নোয়াখালীর দুই আসনে ৪ হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীর জমজমাট লড়াই

বিশেষ প্রতিনিধি- নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ এবং নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনে লড়াই হচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীর। এই দুই আসনের চার হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থীর জমজমাট লড়াইয়ে সরগরম নির্বাচনী ময়দান। শেষ পর্যন্ত এই দুই আসনেই জোট-মহাজোটের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জিতে আসবেন এমন ধারণা সাধারণ ভোটারদের মাঝে। নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসন বরাবরই বিএনপির দূর্গ হিসাবে পরিচিত। এই আসনের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন মিনহাজ আহম্মেদ জাবেদ আনারস প্রতীক ও মামুনুর রশিদ কিরণ দোয়াত কলম প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতায় লিপ্ত হয়েছেন। এ আসনের ভোটররা বারবার বিএনপি প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত করলেও বরাবরই জনগণ উন্নয়ন বঞ্চিত থেকেছে। ১/১১’র পটপরিবর্তনের পর এ সংসদীয় এলাকায় রাস্তাঘাট, ব্রীজ-কালভার্ট, মসজিদ, মন্দির, স্কুল থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হয়। ৩০ বছর ধরে বিএনপির প্রতিশ্র“ত নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজেও এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়। সরকারি অর্থায়নে এসকল উন্নয়ন কর্মকান্ডের নেপথ্যে ভূমিকা রাখায় মিনহাজ আহম্মেদ জাবেদের জনপ্রিয়তা রয়েছে। পাশাপাশি তাকে বেগমগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, হিন্দু স¤প্রদায়, মুক্তিযোদ্ধ সংসদ, মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের সংগঠন আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, ক্রীড়াবিদ ও সাংস্কৃতিক কর্মী, চৌমুহনী সাধারণ ব্যবসায়ী সমিতি, নোয়াখালী মটরযান মালিক গ্র“পসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন ইতোমধ্যে তাঁর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছে। অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশিদ কিরণ স্থানীয় শিল্পপতি। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামীলীগ রাজনীতির সাতে যুক্ত রয়েছেন। এবারের মহাজোট থেকে মনোনয়ন না পেয়ে প্রথমে মেনে নিলেও পরবর্তীতে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এ আসনে মহাজোট থেকে মনোনয়ন পান সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেত্রী লুৎফুন্নাহার মুন্নী। এলাকায় ব্যক্তিগতভাবে মসজিদ-মাদ্রসাসহ সামাজিক দান-অনুদানের কারণে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে মামুনুর রশিদ কিরণ। তাছাড়া আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী তার সাথে থাকায় নির্বাচনী লড়াইয়ে প্রতিদ্বন্ধীতায় রয়েছেন তিনি। তবে সোমবার স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং আওয়ামীলীগ নেতাকর্মীদেরকে মহাজোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহবান জানিয়ে আওয়ামীলীগ সভানেত্রীর দেয়া খোলা চিঠির কারণে শেষ মুহুর্তে তার ভোটে প্রভাব পড়তে পারে। নোয়াখালী-৬ হাতিয়া আসনের দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন হরিণ প্রতীক নিয়ে প্রকৌশলী ফজলুল আজিম এবং কলস প্রতীক নিয়ে আয়েশা ফেরদৌস। এ আসনে মূলত প্রতিদ্বন্ধীতা হবে এদু’জনের মধ্যেই। প্রকৌশলী ফজলুল আজিম হাতিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি। ১৯৯৬’র নির্বাচনে তিনি এ আসন থেকে বিএনপির টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। দলের বাইরে হাতিয়ায় বিশেষ করে চরাঞ্চলে ভূমিহীন মানুষের মাঝে তাঁর ব্যক্তিগত দান অনুদানের কারণে জনপ্রিয়তা রয়েছে। এবারের নির্বাচেন তাকে মনোনয় না দিয়ে যুবদল নেতা শাখাওয়াত হোসেন শওকতকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। তবে হাতিয়া উপজেলা বিএনপি ও সকল সহযোগী সংগঠনের সকল নেতাকর্মীই ফজলুল আজিমকে সমর্থন জানিয়েছে। এছাড়া হাতিয়ার চরইশ্বর ইউনিনের চেয়ারম্যান আলাউদ্দীন আল আজাদ, বুড়ির চরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবু তাহের, নলচিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির বাবলু, সুখচরের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দীন, জাহাজমারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবুল কালাম ফজলুল আজিমকে সমর্থন জানানোর কারণে ভোটের হিসাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন তিনি। যারফলে এ আসনের মূলপ্রতিদ্বন্ধী হিসাবে ধরা হচ্ছে প্রকৌশলী ফজলুল আজিমকেই। এ আসনের অন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী আয়েশা ফেরদৌস হচ্ছেন মনোনয়ন বাতিল হওয়া আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী। মোহাম্মদ আলী সমর্থিত সকল ভোট তিনি পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। স¤প্রতি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাতিয়া গিয়ে বিশাল জনসভায় আয়েশা ফেরদৌসকে সমর্থন জানান। তবে মনোনয়ন নিয়ে মোহাম্মদ আলীর ভেল্কিবাজী এবং পরিবারের মধ্যে ক্ষমতা ধরে রাখতে স্ত্রীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী করানোর ঘটনায় আওয়ামীলীগের বিরাট একটি অংশ তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ। আওয়ামীলগের মনোনয়ন বোর্ড মোহাম্মদ আলী ঋন খেলাপীর বিষয়টি জানার পর হাতিয়ায় মনোনয়ন স্থগিত করে। তখন আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ওয়ালী উল্যার মনোনয়ন প্রায় চুড়ান্ত হলে মোহাম্মদ আলী তাঁর স্ত্রীর জন্য মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন। এক পর্যায়ে তিনি অধ্যাপক ওয়ালী উল্যাহকে ম্যানেজ করে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডে ঋন খেলাপী হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়ন বাগিয়ে নেন এবং ওয়ালী উল্যা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দাখিল করেন। কিন্তু ঋণ খেলাপী হিসাবে বাছাইয়ে বাদ যেতে পারেন এমন আশংকায় মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে একেবারে শেষমুহুর্তেই তাঁর স্ত্রীর পক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বাতিল হবার পর মোহাম্মদ আলী উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হয়েও শেষ রক্ষা না হওয়ায় স্ত্রী আয়েশা ফেরদৌসের পক্ষে এখন প্রচারণা চালাচ্ছেন। মোহাম্মদ আলীর ভোট ব্যাংক এখন আয়েশা ফেরদৌসের ভরসা। এদিকে সোমবার কেন্দ্রীয়ভাবে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে আয়েশা ফেরদৌসকে সমর্থন জানানোর কারছে এ আসনের প্রতিদ্বন্ধীতা জমে উঠেছে।

রাজনৈতিক সংবাদ