৫০ একর ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় : রায়পুরে কৃষকদের মাটি বিক্রি করে পকেট ভারি করছে দস্যুরা
আতোয়ার রহমান মনির, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) থেকে:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ২নং চরবংশী ইউনিয়নের গোলগোলা এলাকার অন্তত ২০ কৃষকের ফসলি জমির মাটি ক্ষমতাসীন দলের কয়েক দস্যু কেটে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৫ দিন ধরে দস্যুরা প্রায় ৫০ একর জমিতে ফলানো সয়াবিন ও সরিষা ক্ষেতের উপরি ভাগের মাটি বিক্রি করে দিয়েছে। এতে তারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে পকেট ভারি করছে। ক্ষেতের এ মাটি নদী পথ দিয়ে জাহাজযোগে উপকূলের বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে। মাটি কাটতে বাধা দিতে গিয়ে ২ কৃষক লাঞ্চিত হয়েছেন।
এদিকে ফসলি জমির উপরি অংশের মাটি কেটে নেয়ায় উর্বর শক্তি হ্রাস পাওয়ার কারনে ভবিষ্যতে ফসল উৎপাদনে ব্যাহত হওয়ার আশংকা করছেন কৃষকরা। বিষয়টি রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অবগত করেও কোন সুফল পাওয়া যায়নি। এনিয়ে কৃষক ও স্থানীয় লোকজনের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
সরেজমিন গোলগোলা গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মেঘনা নদী উপকূল গোলগোলা ও আশপাশ এলাকায় শতাধিক একর ভূমি রয়েছে। এ ভূমিতে প্রতি মৌসুমে সয়াবিন ও সরিষাসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদন হয়। গত ২ মাস আগ থেকে এ ভূমি স্থানীয় দস্যু বলে খ্যাত জয়নাল আবেদিন ওরফে ছোট হাজারী ও তার সহযোগিদের কুনজরে পড়ে। সবশেষ ১৫ দিন আগ থেকে ছোট হাজার ও তার লোকজন তাদের কাছে নাম মাত্র মূল্যে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তারা কৃষকদের ক্ষেতে থাকা কৃষকদের ফসলসহ মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। ৬০-৭০ জন শ্রমিক দিয়ে তার এ মাটি কেটে রাতদিন জাহাজ যোগে অন্যত্র সরিয়ে বিক্রি করে দিচ্ছে। প্রতি জাহাজ মাটি ৪ থেকে ৬ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হয়। ইতিমধ্যে চর আবাবিল ইউনিয়নের কৃষক মকরোম পাটওয়ারী, মোঃ ছাত্তার মিয়া, সিদ্দিক পাটওয়ারী, নুর ইসলাম মিয়া, আবদুর রব, মোস্তফা, ইমাম হোসেন, শাহআলম রাড়ি, শামছুল হক, চরবংশী গ্রামের দুদু মিয়া, আলাউদ্দিন ছৈয়াল ও হেজু বেপারীসহ ২০ কৃষকের মাটি কেটে নিয়ে গেছে।
কৃষক হেজু বেপারী সাংবাদিকদের জানায়, স্থানীয় সন্ত্রাসী জয়নাল, হানিফ মুন্সি ও তাদের সহযোগিরা তার দুইটি ফসলের ক্ষেতের মাটি কেটে বিক্রি করে দিয়েছে। বাধা দিতে গেলে তাকে হুমকি দেয়া হয়। এছাড়াও তারা ভয় দেখিয়ে আরো ২০ থেকে ২৫ জন কৃষকের ক্ষেতের মাটি নিয়ে গেছে। একই কথা জানালেন আরেক কৃষক আজগর।
অভিযুক্ত জয়নাল আবেদিন ওরফে ছোট হাজারীর সাথে মোবাইল ফোনে বক্তব্য জানার জন্য কথা হলে তিনি বলেন, ‘মাটি কাটার কারনে কিছু লোকেরতো কাজ হচ্ছে। আমি সবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই কাজ করছি। জোরপূর্বক কিছুই হচ্ছেনা’।
২নং চরবংশী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খালেদ দেওয়ান বলেন, কৃষকদের মাটি বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি ইউএনও  আমাকে জানিয়েছেন। এনিয়ে আমি এক শালিসি বৈঠকে জয়নালকে মাটি কাটা বন্ধ করতে বলেছি। কৃষকদের ক্ষতিপূরন বাবদ কিছু টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র দাসের মোবাইল ফোনে বুধবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।