
যানজট নিরসনে ফোরলেইন সড়ক নির্মিত হলেও নোয়াখালীর প্রাণকেন্দ্র বেগমগঞ্জ চৌরাস্তার সড়ক দ্বীপের টার্ণিংয়ে ট্রাফিক পুলিশের সামনেই চলছে অবৈধ পার্কিং। বাস, সিএনজি অটোরিকশা, অটোবাইক আর রিক্সার এই অবৈধ স্ট্যান্ডের ফলে প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের আর দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ১২ রুটে চলাচলকারী যাত্রীদের। আবার দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিযোগতার কারণে লেনের নিয়ম ভেঙ্গে বেপরোয়া যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতিদিনই ঘটছে ছোটখাটো দূর্ঘটনা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যানজট নিরসনে বেগমগঞ্জ চৌরাস্তা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে এক বছরপূর্বে চার লেইন সড়ক নির্মাণ করা হয়। নোয়াখালীর সাথে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ, রায়পুর এবং রামগতি,ফেনী, চাঁদপুর, খুলনা, ভোলা, মাদারীপুর-শরিয়তপুর, কুমিল্লা ,ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারাদেশ এমনকি জেলার অভ্যন্তরীন রুটে চলাচলকারী যানবাহন দ্রুত মোড় নেওয়ার জন্য চৌরাস্তার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্মৃতি স্তম্ভকে ঘিরে সড়ক দ্বীপের চারপাশের মধ্যে তিন পাশে তিনটি ট্যানেলও নির্মিত হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন দায়িত্বপালন করে থাকে পর্যাপ্ত সংখ্যক ট্রাফিক পুলিশও।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চৌরাস্তা থেকে নোয়াখালীর জেলা শহর, লক্ষ্মীপুর, রামগঞ্জ এবং ফেনী অভিমুখি সড়কে স্থাপিত ট্যানেল দিয়ে কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে না। প্রতিটি মোড়ে গড়ে উঠেছে অবৈধ বাস, সিএনজি অটো রিকশা, ব্যাটারী চালিত অটোবাইক ও রিকশা ষ্ট্যান্ড। ফলে মোড় পার হওয়ার সময় প্রতিটি যানবাহনকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। তাছাড়া বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী বাসগুলো মোড়ে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামার ফলে লেইন ভঙ্গ করে আন্তঃজেলা বাস, ট্রাক, মাইক্রোসহ বিভিন্ন যানবাহন বেপরোয়া চলাচল করছে। মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। রোববার বিকালে এ প্রতিনিধি অবৈধ ষ্ট্যান্ডের ছবি তোলার সময় দেখতে পেয়ে একজন ট্রাফিক পুলিশকে ট্যানেল থেকে সিএনজি অটোরিকশা সরাতে তৎপর হতে দেখা যায়।
যাত্রী ও স্থানীয় লোকজন জানান, প্রকাশ্যেই এই অবৈধ ষ্ট্যান্ডের কারণে একদিকে যেমন যানজটে ভোগান্তি সহ্য করতে হয় তেমনি লেন ভঙ্গ করে বেপরোয়া যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়শই ঘটছে দূর্ঘটন। এতে করে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়তে হয় পথচারীদের। পাশাপাশি চৌরাস্তা হয়ে চলাচলকারী ১২টি রুটের যানবাহনকে যানজটের কবলে যেমন পড়তে হয় তেমনি যাত্রীদেরও পড়তে হয় ভোগান্তিতে। ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও তাদের সামনেই গড়ে উঠেছে এই অবৈধ ষ্ট্যান্ড। পুলিশ চাইলেই এই ষ্ট্যান্ড সরাতে পারে।
বাস চালক জসিম উদ্দিনের মতে ট্যানেলের মুখে সিএনজি অটোরিকশার ষ্ট্যান্ড গড়ে ওঠার কারণে লেন ব্যবহার করা যায়না বিধায় লেন ভঙ্গ করতে হয়। তাছাড়া ট্যানেলেও পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় ট্যানেল ব্যবহার করা যায় না।
বেগমগঞ্জ ট্রাফিক সার্জেন্ট সাখাওয়াত হোসেন জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগ ৪ লেইন সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ না করায় মোড়ের যানজট নিরসনেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনা ট্রাফিক পুলিশ। তবে; এই ষ্ট্যান্ড সরাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এনিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল কান্তি ভট্টাচার্য জানান, ট্যানেল যদি যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে তাহলে ট্যানেল তুলে দেওয়া হবে। তাছাড়া ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব সঠিক লেনে যানবাহন চলাচলের বিষয়টি দেখার।






