
রুদ্র মাসুদ-
রোজার মাঝামাঝি ঢাকা গিয়ে ঈদের বাজার করেছিলাম। এখনো কিছু বাকী থাকায় এখান থেকে কিনতে এসেছি। এখন দেখি ঢাকা থেকে যা কিনেছি সবই এখনে আছে। আছে এবারের ঈদের সকল আকর্ষণীয় পোষাক। আমিশাপাড়া জাহান প্লাজায় ঈদের বাজার করতে এসে গড়গড় করেই কথাগুলো বললেন পারুল বেগম (৩৫)। আমিশাপাড়া ইউনিয়নের মানিক্য নগর গ্রামেরই এই গৃহবধু শুধু জামাকাপড়ই নয় ঈদের দিনে বিশেষ রান্নার জন্যও টুকিটাকি কেনাকাটা করেছেন। আর এসবই হয়েছে সৌদি আরব প্রবাসী স্বামীর পাঠানো টাকায়।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বিলেত খ্যত প্রবাসী অধ্যুষিত আমিশাপাড়া, দেউটি ও সোনাপুর এই তিন ইউনিয়নের কেন্দ্রে অবস্থিত আমিশাপাড়া বাজার। নোয়াখালী-কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কের বজরা দিঘীরজান বাস ষ্টপেজ থেকে ছয় কিলোমিটার পশ্চিমের এই বাজার গ্রামীণ বাজার হিসাবে বেশ বড়সড়ই । শুধু এই তিন ইউনিয়ন নয় আশপাশের গ্রামগুলোর উপার্জনক্ষম মানুষদের বেশিরভাগই আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। তাই এখানকার বেশিরভাগ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যায় নির্বাহ হয় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর।
গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই বাজারে ঘুরে দেখা গেছে বহুতল বিপনী বিতান, টিনসেড মার্কেট, ফ্যাশন হাউজগুলোর শো-রুম, মোবাইল ও জুয়েলারী দোকান, কসমেটিকস্, সেমাই চিনির দোকান, এমনকি ফুটপাতেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। বৃষ্টিতে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করলেও থেমে নেই কেনাকাটা। ক্রেতাদের মধ্যে আবার বেশিরভাগই নারী।
বাজারের কাপড় দোকান ও ফ্যাশন হাউজগুলোতে ঘুরে দেখা যায় এবারের আলোচিত ‘শাকিরা’ ও ‘অক্টোপাসে’র প্রতি আগ্রহ বেশি। বাচ্চাদের পোশাকও রয়েছে বাহারী সব ডিজাইন। শুধু ক্রেতারা ইচ্ছেমতো মার্কেটিং করছে তা নয়, বিক্রেতারাও যথেষ্ট খুশি। বাজারের মধ্য সড়কের (মাইজ বাজার) আনোয়ার ক্লথ ষ্টোরে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। বিক্রি কেমন জানতে চাইতে দোকানী সপ্রতিভ উত্তর ‘ভালো’। মুদি দোকান থেকে সেমাই কিনছিলেন আব্দুর রশিদ (৫৬)। জানালেন- সেমাই ছাড়া ঈদ আবার হয় না কি। কমমেটিক দোকানগুলোতে তরুণীরা ব্যস্ত পোষাকের সাথে মিল রেখে নানা কসমেটিক কিনতে।
দোকানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই বাজারে যে টাকা লেনদেন হয় তার প্রায় পুরোটাই রেমিটেন্সের। প্রবাসীদের পাঠানো টাকায়ই তাদের পরিবার পরিজন এখানে কেনাকাটা করে। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে অগ্রণী ব্যাংক আমিশাপাড়া শাখায় গিয়ে দেখা যায় গ্রাহকদের উপচে পড়া ভীড়। কারো ভাই, কারো সন্তান, কারো স্বামী, কারো পিতা বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েছে ঈদের খরছের জন্য, সেই টাকা তুলতে এই ভীড়।
বিহির গাঁও গ্রামের তরুন সাইফুল জানালেন তাঁর ভাই ইতালী প্রবাসী ঈদের খরছের জন্য টাকা পাঠিয়েছে সেই টাকা তুলতে এসেছেন। একই কথা জানালে বাজারের পার্শ্ববর্তী ভদ্রগাঁও গ্রামের আমির হোসেন। তাঁর ভাই টাকা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট থেকে। অগ্রণী ব্যাংকের শাখা ব্যাবস্থাপক সাইফ উদ্দিন জাানলেন, এখানে লেনদেনের ৮৮ ভাগই হয় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স এর। বাকী টাকা দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরতদের পাঠানো টাকা।
এবারের ঈদে আয়োজন ও বেচাকেনা সম্পর্কে জাহান প্লাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি নাসিম ফেরদৌস জানান, যেহেতু অত্র অঞ্চলের মানুষের আর্থিক খরছের মূল উৎস বিদেশ থেকে প্রেরিত অর্থ। তাই গ্রাহকদের চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে এবারের ঈদ মার্কেটের সেরা ‘শাকিরা’ ও ‘অক্টোপাসে’ সহ সবধরণের পোষাক এবং শাড়িও পাওয়া যাচ্ছে এখানে। দেশী-বিদেশী সকল পোষাক ও কসমেটিকস্ এখানে পাওয়া যায় আমিশাপাড়া বাজারে জেলা শহর মাইজদীসহ জেলা বিভিন্ন প্রান্ত থেকে থেকেও ক্রেতারা আসে মার্কেটিং করতে। এই বিপনী বিতানে ঈদ উপলক্ষে রয়েয়ে লাকী কুপনের ব্যবস্থাও।
রোজার মাঝামাঝি ঢাকা গিয়ে ঈদের বাজার করেছিলাম। এখনো কিছু বাকী থাকায় এখান থেকে কিনতে এসেছি। এখন দেখি ঢাকা থেকে যা কিনেছি সবই এখনে আছে। আছে এবারের ঈদের সকল আকর্ষণীয় পোষাক। আমিশাপাড়া জাহান প্লাজায় ঈদের বাজার করতে এসে গড়গড় করেই কথাগুলো বললেন পারুল বেগম (৩৫)। আমিশাপাড়া ইউনিয়নের মানিক্য নগর গ্রামেরই এই গৃহবধু শুধু জামাকাপড়ই নয় ঈদের দিনে বিশেষ রান্নার জন্যও টুকিটাকি কেনাকাটা করেছেন। আর এসবই হয়েছে সৌদি আরব প্রবাসী স্বামীর পাঠানো টাকায়।
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার বিলেত খ্যত প্রবাসী অধ্যুষিত আমিশাপাড়া, দেউটি ও সোনাপুর এই তিন ইউনিয়নের কেন্দ্রে অবস্থিত আমিশাপাড়া বাজার। নোয়াখালী-কুমিল্লা-ঢাকা মহাসড়কের বজরা দিঘীরজান বাস ষ্টপেজ থেকে ছয় কিলোমিটার পশ্চিমের এই বাজার গ্রামীণ বাজার হিসাবে বেশ বড়সড়ই । শুধু এই তিন ইউনিয়ন নয় আশপাশের গ্রামগুলোর উপার্জনক্ষম মানুষদের বেশিরভাগই আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত। তাই এখানকার বেশিরভাগ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যায় নির্বাহ হয় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর।
গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই বাজারে ঘুরে দেখা গেছে বহুতল বিপনী বিতান, টিনসেড মার্কেট, ফ্যাশন হাউজগুলোর শো-রুম, মোবাইল ও জুয়েলারী দোকান, কসমেটিকস্, সেমাই চিনির দোকান, এমনকি ফুটপাতেও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। বৃষ্টিতে কিছুটা বাধা সৃষ্টি করলেও থেমে নেই কেনাকাটা। ক্রেতাদের মধ্যে আবার বেশিরভাগই নারী।
বাজারের কাপড় দোকান ও ফ্যাশন হাউজগুলোতে ঘুরে দেখা যায় এবারের আলোচিত ‘শাকিরা’ ও ‘অক্টোপাসে’র প্রতি আগ্রহ বেশি। বাচ্চাদের পোশাকও রয়েছে বাহারী সব ডিজাইন। শুধু ক্রেতারা ইচ্ছেমতো মার্কেটিং করছে তা নয়, বিক্রেতারাও যথেষ্ট খুশি। বাজারের মধ্য সড়কের (মাইজ বাজার) আনোয়ার ক্লথ ষ্টোরে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড়। বিক্রি কেমন জানতে চাইতে দোকানী সপ্রতিভ উত্তর ‘ভালো’। মুদি দোকান থেকে সেমাই কিনছিলেন আব্দুর রশিদ (৫৬)। জানালেন- সেমাই ছাড়া ঈদ আবার হয় না কি। কমমেটিক দোকানগুলোতে তরুণীরা ব্যস্ত পোষাকের সাথে মিল রেখে নানা কসমেটিক কিনতে।
দোকানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই বাজারে যে টাকা লেনদেন হয় তার প্রায় পুরোটাই রেমিটেন্সের। প্রবাসীদের পাঠানো টাকায়ই তাদের পরিবার পরিজন এখানে কেনাকাটা করে। এ বিষয়ে খোঁজ নিতে অগ্রণী ব্যাংক আমিশাপাড়া শাখায় গিয়ে দেখা যায় গ্রাহকদের উপচে পড়া ভীড়। কারো ভাই, কারো সন্তান, কারো স্বামী, কারো পিতা বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েছে ঈদের খরছের জন্য, সেই টাকা তুলতে এই ভীড়।
বিহির গাঁও গ্রামের তরুন সাইফুল জানালেন তাঁর ভাই ইতালী প্রবাসী ঈদের খরছের জন্য টাকা পাঠিয়েছে সেই টাকা তুলতে এসেছেন। একই কথা জানালে বাজারের পার্শ্ববর্তী ভদ্রগাঁও গ্রামের আমির হোসেন। তাঁর ভাই টাকা পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট থেকে। অগ্রণী ব্যাংকের শাখা ব্যাবস্থাপক সাইফ উদ্দিন জাানলেন, এখানে লেনদেনের ৮৮ ভাগই হয় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স এর। বাকী টাকা দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসা ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরতদের পাঠানো টাকা।
এবারের ঈদে আয়োজন ও বেচাকেনা সম্পর্কে জাহান প্লাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতি নাসিম ফেরদৌস জানান, যেহেতু অত্র অঞ্চলের মানুষের আর্থিক খরছের মূল উৎস বিদেশ থেকে প্রেরিত অর্থ। তাই গ্রাহকদের চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখে এবারের ঈদ মার্কেটের সেরা ‘শাকিরা’ ও ‘অক্টোপাসে’ সহ সবধরণের পোষাক এবং শাড়িও পাওয়া যাচ্ছে এখানে। দেশী-বিদেশী সকল পোষাক ও কসমেটিকস্ এখানে পাওয়া যায় আমিশাপাড়া বাজারে জেলা শহর মাইজদীসহ জেলা বিভিন্ন প্রান্ত থেকে থেকেও ক্রেতারা আসে মার্কেটিং করতে। এই বিপনী বিতানে ঈদ উপলক্ষে রয়েয়ে লাকী কুপনের ব্যবস্থাও।






