বিশেষ প্রতিনিধি- দলবদলে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মন্ডলির সদস্য ভূমি মন্ত্রনালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান সাবেক মন্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মাহবুবুর রহমান। তাঁর জাতীয় পার্টিতে ফিরে যাওয়ার নিয়ে দিনভর চাটখিলে চলে সরব আলোচনা। চারদলীয় জোট থেকে মনোনয়ন না পেয়ে পুনরায় জাপায় ফিরে যাওয়া সম্পর্কে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের একটাই মন্তব্য ‘তাঁর পক্ষে সবকিছুই সম্ভব’। বাংলাদেশে ক্ষমতালোভী ও সুবিধাবাদী রাজনীতির মডেল হয়ে থাকবেন মাহবুবুর রহমান এমন মন্তব্য অনেকেরই। অন্যদিকে মাহবুবুর রহমান বলছেন, বিএনপির তাকে মূল্যায়ন করেনি। বিএনপির মাধ্যমে রাজনীতি কিংবা দেশ সেবার সুযোগ না থাকায় পুরোনো দল জাতীয় পার্টিতে ফিরে গেছেন মাত্র। দল বদল করেননি। এদিকে এরশাদের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে মাহবুবুর রহমানের জাতীয় পার্টিতে যোগদানকে ঘিরে রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ ভোটার সবার একই কথা ‘এটি নতুন কিছু নয়। নোয়াখালী-১ আসনের নির্বাচন স্থগিত হওয়ার পূর্বেই মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। চাটখিল বাজারের ক্ষুদ্র দোকানী আবুল কাসেমের মতে, সবকিছুরই একটা শেষ থাকা উচিৎ। জীবনের শেষ বয়সে মাহবুবুর রহমান যা দেখালেন তা বাংলাদেশের রাজনীতিকে কলুষিত করবে। চাটখিল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ চৌধুরীর মতে, ওনার (মাহবুব) পক্ষে দলবদল অসম্ভব কিছু নয়। ক্ষমতার সুবিধাভোগী রাজনৈতিক নেতা হিসাবে তিনি বাংলাদেশে চিহ্নিত। স্বাধীনতার পূর্বে তিনি মুসলিম লীগ করতেন। ক্ষমতার স্বাদ পেতে জিয়াউর রহমানের পিছু নেন। পরবর্তীতে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালে তিনি যোগ দান করেন বিএনপিতে। দুই দুই বার বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিশ্রম করে তাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করে। ২০০৬ সালের বাতিল হয়ে যাওয়া নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন না দিয়ে আমিন আহম্মেদ ভূঁঞাকে মনোনয়ন দিলে তাঁর আঁতে ঘা লাগে। ১/১১’র কালো অধ্যায় শুরু হলে তিনি সরকার সমর্থক হিসাবে আবির্ভূত হন। দুদকের প্রধান আইনজীবী হিসাবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন। এসবই তাঁর স্বভাব। পরবর্তীতে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে আমিন আহম্মেদ ভূঁঞাকে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে যে চাঁদাবাজির মামলা করতে বাধ্য করা হয় তাতেও তাঁর হাত রয়েছে। বর্তমানে মাহবুবুর রহমান হয়তো বুঝেছেন মহাজোটের সুসময় আসছে তাই ক্ষমতার লোভে তাঁর এই দলবদল। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা হাঁফছেড়ে বেঁছেছে। চাটখিল উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই মুহুর্তে কোন কমেন্ট নেই। তবে তিনিতো (মাহবুব) বারবারই দল বদলায়। সেই দৃষ্টিকোন থেকে এবারও দলবদল করেছেন হয়তো। এছাড়া বিএনপিতে বিরূপ পরিস্থিতির শিকার হওয়ার আশংকায় তিনি দলবদল করে থাকতে পারেন। এবারের নির্বাচনে নোয়াখালী-১ আসন থেকে বিএনপির অন্যতম মনোনয়ন প্রত্যাশী চাটখিলের কৃতি সন্তান যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাঈন উদ্দীন তিতাস বলেন, এডভোকেট মাহবুবুর রহমান হচ্ছে মৌসুমী পাখির মতো। বিএনপি তাকে মনোনয়ন না দেয়ার নতুন করে কোন সুবিধা হাসিলের জন্য তিনি আবার দলবদল করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছেন। দল যদি মনোনয়ন নাও দেয় তিনি অবশ্যই দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। কিন্তু মাহবুবুর রহমানের পক্ষে সেটা সম্ভব নয়। চাটখিল উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা সাইফুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে ‘এটি তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকার বলে হেঁসে দেন। তিনি বলেন, উনার (মাহবুব) পক্ষে এটা সম্ভব। জামায়াত যেহেতু চারদলীয় জোটে আছে তাই জোটের সিদ্ধান্তই তারা মানবেন। এদিকে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক দিদারুল আলম বলেন, এডভোকেট মাহবুবুর রহমান জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। মাঝখানে বিএনপিতে ছিলেন এখন আবার ফিরে এসেছেন এটি দলবদল নয়। আমরা তাকে স্বাগত জানাই। তিনি জাতীয় পার্টি প্রার্থী হিসাবে আজ (রোববার) মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন। এনিয়ে জানতে চাওয়া হলে সদ্য জাতীয় পার্টিতে যোগদানকারী এডভোকেট মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘‘আমি দলবদল করিনি- পুরানো দলে ফিরে গেছি। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আমার বন্ধু, দীর্ঘদিন তাঁর সাথে ছিলাম এখন তাঁর ডাকে সাড়া পুনরায় জাতীয় পার্টিতে ফিরেছি’’। তিনি বলেন, ১৯৯৬ সালে খালেদা জিয়ার আহবানে সাড়া দিয়ে বিএনপিতে যোগদান করে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে পরপর দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবার পরও বিএনপি তাকে ২০০৬ সালের বাতিল হওয়া নির্বাচনে কিংবা আসন্ন নির্বাচনে তাঁকে বিএনপি মনোনয়ন না দিয়ে ঢাকার উত্তরা থেকে তাঁকে নির্বাচন করতে বলে এটি তাঁর জন্য অবমাননাকর। কারণ চাটখিলের মাটিতে তাঁর জন্ম আজীবন চাটখিলের মানুষের জন্য রাজীনতি করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনি হাইকোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী। দুদকের প্রধান আইনজীবী পদ তিনি গ্রহণ করেননি। এমনকি একটি পয়সাও নেননি দুদক থেকে। উপরন্তু আওয়ামীলীগ ও বিএনপির অনেক নেতার বিরুদ্ধে দুদকের দায়ের করা মামলায় তিনি তাদের হয়ে আদালতে লড়াই করেছেন। তিনি আরো বলেন, বিএনপির মাধ্যমে রাজনীতি এবং রাজনীতির মাধ্যমে দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ নেই তাই তিনি পুরোনো দলে ফিরেছেন এবং নোয়াখালী-১ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন।






