সোনাইমুড়িতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ব্যাপক ভাংচুর, লুটপাট : লাঠিচার্জ, পুলিশের ফাঁকা গুলি বর্ষণ,আহত-১৫, আটক-১০
রুদ্র মাসুদ-
নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে বক্তব্য দেয়া নিয়ে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক ভাংচুর লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।  বুধবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত দুই ঘন্টাব্যাপী ছাত্রদলের ভুঁঞা ও সুয়া গ্রুপের মধ্যে এই  পাল্টপাল্টি হামলা ইটপাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫জন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সোনাইমুড়ি থানা পুলিশের সাথে পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। এসময বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন করে পুলিশ। রাত ৯টা পর্যন্ত আটক করা হয়ে ১০ জনকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে  বুধবার বিকালে সোনাইমুড়ি উপজেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শেষে সন্ধ্যার পূর্বমুহুর্তে সোনাইমুড়ি রেল গেইট চত্বরে সমাবেশ চলাকালে বক্তব্য দেয়া নিয়ে সোনাইমুড়ি উপজেলা ছাত্রদলের দুই যুগ্ম আহবায়ক সাহাব উদ্দিন (সুয়া গ্রুপ) ও মোস্তাফিজ (ভূঁঞা গ্রুপ) এর মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। সোনাইমুড়ি পৌর এলাকার ভানুয়াই গ্রামের এই দুই ছাত্রদল নেতার মধ্যে পরে মারামারির ঘটনা ঘটলে তাঁদের গ্রামের বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সন্ধ্যা ৬ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে পাল্টপাল্টি হামলা ইটপাটকেল ও কাঁচের বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় দুই পক্ষের জুয়েল(২০), শ্যামল (২২), রুবেল (১০), সাহাব উদ্দিন (২৮), ইসমাইল (২৭), হারুন (২৭), ছায়েদ (২৮), মিন্টু (১৮), খোকন (২৯), সুমন (২৪), মিলন (২৫) সহ অন্তত ১৫জন আহত হয়। এসময় সোনাইমুড়ি বাজারের পৌর কাউন্সিলর জাহিরুল হক ভূঁঞার দোকান, মনিরের ফল দোকান, ছামির ষ্টোর, শাহজাহানের ফাষ্ট ফুট, সোহাগের চা দোকান, ইউসুফ ষ্টোর, সালামের টিনের দোকান, ওমর ফারুক ষ্টোর, মোহনা পয়েন্ট, আলাউদ্দিন ষ্টোরসহ কমপক্ষে ২০টি দোকানে হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসময় সোনাইমুড়ি বাজারের সকল দোকানপাঠ বন্ধ হয়ে যায়। আতংকে ব্যবসায়ী ও পথচারীরা দিগি¦দিক ছুটোছুটি করতে থাকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে সোনাইমুড়ি থানা পুলিশ প্রথমে ব্যর্থ হলে পরে পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ফাঁকা গুলিও বর্ষন করে। একই সময়ে ১০জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এনিয়ে যোগাযোগ করা হলে সোনাইমুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির রাত ৯টায় বলেনা, এখন পরিস্থিতি শান্ত। ৯/১০জনকে আটক করা হয়েছে। এখনো হিসাব করা হয়নি তবে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন করতে হয়েছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে গিয়ে।
রাজনৈতিক সংবাদ