ফেনী থেকে জুলহাস তালুকদার-সুরক্ষিত ঢাকা সেনানীবাসের ১২/সি রজনীগন্ধার এক কর্মকর্তার বাসায় নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি দশ বছর বয়সি শিশু গৃহকর্মী হাসিনা। সেখানে লোমহর্ষক নির্যাতনের শিকার হয়ে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি হলে মেজর আকতার শাহেদের স্ত্রী নুসরাত জাহান নিপার লোমহর্ষক নির্যাতনের চিত্র বিভিন্ন জাতিয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ হয়। ফলে শিশু গৃহকর্মী হাছিনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার নিপার মা খোশনাহার বেগম ফেনীর মিডিয়া কর্মী ও পুলিশ প্রশাসন, হাসপাতালের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে অঙ্গীকার দিয়ে দুপুরে ঢাকা সি এম এইচ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
গত ১১ এপ্রিল ফেনী পৌর মেয়র নিজাম উদ্দিন হাজারীর উপস্থিতিতে মেজর আকতার শাহেদ ১ লাখ টাকা ক্ষতি পূরণ, উন্নত চিকিৎসার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এবং গৃহকর্মী হাসিনার আরেক বোন চট্রগ্রামে নিপার মা খোশনাহার বেগম এর বাসায় কর্মরত মনিকে ফেনী মডেল থানার মাধ্যমে বুধবার সকাল ১০ টার আগে মনির পরিকারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার অংগীকার করেন ।
গত ২৭ মার্চ থেকে ফেনী সদর হাসপাতালের এক নম্বর ওর্য়াডের ১২ নম্বর বেড়ে হাসিনার কঙ্কালসার দেহ পড়ে থাকে । যন্ত্রনা আর নির্যাতনের বিভীষিকা তাকে কাবু করে রেখেছে। শনিবার তাকে জিজ্ঞাসা করতেই অকপটে সে বলতে থাকে নির্যাতনের কথা। কুরআন মাথায় প্রতিজ্ঞার ভয়ে গত তের দিন হাসিনা নির্যাতনের কথা মুখে আনেনি।
হাসিনা জানায়, সে ঢাকা সেনানিবাসের মেজর আক্তার, ডাক নাম শিবলুর বাসার গৃহকর্মী ছিল। মেজরের মেয়ের নাম তিমসাল ছেলের নাম তিবিয়াল এবং স্ত্রীর নাম নুসরাত জাহান নিপা। ঠিকানা বলতে পারেনা। সেখানে মেজরের স্ত্রী নিপার অনবরত বেত্রাঘাতের ফলে হাসিনার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পচন ধরেছে। ক্ষত জায়গায় পচন ধরলে হাসিনাকে ঢাকায় তার আরেক গৃহকর্মী বোনের মালিকের বাসার সামনে গত ২৬ মার্চ রাতে নিপা গাড়ী দিয়ে ফেলে যায়। সকালে বাসার মালিক হাসিনাকে চিনতে পেরে বাসায় নিয়ে যায়। পরে তারা ভাইকে ঢেকে হাসিনাকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।
হাসিনার ভাই ইটভাটার শ্রমিক ইউসুফ বৈবাহিক সূত্রে ফেনীর বক্তার মুন্সী এলাকায় বসবাস করে। সে সুবাদে হাসিনাকে ফেনী সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
হাসিনা জানায়, নিপা তাকে নির্যাতনের সময় চোখে মরিচ লাগিয়ে দিত। কখনও কখনও বেত্রাঘাতে সময় বলতো সে মেজরের স্ত্রী তাকে মেরে ফেললেও কেউ কিছু করতে পারবেনা। না খেয়ে অনেক রাত বাসার বাইরে বারান্দায় কেটেছে হাসিন। সকালে মেজর আক্তার নাস্তা করে আর্মির পোষাকে বের হয়ে যেত। এর পরই কাজের খুঁত ধরেই চলতো নির্যাতন। চিৎকার করলে মুখে কাপড় গুজে দিত। নিপা বলতো ’তোর চিৎকার না শুনলে আমার ভলো লাগেনা।’ হাসিনা জানায়, তার সমবয়সি ওই মেজরের বাসায় শারমিন নামের আরেকটি গৃহকর্মী আছে। তাকেও নিপা একই ভাবে নির্যতিন চালাচ্ছে। তার কেমন লাগার উত্তরে হাসিনার কথা “জানড়া বাইর হই যায়”।
হাসিনার আরেক বোন নিপার বাবার বাসায় থাকে। সেই বাসা চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজের বিপরীতে ফেয়ার হেলথ্ ক্লিনিকের তিন তলায়। ক্লিনিক ও বাসার মালিক নিপার বাবা মোশাররফ হোসেন ও মা বালি আক্তার নূর নাহার। মুমূর্ষু অবস্থায়ও তার আশংকা ঘটনাটি মিডিয়াতে প্রচার করা হলে তার সেই বোনকে মেরে গুম করা হবে। হাসিনা সেই বোনকে উদ্ধারের সহায়তা চায়।
ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎক হাসিনা আক্তার জানিয়েছেন পচন সারতে সময় লাগবে। বিষয়টি ফেনীর পুলিশ সুপার ইমাম হোসেন জানালে, হাসিনাকে হাসপাতালে দেখতে এসে তিনি নিজেই মনে করেন এমন নির্যাতন মানব সভ্যতার জন্য কলঙ্ক। পুলিশ সুপার ভিকটিমকে আইনী সহায়তার আশ্বাস দেন। এদিকে তার পাশে থাকা ছোট বোনের যন্ত্রণায় কাতর বড় দুই বোন নাজমা ও নাসিমা এর বিচার চায়।
এখন সবার একটাই প্রশ্ন সুরক্ষিত আবাস পর্যন্ত আইনের হাত পৌঁছাবে তো ? নাকি নিপার খুঁটির জোরে আইনও হাত গুঁটিয়ে নিবে।






