শেষ পর্যন্ত নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে সোনাগাজীর দক্ষিণ চর চান্দিয়ার ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রটি
10
ফেনী থেকে জুলহাস তালুকদার-
পানি উন্নয়ন বোর্ড উদ্যোগ না নেওয়ায় অবশেষে রোববার গভীর রাতে ফেনী নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায় দক্ষিন চর চান্দিয়া ঘূণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রটি। চরচান্দিয়ায় গিয়ে দেখা গেল, কবর ভেঙ্গে মানুষের কঙ্কাল নদী গর্ভে বিলিন হযে যাচ্ছে । মানুষ বাধ্য হয়ে নিজের দালানের বাড়ি ভেঙ্গে, নিয়ে যাচ্ছে দরজা-জানালা, খুল নিয়ে যাচ্ছে কাঁচা ঘর, কেটে নিযে যাচ্ছে গাছ পালা।
জানা যায়, ১৯৯৫ সালে কারিতাস ইতালিয়ানের অর্থায়নে ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ সাইক্লোন শেল্টার সেন্টারটি নির্মান করা হয়েছিলো। গেলো তিন বছরে চর চান্দিয়া, চর খোয়াজ,  চর খন্দকার ও জেলে পাড়ার প্রায় ৫০০ পরিবারের ঘর-বাড়ি, কবরস্থান, শশ্মান, ৫বর্গ কিলোমিটার আবাদি জমি এবং হিন্দু স¤প্রদায়ের একমাত্র উপসনালয় জয়কালি মন্দির নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব গৃহহীন মানুষ গুলো ঘর-বাড়ি এবং ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। বাঁকা নদী সোজা না করায় গত ১ বছরে ২৩৫ মিটার ভূমি বিলীন হয়ে গেছে। ৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে  এ নদী ভাঙতে ভাঙতে আজ ১৫ কিলো মিটার দৈর্ঘ্যের হয়ে গেছে।
সোনাগাজী বাসী ফেনী নদীর বাঁকা অংশ সোজা করে এ সাইক্লোন সেল্টার সেন্টারটি সহ চর চান্দিয়া গ্রামকে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য ইতোমধ্যে  লাগাতার আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছে। স্থানীয় এলাকাবাসী আবদুল গোরফান জানান, এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে নদী খনন আরম্ভ করলে পানি উন্নয়ন বোর্ড এর কর্মকর্তারা এসে তাদের বাধা দেয়, তারা ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী খনন করে দিবে বলে। বর্তমানে নদী গর্ভে বিলীনের অপেক্ষায় রয়েছে আল জামেয়াতুল ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা, হাজী জিন্নাত আলী জামে মসজিদ মসজিদ সহ দক্ষিন চরচান্দিয়া গ্রাম। সরকারের কাছে এলাকাবাসীর শুধু একটাই দাবী সরকার যেন বাঁকা নদী সোজা করে দেয়।
চলতি সংবাদ