নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এমপি- সুস্থধারার রাজনীতির প্রতিষ্ঠার জন্য ঢাকসুসহ সারাদেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে
রুদ্র মাসুদ-
10আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং তথ্য মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছেন, ছাত্র রাজনীতিতে যে অসুস্থ ধারা চলছে তা অসুস্থ জাতীয় রাজনীতির পরিণতি। ছাত্র রাজনীতি জাতীয় রাজনীতির প্রজনন ক্ষেত্র, অথচ বছরের পর বছর ছাত্রসংসদগুলো নির্বাচন বন্ধ। সুস্থ প্রতিযোগীতা না থাকলে সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা হবে না। তাই ছাত্ররাজনীতিতে সুস্থ ধারা প্রতিষ্ঠার জন্য  ঢাকসুসহ সারাদেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দিতে হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় নোয়াখালী পৌর মিলনায়তনে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ছাত্রলীগ আওয়ামীলীগের চেয়েও পুরাতন সংগঠন। ছাত্রলীগের ভালো কাজের সুফল যেমন আওয়ামীলীগ ভোগ করে তেমনি মন্দ কাজের দায়ভারও আওয়ামীলীগের ওপর এসে পড়ে। ভালো কাজ করলে যেমন পুরস্কৃত হবে তেমননি মন্দকাজ করলেও শাস্তি ভোগ করতে হবে। তাই সাহস ও মেধার সমন্বয়ে নিয়মিত ছাত্রদের হাতে ছাত্রলীগের রাজনীতি তুলে দিতে হবে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামীলীগ কখনো বলেনি বেগম জিয়াকে তাঁর স্বামীর মতো করুণ পরিণতি বরণ করতে হবে। অথচ আজ বারবার বলা হচ্ছে শেখ হাসিনাকে তাঁর পিতার ভাগ্য বরণ করতে হবে। এটি অস্ত্রের ভাষা গণতন্ত্রের ভাষা নয়। এছাড়া হরতাল মানে কর্মনাশ, কর্মনাশ মানে সর্বনাশ। কোন হরতালই সরকারের পতন ঘটাতে পারেনি। এই সর্বনাশা রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, দেশ থেকে বেকারত্ম দূর করতে হলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশ থেকে জঙ্গিবাদ বিতাড়িত করতে হবে কারণ জঙ্গিবাদ অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে তরুণ ও বেকারদে প্রলুব্ধ করে। এই জঙ্গিবাদ রাজনীতিতে সর্বনাশ ডেকে আনবে।
গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি উপেক্ষা করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নোয়াখালী পৌর হল চত্বরে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইমন ভট্টের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সূবর্ণচর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিম, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার, সাবেক সহ-সভাপতি জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক এম এ মমিন পাটোয়ারী। । প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। আরো বক্তব্য রাখেন, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শিহাব উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক আমির হোসেন প্রমুখ। সম্মেলন পরিচালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক একরামুল হক বিপ্লব।
রাতে সার্কিট হাউজে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসে কমিটি নির্বাচন করে খামবন্দী করে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপির কাছে তা দিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, এবারের সম্মেলনে বয়সসীমা ২৯ বছর ধরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছ থেকে বায়েডাটা আহবান করায় সভাপতি পদে ২৬, সাধারণ সম্পাদক পদে ৭৮ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে ৫ প্রার্থী তাদের সার্টিফিকেটসহ বায়োডাটা জমা পড়ে।

চলতি সংবাদ