ছাগলনাইয়া পুলিশি তল্লাশীর সময় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যুবতীর মৃত্যু
জুলহাস তালুকদার-
ছাগলনাইয়ার ঘোপাল ইউনিয়নের লাঙ্গলমোড়া গ্রামে শুক্রবার রাতে আসামী ধরতে পুলিশের তল্লাশীর সময় প্রতিপক্ষের হাতে মারধর ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় অপমানে ক্ষোভে পুলিশের উপস্থিতিতেই সাবিনা ইয়াছমিন স্বপ্না (২২) নামের এক যুবতী হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে।
জানা যায়, ওই গ্রামের খায়েজ আহাম্মদের পুত্র আহাম্মদ ছোবহান ড্রাইভারের সঙ্গে দীর্ঘদিন যাবত একই বাড়ির মৃত হাবিব উল্যাহর পুত্র আব্দুল কাদেরের জমি সংক্রান্ত দ্ব›দ্ব ও মামলা মোকদ্দমা চলে আসছিল। গত ২৪ আগষ্ট বিকালে আহাম্মদ ছোবাহান ড্রাইভার (৫৫), শাহাদাত হোসেন (২৮), শাহ নেওয়াজ (২৬), শাখাওয়াত (২২) ও খোকনের (৪৫) নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী পূর্ব পরিকল্পিত অতর্কিতভাবে লাঠি, লোহার রড, কিরিচসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আক্তার হোসেন (২৫), আব্দুল হক (৫০) ও আব্দুল কাদেরকে (৬২) মারাত্মক জখম করে। ঘটনারদিন রাতে জনতা সাখাওয়াত কে আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। এ ব্যাপারে আব্দূল কাদের বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় একটি মামলা করে। স¤প্রতি আহাম্মদ ছোবহান ড্রাইভার বাদী হয়ে ২৩ জন গ্রামবাসীকে আসামী করে ফেনীর আদালতে মারধর ও লুটতরাজের একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ছাগলনাইয়া থানার পিএসআই মনির ও এএসআই জামাল বাদী আহাম্মদ ছোবহান এর পুত্র এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী শাহাদাত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে আব্দুল হকের ঘরে তল্লাশী চালিয়ে আসামীদের না পেয়ে  তার মেয়ে স্বপ্নাকে নানা ভাবে হুমকি ধামকি দেয় এবং সন্ত্রাসী শাহাদাত তাকে চুল ধরে টানাহেঁচড়া করে ও মারধর করে বলে স্বপ্নার পরিবার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। মুহূর্তের মধ্যেই স্বপ্না হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ঘটনার পর শাহাদাত স্বপরিবারের পলাতক রয়েছে।
এ ব্যাপারে পিএসআই মনিরকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি স্বপ্নার ঘরে তল্লাশীর কথা স্বীকার করলেও তার উপস্থিতিতে মৃত্যুর ঘটনাটি অস্বীকার করেন। গত শনিবার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুুতি চলছিল।
বিশেষ প্রতিবেদন