নোয়াখালীতে খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ভোটারদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া, জলবদ্ধতার সমস্যা বুঝতে সময় লেগেছে

বিশেষ প্রতিনিধি- আবারও নোয়াখালীর মেয়ে হিসাবে ধানের শীষ প্রতীকে নোয়াখালীর মানুষের ভোট চাইলে বিএনপি চেয়ারপার্সন চারদলীয় জোট নেত্রী খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার রাতে নোয়াখালীর বিভিন্ন জনসভা ও পথসভায় বক্তব্য দানকালে তাঁর সরকারের সময়ে উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে জনগণের কাছে ভোট চান। খালেদা জিয়ার বক্তব্যের পর থেকেই ভোটারদের মধ্যে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেউ চারদলীয় জোটে পক্ষে যুক্ত তুলে ধরছেন আবার কেউ বলছেন ভিন্ন কথা। মঙ্গলবার রাতে চৌমুহনীর রেলওয়ে ময়দানে নোয়াখালী-৩ বেগমগঞ্জ আসনের জোট প্রার্থী বরকত উল্যা বুলুর পক্ষে আয়োজিত জনসভায় কেন্দ্রীয় রাজনীতির বিভিন্ন বিষয়ের পাশাপাশি বেগমঞ্জের উন্নয়নে দুটি প্রতিশ্র“তি দেন। রাত ১১টায় মঞ্চে উঠেই খালেদা জিয়া তাঁর বক্তৃতায় বলেন, আমি কিন্তু আপনাদের মেয়ে। বৃহত্তর নোয়াখালীর সন্তান। বক্তৃতায় তিনি বলেন, আমরা জানি এ এলাকায় বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। রাস্তার পাশে যে সমস্ত দোকান উচ্ছেদ করে মানুষকে নিঃশেষ করা হয়েছে। গরীব মানুষকে পথে বসানো হয়েছে। এসকল মানুষকে পুনর্বাসন করা হবে। এই বেগমগঞ্জে জলাবদ্ধতা রয়েছে আমরা দেদিকে দৃষ্টি রাখবো। রাত ১২টায় সোনাপুরে নোয়াখালী-৪ আসনে জোটের প্রার্থী মোঃ শাহজাহানের পক্ষে পথসভায় বক্তব্যদান কালে খালেদা জিয়া বলেন, তাঁর সরকারের সময়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। সুবর্নচরকে উপজেলায় উন্নীত ও ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে কবিরহাট সরকারি কলেজ ও বসুরহাটে নোয়াখালী-৫ আসনের জোট প্রার্থী ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদের সমর্থনে আয়োজিত পথসভায় তিনি কবিরহাটকে উপজেলায় উন্নীত করা, মুছাপুর রেগুলেটর, বসুরহাট আধুনিক ফায়ার ষ্টেশন নির্মানসহ তাঁর সময়ের উন্নয়নের ফিরিস্তি দেন। তিনি আগামি ক্ষমতায় গেলে অসমাপ্ত কাজ শেষ করবেন। এদিকে খালেদা জিয়ার নোয়াখালী ত্যাগের পর গতকাল বুধবার সারাদিন তার বক্তব্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে ভোটাররা। চারদলীয় জোটের একনিষ্ঠ সমর্থক আব্দুল আলীম (৪৮) বলেন, এবারও ধানের শীষে ভোট দিবো। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে দেশের বৃহত্তর জনঅধ্যুষিত বেগমগঞ্জসহ এ অঞ্চলের কৃষকদের অভিশাপ বুঝতে নেত্রী ১৫ বছর সময় লেগেছে। এটি বিবেচনার বিষয়। যারা বিগত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছে তারা কেনো এ বিষয়ে উদ্যোগ নেননি। তরুন ভোটার ফজলুল হক (২২) প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, নোয়াখালী বরাবরই বিএনপির দূর্গ নোয়াখালীর মতো ফেনীতেও বিএনপিকে ভোট দিয়েছে মানুষ কিন্তু ফেনীতে যে উন্নয়ন হয়েছে তার দশভাগের একভাগ উন্নয়নও হয়নি নোয়াখালীতে। সরকারের রুটিন উন্নয়ন কর্মকান্ড যা হয়েছে তাও আবার সংসদীয় আসনভেদে তারতম্য লক্ষ্য করা গেছে। প্রবীন ভোটার মোতাহের হোসেন ক্ষোভের সাথে জানালেন, বয়স হবার পর থেকেই নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীর যে চেহারা দেখেছি। এখনও একই রকম দেখছি। কেনো; বিএনপিকে তো আমরা বারবার ভোট দিলাম। শহর উন্নয়নের মহাপরিকল্পনার নামে মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক কলোনীসহ বিপুল পরিমান স্থাপনা গুড়িয়ে দেয়া হলো অথচ গত ১৫ বছরেও সেই মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন হলো না কোন। বিষয়গুলো ভেবে দেখা দরকার। সাধারণ ভোটারদের মতে স্বাধীনতা পরিবর্তীকালে এই নোয়াখালী ছিলো জাসদের ঘাঁটি। ৯০’র পরবর্তী সময়ে জাসদের গড়ে তোলা আওয়ামীলীগ বিরোধী ভোট ব্যাংক চলে যায় বিএনপির নিয়ন্ত্রণে। নোয়াখালীর ৬টি আসনের মধ্যে ১৯৯১’র নির্বাচনে বিএনপি ৪টি, ১৯৯৬’র নির্বাচনে বিএনপি ৫টি এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৫টি আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়। তন্মধ্যে কেউ কেউ আবার ৯১’র পরবর্তী সবক’টি সংসদেই নির্বাচিত হয়েছেন। এবারও হয়তো একইভাবে ভোট দিবে কিন্তু নোয়াখালীর সার্বিক উন্নয়নের কি হবে। এদিকে উন্নয়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে নোয়াখালী-৪ আসনের মহাজোট প্রার্থী একরামুল করিম চৌধুরীসহ আওয়ামীলীগ নেতারা জানান, আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে নোয়াখালীসহ সারাদেশে ৯টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। যার প্রেক্ষিতে ২০০০ সালের মে মাসেই বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের স্থান নির্বাচন কমিটি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শণ করে। যার ধারাবাহিকতায় এই বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া সুবর্নচরকে উপজেলা করার পূর্বেই উপজেলার ইউনিয়নগুলোকে নিয়ে চরজব্বার থানা প্রতিষ্ঠা করে আওয়ামীলীগ সরকার। যার প্রশাসনিক সংস্কার হচ্ছে সুবর্নচর উপজেলা।

রাজনৈতিক সংবাদ