিনের বিরুদ্ধে দাগনভূঁঞা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। শনিবার দুপুরে ফেনী সদর হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত শেষে আত্মীয়স্বজনের নিকট হস্তান্তর করা হয়।
এমরানের মামা দুলাল মিয়া জানায়, রিক্সা চালক মোঃ ইব্রাহিমের ছেলে মোঃ এমরান হোসেন পাশ্ববর্তী সেবারহাট শেরে বাংলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ট শ্রেণীর ছাত্র। খামারের বস্তার নীচে ছেলের মৃতদেহ দেখার পর থেকে বাবা মোঃ ইব্রাহিম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে। শনিবার সকাল পর্যন্ত তার জ্ঞান ফিরেনি।
এদিকে লাশ উদ্ধারের পর থেকে খামার মালিক সালাউদ্দিন ও তার পরিবারের অন্যা সদস্যরা পালিয়ে যাওয়ায় তাদের কারো বক্তব্য জানা যায়নি। দাগনভূঁঞা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান।
বিশেষ প্রতিবেদন