নোয়াখালীর পরকল্পিত উন্নয়ন ,সরকারের করণীয়
-বিজন সেন-
স্বাধীনতার ৪০ বছর পূর্ওির বর্ষে মহাজোট সরকারের ২ বছর মেয়াদ শেষ হয়ে তৃতীয় বর্ষে পদার্পন করেছে। জাতীয় ভাবে সুশিল সমাজ ও বুদ্ধিজীবিরা অতিক্রান্ত সময়ের মূল্যায়ন করেছে নানাহভাবে।স্থানীয় ভাবে মূল্যায়ন করছে জনগন। বিশেষ করে  আইন শৃঙ্খলা, বেকারত্ব নিরসন,জনগনের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন,মানুষের কর্ম সৃষ্ঠির প্রয়াস, স্থানীয় উন্নয়নের যোগান বৃদ্ধিকরা, সামাজিক ন্যায় বিচার, ইত্যাদি বিষয় গুলোতে জনপ্রতিনিধিদের কমিটমেন্ট পুরনে হিসেব কষা হচ্ছে।সব কিছুর বাইরে রাজনৈতিক সৌহার্দ, অসুস্থ রাজনৈতিক ধারার পরির্তন কতটুকু হয়েছে তা ও বিবেচনা করছে নতুন প্রজম্মের তরুণ তরুণীরা।
নোয়াখালী জেলার ৬ টি সংসদীয় আসনের মধ্যে নোয়াখালী -৪ ও নোয়াখালী -৫ মর্যাদার আসন দুটি আওয়ামীলীগের দখলে। বাকী ৪টির মধ্যে নোয়াখালী -৬ (হাতিয়া)'র আসনটি স্বতন্ত্র প্রার্থী ও অন্য ৩টি আসন বিএনপির দখলে। জেলার সংসদীয় আসনের এই ব্যলেন্স জেলার উন্নয়নে কতটুকু কাজে আসছে তার মূল্যায়ন করছে স্থানীয় জনগন। নোয়াখালীতে বিগত সময়ে  কয়েক সেশনে জাতীয় সংসদের ৫টি করে সংসদীয় আসন দখলে নিয়ে বিএনপি দীর্ঘমেয়াদী কোন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন করেনি।   এর অন্যতম কারণ হিসেবে জনগন মনে করে স্থানীয় বিএনপির দলীয় কোন্দল, অনেকাংশে ব্যক্তিগত স্বার্থ ও কেবলমাত্র এলাকা ভিত্তিক ছোট ছোট উন্নয়ন চিন্তা।  অথচ সামগ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হলে জেলার অর্থনৈতিক সম্বৃদ্ধির আরো বিকাশ ঘটতো।
মহাজোট সরকারের দু’বছরে এই দৃশ্যপটের পরিবর্তন চোখে পড়েনি। জেলা সদরে দলের জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক একরাম চৌধুরী ও কোম্পানীগজ্ঞ আসনে আওয়ামীলীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য ওবায়দুল কাদের এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর জেলার জনগন স্বাভাবিক  কারনে জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখেছিল। জেলা থেকে মহাজোট সরকারের ট্যকনোক্রেট কোটায় প্রতি মন্ত্রী হয়েছেন ডঃ শিরিন শারমিন চৌধুরী । মহাজোটের সংরক্ষিত মহিলা আসনে কবি রুবি রহমান ও দলের ত্যাগী নেত্রী ফরিদাখানম লাকীকে এমপি নির্বাচিত করা হয়েছে।  
জেলার সার্বিক অবকাঠামো গত উন্নয়ন নিয়ে তাদের মধ্যে একটা পরিকল্পিত উন্নয়ন ভাবনা সময়ের দাবী  অথচ দুখঃজনক হলেও সত্য যে,পরিস্থিতি আগের অবস্থানেই থেকে গেছে। এ’থেকে উত্তরন না করাগেলে বিশাল সম্ভাবনাময় নোয়াখালীর উন্নয়ন ও সম্বৃদ্ধি হবেনা বলে জনগন মনে করে।তবে একথা সত্য    যে, বিগত দু বছরে মহাজোট সরকারের সফলতার দিক ছিল জেলাকে প্রথম শ্রেনীর মর্যাদা প্রদান, প্রাকৃতিক সম্পদ উওোলনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন এবং কোম্পানীগজ্ঞে পেট্রোবাংলার বাপেক্স কর্তৃক খনন কাজ শূরু করা, কোম্পানীগজ্ঞ-সন্দীপ ক্রসড্যাম নির্মানের কাজ শুরুকরা। এছাড়া কৃষিতে অগ্রগতি, বেকারদের চাকুরি প্রদান, যোগাযোগ ব্যবস্থার অগ্রসরমান কর্মসূচী বাস্তবায়ন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক রাখা। সন্ত্রাস চাঁদাবাজি মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে রাখা, উপকূলীয় অঞ্চলের যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে পরিকল্পিত কর্মসূচী গ্রহন ও বাস্তবায়ন শুরু করা। এর পেছনে সবচাইতে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রেখেছেন ওবায়দুল কাদের ও একরামুল করিম চৌধুরী এমপি।অন্যরা বিষয়গুলো নিয়ে খুব একটা ভাবেন বলে মনে হয়না।
নোয়াখালী কে নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আগামীর যে সম্ভাবনা দেখছে,তাকে কর্মযজ্ঞে আনতে হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্বোগী হয়ে এর জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার নজরে নিতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে নাড়া দিতে হবে।  নোয়াখালীর দক্ষিণ অঞ্চলকে আন্তঃ জেলা নেট ওয়ার্কের আওতায় আনা। সমুদ্র বন্দর নির্মান, হাতিয়ার চেয়ারম্যন ঘাট পর্যন্ত রেলপথ স্থাপন, পণ্যমূল্য কমানোর স্বার্থে জলপথে যোগাযোগের নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করা, প্রতিবছর নদী থেকে জেগে ওঠা বিপুল পরিমান জমিকে বনায়নের আওতায় এনে এর স্থায়িত্ব ও চাষাবাদ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য উপযোগীর্ ক্ষার উদ্যোগ গ্রহন, জেলার প্রবাসে কর্মরত প্রবাসীদের দেশে পাঠানো  রেমিটেন্স সঠিক ভাবে কাজে লাগানো, কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধিতে দক্ষিনের হাজার হাজার একর জমিকে চাষাবাদের আওতায় আনা, খাস জমিগুলোকে বিভিন্ন মূখী ব্যবহার, উপকূলের ১৫ লাখ জনগোষ্ঠিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করে জলবায়ূ পরিবর্তনের কারনে ঝুঁকি কমিয়ে আনার জন্য অবকাঠামো তৈরী করা ,পশু সম্পদ উন্নয়ন, মৎস প্রকল্প , কৃষি জাত পণ্য ভিত্তিক বাজার ব্যব্স্থা নিশ্চিত করা ও কৃষি ভিত্তিক শিল্প কারখান গড়ে তোলা, স্থানীয় ভাবে বীজ সংরক্ষন করা,জৈবসার,বর্জ্য থেকে তৈরী সার ব্যবহারের বিষযে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা, কৃষিতে প্রশিক্ষিত শ্রমিক যোগানের ব্যবস্থা করা, কৃষি গবেষনাগার স্থাপন করা, ভূ-উপরিভাগের পানি সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা, জমির লবনাক্ততা দুরীকরণ ও লবন সহিষ্নু ফসল উৎপাদন করার ব্যবস্থা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা,কৃষি, মৎস,পশু সম্পদ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে বেসরকারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষন ও সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করা গেলে দেশের বিশাল অর্থনৈতিক কর্মজজ্ঞের কেন্দ্রবিন্দু হবে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চল। এ’ছাড়া ও নিঝুম দ্বীপকে ঘিরে আশপাশে ও চরাঞ্চলে প্রকৃতিক সৌন্দর্য্য সৃষ্ঠিকরে পর্যটন সম্ভাবনা কে কাজে লাগানো যেতে পারে।
নোয়াখালীর সম্ভাবনার নবদিগন্তে যুক্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস, কোম্পানীগজ্ঞের সিরাজপুর ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে ইতিমধ্যে কূপ খনন শুরু হয়েছে,সমুদ্র বক্ষে তেল গ্যস অনুসন্ধানের প্রকৃয়া ও চলছে, নদী ভাঙ্গনের কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সন্দীপ- কোম্পানীগজ্ঞ ক্রসড্যম নির্মিত হবে এ বছর, এতে করে নদী থেকে ভূমিউদ্ধার হবে ৪০ হাজার হেক্টর, যোগা যোগের জন্য এনে দেবে নতুন দিগন্ত।
এ বিষয়গুলো নিশ্চিত করতে হবে  শেখ হাসিনার সরকার কে । কেবলমাত্র অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত এবং কৃষিপন্য সংরক্ষণ ও বাজারজাত করণের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক বেসরকারী উদ্যোগক্তা এখানে নানামুখী কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হবে বলে বিশেষজ্ঞ মহল নিশ্চিত করেছে।
জেলার উন্নয়নে আগামীর ভাবনা হবে প্রাকৃতিক গ্যাস থেকে স্থানীয় ভাবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, গ্যাস ভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়েতোলা, সর্বোপরি শষ্য উৎপাদন বৃদ্ধিকরা। চলতি বছরে কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার চাইতে ২৬ হাজার মেঃটন আমন উৎপাদন বেড়েছে। কৃষক যেখানে আধুনিক কৃষির প্রযুক্তি পেয়েছে, সেখানে নতুন কৃষির দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। সবজি ও মৎস চাষের আওতা বেড়েছে।  পশু সম্পদ উন্নয়নে জরুরী ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। বেসরকারী দুগ্ধ খামার গুলোর দুধ বাজার জাতের প্রতিবন্ধকতা দূরকরা গেলে মিল্ক ভিটার মত দুগ্ধ প্রকল্প ও সমবায় সংগঠন গড়ে তোলা সম্ভব। ভাবনায় আনতে হবে বিশাল বিশাল  অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা  মৎস প্রকল্প গুলোকে বিশেষ ব্যবস্থায় লিজ পদ্বতির মাধ্যমে কার্যকরী ও উৎপাদনমুখী করা। যাতে অসংখ্য ভূমিহীন পরিবার সেখানে কাজের নিশ্চয়তা পায় তার ব্যবস্থা ও করতে হবে।সার্বিক পরিকল্পনায় যুক্ত করতে হবে বিদ্যুৎব্যবস্থার নিশ্চয়তা।
একটি বিষয় রাষ্ট্র ব্যবস্থার নজরে আনতে হবে, তা হলো নোয়াখালীর কৃষি ভিত্তিক উন্নয়ন ভাবনা দেশের কল্যানে সুদুর প্রসারি ভূমিকা রাখতে সক্ষম। এজন্য প্রকৃতিক বিপর্যয় রোধে জানমাল রক্ষাকরার জন্য প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা, খাস জমির পরিকল্পিত ও সর্বোচ্চ ব্যবহার করা। বিষয় গুলো নিশ্চিত করতে জেলার   সরকারি ও বিরোধী দলের নেতাদের  যুথবদ্ধ প্রয়াস খুবই জরুরী। যা হবে দেশের সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে।

বিজন সেন।
জেলার সিনিয়র সংবাদ কর্মী ।
প্রতিনিধি, ভোরের কাগজ ও চ্যানেল আই।
01711-181245