লক্ষ্মীপুর- ৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে চার হেভিওয়েট প্রার্থীর প্রেষ্টিজ ইস্যুতে জমে উঠেছে লড়াই

লক্ষ্মীপুর- ৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে চার হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াই জমে উঠেছে

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি- লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনে ভোটযুদ্ধে শেষ বিজয়ের টার্গেট করে বিএনপি, আওয়ামীলীগ, জাসদ, বিকল্পধারা প্রার্থীরা গণসংযোগ শুরু করেছেন। নির্বাচন দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই প্রার্থীরা মরিয়া হয়ে মাঠে-ময়দানে বেশি তৎপর হয়ে পড়ছেন। এ আসনে প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এবং সদ্য সাবেক সাংসদ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, আওয়ামীলীগের প্রার্থী এবং সাবেক সাংসদ সুপ্রীমকোর্ট সিনিয়র আইনজীবি অ্যাডভোকেট আবদুর রব চৌধুরী, জাতীয় সমাজতান্ত্রীক দল (জেএসডি)’র সভাপতি এবং সাবেক মন্ত্রী আ স ম আবদুর রব, বিকল্প ধারা’র মহাসচিব মেজর(অব)আবদুল মান্নান। এছাড়া আরও দু’জন প্রার্থী জাপা (মন্জু) আবদু রাজ্জাক চৌধূরী ও ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ রয়েছেন। তবে এ দু’জনের তেমন কোন প্রচার- প্রচারণা নেই। মূল প্রতিদ্বন্ধিতাকারী ৪ জন আশরাফ উদ্দিন নিজান, অ্যাডভোকেট আবদুর রব চৌধুরী, আসম আবদুর রব এবং মেজর (অব) আবদুল মান্নানকে নিয়েই সর্বমহলে সব জল্পনা-কল্পনা চলছে। এ ৪ জনের সকলেই ইতিমধ্যে নির্বাচিত হয়ে এমপি,মন্ত্রী ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতাও হয়েছিলেন। গত ২০০১ সনের নির্বাচনে আশরাফ উদ্দিন নিজান বিএনপি তথা চার দলীয় প্রার্থী হয়ে নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার প্রাপ্তভোট ছিল ৪৫ হাজার ৯৭৭। এর মধ্যে কমলনগর থেকে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের তুলনায় আশরাফ উদ্দিন নিজান দ্বিগুণ ভোট পান। তাই ২৯ তারিখের নির্বাচনেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় সভা-সমাবেশ করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি । অপরদিকে সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আবদুর রব চৌধুরী বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে সরে এসে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করেন। তিনি পেয়েছিলেন ৩৮ হাজার ৪৬৪ ভোট। আর জাসদ প্রার্থী আ স ম আবদুর রব পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৪৫৩ ভোট। তাই ওই নির্বাচনে বিএনপি, জাসদ ও আওমীলীগের মধ্যে হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হয় । গত নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে তাই এবার অনেকটা আগে আগেই আ স ম আবদুর রব ও আবদুর রব চৌধুরী মাঠে নেমে পড়েছেন। তারা দু’জন বিগত নির্বাচনের ফলাফল ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। আ স ম আবদুর রব স্বয়ং নিজেই বিভিন্ন ইউনিয়নের তৃণমূল পর্যায়ের তার সমর্থিত ও দীর্ঘদিনের উপেক্ষিত দলীয় নেতাকর্মীদের কালেক্ট করে পূণঃ সংগঠিত করছেন। আবদুর রব চৌধুরীও একই কায়দায় মাঠ পর্যায়ে তার ব্যক্তি ইমেজ ও দলীয় ভিতকে পুঁজি করে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। আশরাফ উদ্দিন নিজানও বসে নেই। জোটের অন্যতম শরিক দল জামায়াতকে সাথে নিয়ে ব্যাপক প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। জামায়াত সমর্থিত বিপুল পরিমাণ ভোটকে তার নির্বাচন পরিচালক সূত্র তার পক্ষে এক্সট্রা পুজিঁ বলে মনে করছেন। অন্যদিকে এবার এ আসনে যুক্ত হওয়া বিকল্প ধারার প্রার্থী মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নানও তৎপর রয়েছেন। তিনি এ আসনে নির্বাচন করবেন এ প্রত্যাশায় গত ২ বছর ধরে এলাকায় গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠা, শীতার্ত মানুষকে শীতবস্ত্র বিতরণ, নদী ভাঙন রোধের চেষ্টাসহ বিভিন্ন কর্মতৎপরতা চালিয়ে আসছিলেন । এছাড়া বিভিন্ন দলছুট ও কতিপয় অভিযুক্ত সুবিধাবাদী দিয়ে তার দলীয় কর্মকান্ড পচিালনার কারণে সাধারণ জনমনে তার ব্যক্তি ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ছে। ওইসব সুবিধাবাদী নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মেজর মান্নান কর্তৃক দেয় ত্রাণের টাকা ও শাড়ী আতœসাতেরও অভিযোগ উঠেছে। তাই ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি, জাসদ ও আওয়ামীলীগের মধ্যে ত্রিমুখী হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হলেও এবারের নির্বাচনে এ আসনে বিকল্প ধারার প্রার্থী মেজর মান্নান যোগ হওয়ায় চতুর্মুখী হাড্ডা হাড্ডি লড়াই হবে এমনটি ভাবছেন এ এলাকার সাধারণ ভোটাররা। এখানে তাই ৩ হেভিওয়েট প্রার্থীর ক্ষেত্রে তাদের প্রেষ্টিজ ইস্যু বলে মনে করছেন ভোটাররা। তাদের মর্যাদার লড়াই বেশ জমে উঠেছে। এদিকে কমলনগর ও রামগতির বিশাল এলাকা জুড়ে চলছে মেঘনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনলীলা। চলতি শীত মৌসুমেও মেঘনা ভাঙছে। তাই নদী তীবর্তী মানুষের কাছে ভোটের তেমন আমেজ নেই। কালকিনি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বাসার জানান,নদী আমাদের সবকিছু নিয়ে যাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও ঐতিহ্যবাহী সাহেবের হাটের কয়েকটি দোকান ঘর ভেঙ্গে গেছে । তাই এ এলাকার মানুষের একটাই দাবি, নদী ভাঙনরোধে কার্যকর কিছু করুন। কমলনগর ও রামগতিবাসী এখন প্রার্থীদের কাছে নদী ভাঙন ইস্যুতে সু-ষ্পষ্ট প্রতিশ্র“তি চাচ্ছেন।

রাজনৈতিক সংবাদ