
রুদ্র মাসুদ-
ইলিশের ভরা মওসুম শুরু না হলেও নোয়াখালী উপকূলে রীতিমতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জলদসুদ্য মুন্সিয়া আর গেইস্যা বাহিনী। সঙ্গে আরো ছোট বড় ছয়টি গ্রুপ। জেলেদের হিসাবে গত এক মাসে হাতিয়ার মেঘনা থেকে ২৭টি ট্রলার অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। বেশিরভাগ ট্রলারই ছাড়িয়ে আনতে গুনতে হয়েছে ১৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। কাউকে আগাম চাঁদা দিয়ে টোকেন নিয়ে নদীতে নামতে হচ্ছে। আবার নদীতে টহলের নামে চাঁদাবাজির কথাও বলছেন আড়ত্দাররা। তবে; অপহরণ হওয়া কোন কোন ট্রলার ছাড়িয়ে আনতে পুলিশের সুপারিশ লাগলেও বেমালুম তা অস্বীকার করেছেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
ভরা মওসুম শুরু না হতেই দস্যুদের এমন উপদ্রবের কারণে পুলিশ এবং কোষ্টগার্ডের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমান সরকারের দেড় বছরে মেঘনায় দস্যুতা, ট্রলার লুটসহ কোন বিবরণ নেই হাতিয়া থানায়। এমনকি দস্যুদের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি কিংবা স্কেচও নেই থানায়। এসব বিষয় নিয়ে রীতিমতো আতংক বিরাজ করছে হাতিয়ার মত্স ব্যবসায়ী, ট্রলার মালিক, জেলে আর মাঝি মাল্লাদের মাঝে। অবস্থা এতই ভয়াবহ যে মুক্তিপন দিয়ে নৌকা ছাড়িয়ে আনা আড়তদাররা ভবিষ্যতে ঝামেলার আশংকায় পরিচয় জানাতে অপারগতা প্রকাশ করছেন।
মেঘনা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে জলদস্যু বাহিনী-
জেলে, মত্সজীবী সমিতি, আড়াতদার ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চারপাশের মেঘনা নদী এবং সংলগ্ন সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দোদন্ড প্রতাপশালী গিয়াস উদ্দিন ওরপে গেইস্যা বাহিনী এবং মুন্সিয়া চোরা বাহিনী। ছড়িয়ে ছিটিয়ে আরো আছে টিপু, সফিবাতাইন্যা (কালকিনি), গেসু ডাকাত, ঝাটকি বাবুল, রফিক ও সফিকের বাহিনীর মতো ছয় জলদস্যু বাহিনী। ইলিশ মওসুমে নদীতে নামার আগেই গত ৬জুন ভোরে র্যাবের ক্রসফায়ারে নোয়াখালী উপকূলের সর্ববৃহত দস্যু বাহিনীর প্রধান বাশার মাঝি নিহত হওয়ায় তার লোকজন অস্তিত্ব সংকটে পড়ে কিছুটা দিকভ্রান্ত।
সক্রিয় জলদস্যুগুলোর মাঝে হাতিয়ার উত্তর-পূর্ব পাশের জাহাজিয়ার চর, চর ইসলাম, ঠেঙারচর এবং কেরিংচর পর্যন্ত মেঘনায় একক আধিপত্য গিয়াস উদ্দিন ওরেপ গেইস্যা বাহিনীর। ইলিশ মওসুম শুরু হওয়ায় গত একমাসে এই এলাকা থেকে হাতিয়ার মূলভখন্ডের এবং বয়ারচরের চেয়ারম্যান ঘাটের আড়তের মোট ২৭টি নৌকা অপহরণ করে গেইস্যা বাহিনী। প্রথম দফায় ১৮টি পরে ৫টি এবং শেষে আরো ৪টি ট্রলার অপহরণ করে এই জলদস্যু। তন্মধ্যে হাতিয়ার মূলভুখন্ডের অপহৃত ট্রলারগুলোর কোন কোনটি ছেড়ে দিতে গেইস্যাকে নির্দেশ দেয় হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে একাধিক আড়তদার জানান, গেইস্যা বাহিনী ট্রলার নিয়ে যাবার পর জেলে ও মাঝি মাল্লাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করে। এ কারণেই ট্রলার ছাড়িয়ে আনতে হয় টাকা দিয়ে। প্রতিটি ট্রলার ছাড়িয়ে আনতে গুনতে হয়েছে ১৫ থেকে ৩৫ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে মধ্যস্থতা করেছেন চরবাটার আওয়ামীলীগ নেতা আলাউদ্দিন। এই আলাউদ্দিনই এখন গেইস্যার মূলশক্তি।
নৌকা ফেরত পাওয়া হাতিয়ার শাহজাহান মেম্বার জানান, কার কাছে অভিযোগ করবো, অভিযোগ করলে আরো বেশি ক্ষতি হবে। ওসি সাহেব বলার পরও ট্রলার ছাড়েনি গেইস্যা সমঝোতা করে নৌকা আনতে হয়েছে। টাকা কত দিয়েছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্মিত হাস্যে শুধু বললেন টাকা তো দিতে হয়েছে।
অপরদিকে হাতিয়ার দক্ষিণের জাহাজমারা, নিঝুম দ্বীপ ও আশপাশের এলাকা নিয়ন্ত্রন করে মুন্সিয়া বাহিনী। এ বাহিনী নদী থেকে ট্রলার অপহরণ না করলেও নদীতে নামতে টোকেন নেয়ার রীতি চালু করেছে। হাতিয়ার দক্ষিণে নদী ও সাগরে মাছ ধরতে হলে ট্রলার প্রতি ৪ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিয়ে টোকেন নিতে হচ্ছে। সমকালের সাথে আলাপচারিতায় একাধিক ট্রলার মালিক ও আড়তদার এ তথ্য জানালেও নদীতে থাকতে হলে তাদের (দস্যু) সাথে বিরোধ করে পারা যাবে না এই কথা বলে পরিচয় না লিখার অনুরোধ করেন বারবার।
দস্যুদের বাইরে নদীতে পাহারা দেয়ার নামেও মত্সজীবী সমিতি ও পুলিশে চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে। টহল বোটে খরছার নামে ট্রলার প্রতি ৪/৫ হাজার টাকা দিয়ে টোকেন নিতে চাপ দেয়া হচ্ছে জেলেদের। অথচ নদীতে ডাকাতি বন্ধ হচ্ছেনা এমন অভিযোগ জেলেদের।
এনিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হাতিয়া মত্সজীবী সমিতির সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় সভায় অনুমোদনক্রমেই এই বোট নামানো হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে টহল বোটটি ভাড়া আনা হয়েছে; যার জন্য মাসে গুনতে হয় ৪ লক্ষ টাকা। এ টাকা বোট মালিকরাই দিচ্ছে, এটি চাঁদাবাজি নয়।
ভরা মওসুমে আতংকিত ২০ হাজার জেলে এবং হুমকির মুখে শত কোটি টাকার ইলিশ বাণিজ্য-
হাতিয়া উপকূলের জেলেদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, আর মাত্র দু’একদিন পরই শুরু হবে ইলিশের ভরা মওসুম। প্রস্তুত হাতিয়াকে ঘিরে গড়ে ওঠা ৩০টিরও বেশি ছোট-বড় মাছ ঘাট থেকে নদীতে ছেড়ে যাওয়া ছোট-বড় আড়াই হাজার জেলে নৌকার ২০ হাজার মাঝি মাল্লা। প্রতি বছর এই ঘাটগুলো থেকে অন্তত শত কোটি টাকার ইলিশ সারাদেশে সরবরাহ হয় উল্লেখ করে আড়তদাররা বলেন, দস্যুদের বেপরোয়া আচরণে এখানকার ২০ হাজার জেলের মাঝে আতংক বিরাজ করছে। হাতিয়ার নৌকা ছাড়াও এখানকার ঘাটগুলোর আড়তে আসবে ভোলার দৌলত খাঁ, মনপুরা, লক্ষ্মীপুরের রামগতি, মুন্সিগঞ্জ, শ্রীপুর, ইলিশা, ফরিদপুর, শিবচর, ভাগ্যকূল, শরিয়তপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আরো কয়েক হাজার ইলিশ নৌকা ভীড় করবে।
বয়ারচরের চেয়ারম্যান ঘাটে শাহজাহান মাঝি, শহিদুল, খোরশেদ ও আবু মাঝি জানান, নদীতে এবছর এমনিতেই মাছ কম তারওপর বাহিনীর অত্যাচারের কারণে নদীতেই নামা যাচ্ছে না। ভরা মওসুম শুরু হলে কি হাবে তা সহজেই বুঝা যাচ্ছে।
হাতিয়া মত্স ব্যবসায়ী সমিতি লিঃ এর সাধারণ সম্পাদক আক্তার মিয়া নদীতে জলদস্যুদের হামলা ও ট্রলার অপহরণের কথা স্বীকার করে বলেন, থানায় জানিয়েও কোন লাভ হয় না। কারণ পুলিশ থাকে মেইন ল্যান্ডে আর দস্যুরা থাকে নদীতে। উপজেলা প্রশাসনকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।
এনিয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করলে হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন উর রশিদ নদীতে জলদস্যুদের ট্রলার অপহরণে বিষয়টি শুনেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি অবহিত হলেও কেউ সেভাবে জানায়নি। তবে কোষ্টগার্ড এবং পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিবে।
পুলিশ ও কোষ্টগার্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই-
নদীতে জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়টি কোষ্টগার্ডের দেখা কথা কিন্তু জলদস্যুরা রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করলেও তাদের তেমন কোন তত্পতার লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। জেলে এবং আড়তদারদের বক্তব্য হচ্ছে পুলিশকে অবহিত করে কোন লাভ তো হয়ই না বরং হয়রানী বেড়ে যায়। উপরন্তু পুলিশের বিরুদ্ধে জলদস্যুদের প্রশ্রয় দেয়ার অভিযোগও উঠেছে।
হাতিয়া মত্সজীবী সমিতির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, কোষ্টগার্ড তমরুদ্দী ঘাট থেকে নদীতে নামে। ভোলা এবং হাতিয়ার মধ্যে স্পীডবোটে তাদের যাতায়ত থাকলেও হাতিয়ার পুর্ব পাশ একেবারেই অরক্ষিত। তাছাড়া তাদের বড় কোট বোট নেই যে দস্যুদের মোকাবেলা করবে। বাংলাবাজার ঘাট, সূর্যমুখী ঘাট, বৌ বাজার, কাজির বাজারসহ আশপাশের ঘাট থেকে কয়েক’শ নৌকা প্রতিদিন মেঘনায় নামে মাছ ধরতে। দীর্ঘদিন ধরে সূর্যমুখী ঘাটে কোষ্টগার্ডের ক্যাম্প বসানোর দাবি করা হলেও তাতে কোন সাড়া মিলছে না।
এনিয়ে যোগাযোগ করা হলে হাতিয়া কোষ্টগার্ডের কন্টিজেন্স কমান্ডার জসিম উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাঁদের পর্যাপ্ত নৌযান ও লোকবল রয়েছে। সমস্যা হচ্ছে তাঁদেরকে না জানালে ব্যবস্থা নিবেন কি করে। গত বছরের ৫ মার্চ কোষ্টগার্ড নদী থেকে অপহৃত ৯টি ট্রলার এবং ২৮জন মাঝি-মাল্লাকে উদ্ধার করে এবং ২৯ সেপ্টেম্বর জালসহ ৭টি বোট উদ্ধার করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঘটনার পরপরই তাঁদেরকে জানালে তারা ব্যবস্থা নিতে পারেন।
এদিকে জলদস্যুদের সংক্রান্ত তথ্য জানতে শুক্রবার দুপুরে হাতিয়া থানায় যোগাযোগ করা হলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকা এসআই জামিল হোসেন জানান, ২০০৯ সাল এবং চলতি বছরের ছয় মাসে হাতিয়া থানায় দস্যুতা সংক্রান্ত কোন মামলা হয়নি। জলদস্যুদের কোন ছবি কিংবা স্কেচও নেই থানায়। তবে পুলিশ নিয়মিত নদীতে টহল দিচ্ছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
এমনকি গত ১৮ ও ১৯ মে দমার চর ও কালাম চরে মুন্সিয়া বাহিনীর সাথে ইব্রাহিম ও মাকছুদ বাহিনীর বন্দুক যুদ্ধে ১৭জন নিহত হওয়ার কথা গোটা হাতিয়া মানুষের মুষে মুখে রটলেও থানায় একটি হরফও লেখা নেই।
ক্রসফায়ার আর নিজেদের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে চার বাহিনী ধ্বংস-
গত এক বছরে হাতিয়ায় পুলিশ ও র্যাবের ক্রসফায়ারে এবং নিজেদের মধ্যে বন্দুক যুদ্ধে মারা গেছে চার জলদস্যু বাহিনী। এর মধ্যে গত ৬ জুন ভোরে র্যাবের ক্রসফায়ারে উপকূলের ‘বড়মিয়া’ খ্যত বাশার মাঝি মারা গেছে নাঙলিয়ার চরে। গত ১৮ ও ১৯ মে ভোরে হাতিয়ার সর্বদক্ষিনে কালাম চর ও দমার চরে জলদস্যু মুন্সিয়া বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধে হাতিয়া ইব্রাহিম ও স›দ্বীপের মাকছুদ ১৭জন সহযোগীসহ নিহত হয়। তখন মুন্সিয়ার পক্ষ নেয় গেইস্যা ডাকাত, ঝাটকি বাবুল, বাহার কেরানী, টিপু, সফিবাতাইন্যা (কালকিনি)।
২০০৮ সালের ১৮ আগষ্ট বয়ারচর-নলেরচরের মেঘনা মোহনায় মুন্সিয়া চোরা বাহিনীর সাথে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধে দুই পুলিশসহ ৫জন আহত হলেও পুলিশের চোঁখ ফাঁকি দিয়ে নদী থেকে পালিয়ে যায় মুন্সিয়া চোরা।
এর আগে গত বছরের ১৫ অক্টোবর ভোরে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর রাতেই কেরিংচরে পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হয় আরেক জলদস্যু কালা বাদশা।
নদীর ত্রাস গেইস্যা থাকেন জেলা শহরে-
অবিশ্বাস্য হলেও সত্য নদীতে ত্রাস সৃষ্টিকারী গিয়াস উদ্দিন ওরপে গেইস্যা ডাকাত পরিবার পরিজন নিয়ে থাকেন জেলা শহর মাইজদীতে। চরবাটার আলাউদ্দিনের সহায়তায় নদীতে জেলেদের ওপর নির্যাতনকারী এই জলদস্যুর জেলা শহরের অবস্থান জানতে শুক্রবার দিনভর ব্যাপক অনুসন্ধান চালিয়েও খোঁজ মিলেনি। জেলে, আড়াতদার এবং মাঝি মাল্লাদের মতো হাতিয়া থানা পুলিশের একটি সুত্রও বিষয়টি স্বীকার করেন।
দেড় বছরে পাঁচ ওসির বদলী-
হাতিয়ার মেঘনা নদীর পানির মতোই টলটলায়মান হাতিয়ার ওসিদের গদি। এখানকার জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংঘর্ষ-সংঘাত এবং নদীতে দস্যু নিয়ন্ত্রণ করতে বরাবরাই ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন এখানকার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। বর্তমান সরকারের সময়ে হাতিয়ায় গত দেড় বছরে ৫জন ওসির বদলির ঘটনা ঘটেছে।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যা বললেন-
অপহরণ হওয়া ট্রলার ফেরত দিলে জলদস্যুদের নির্দেশ দেয়া কিংবা জলদস্যুদের প্রশ্রয় দেয়ার বিষয়টি শুধু অস্বীকারই নয় কোন ট্রলার অহপরণের পর তা ছেড়ে দিতে গেইস্যা বাহিনীকে নির্দেশ দেননি বলেও জোর দাবি করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম। তাঁর মতে কেউ অভিযোগ দিলে তো ব্যবস্থা নিবো ? তাছাড়া ডিউটির বোট চালায় সমিতি পুলিশ এর সাথে সম্পৃক্ত নয়। তাছাড়া পুলিশের কোন নৌযানও নেই যে নদীতে টহল দিবে। ট্রলার ভাড়া করে না হয় সমিতির টহল বোটে করেই নদীতে নামতে হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এক অজানা আতংক-
নদীতে জলদস্যুদের ট্রলার অপহরণ ও মুক্তিপন আদায় সম্পর্কে কথা হয় হাফডজন ট্রলার মালিকের সাথে। সবাই ট্রলার অপহরণ, মুক্তিপন দেয়া এবং মধ্যস্তস্থতাকারী আওয়ামীলীগ নেতা আলাউদ্দিন ও জলদস্যুদের নিয়মনীতি সম্পর্কে জানালেও পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে বারবার মিনতি করেন যেনো তাদের নাম না ছাপা হয়। তাহলে ভবিষ্যতে নদীতে ব্যবসা করা কষ্ট কর হবে বলে সবাই আশংকা করেন।






