
পচাত্তরতম জন্মবার্ষিকীতে অগণিত সহকর্মী আর শুভানুধ্যায়ীর ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন গান্ধী আশ্রম ট্রাষ্টের সচিব প্রবীন গান্ধীয়ান শ্রীমতি ঝর্ণা ধারা চৌধুরী। অসহিংস নীতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা সর্বপরি মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ প্রচারে এই নিরলস কর্মীর জন্মদিনকে ঘিরে শনিবার নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি উপজেলার জয়াগ গ্রামে অবস্থিত গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট ছিলো উৎসবমুখর। দিনভর কেক কাটা, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন, আলোচনা আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ ছিলো নানা আয়োজন।
সকাল ১১টায় নিজ পুষ্পবৃষ্টিতে স্নাত হয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন শ্রীমতি ঝণা ধারা চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই তাঁর কর্মময় জীবনের ওপর আলোকপাত করে ট্রাষ্টের পরিচালক রাহা নব কুমার। তারপর একেএকে ফুল আর উপহার দিয়ে বরণ করে নেন দুরদুরান্ত থেকে আসা গান্ধী ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা। আলোচনা পর্বে বক্তব্য রাখেন, রামগঞ্জ উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান বাহার, বেগমগঞ্জের দূর্গাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল, চাটখিলের খিলপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, ইউনিসেপের কনসাল্টেন্ট পুলক রাহা, নোয়াখালী সন্ধানী ডোনার কাবের সেক্রেটারী মাকছুদুল হক, ট্রাষ্ট কর্মকর্তা ফাওজিয়া নাজনিন, মাসুদ রানা প্রমুখ। দুপুরে ফুল নিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে আসেন সোনাইমুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসিনা বেগম।
বক্তৃতায় শ্রমতি ঝর্ণা ধারা চৌধুরী বলেন গান্ধিজীর আদর্শ একটি সিলেবাস। আর এই সিলেবাসকে ধারণ করে জীবনে এতোখানী পথ আসা অনেক কষ্টের, দুঃখের এবং একই সাথে আনন্দেরও। তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা আমার প্রতি যেমন সদয় হয়েছেন তেমনি এই প্রতিষ্ঠানের (গান্ধী আশ্রম ট্রাষ্ট) প্রতিও সদয় থাকবেন।
ট্রাষ্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়- শ্নাতক পাস এই গান্ধীকর্মী একজন ব্রাক্ষ্মচারিনী (অবিবাহিত)। ১৯৩৮ সালে তখনকার নোয়াখালী (বর্তমানে লক্ষ্মীপুর) জেলার রামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তাঁর পিতা স্বর্গীয় প্রমথ চৌধুরী। ১৯৪৬ সালের অক্টোবরে রামগঞ্জে যখন ভ্রাতৃঘাতি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে তখন শিশু ঝর্ণা ধারার মনে দারুনভাবে নাড়া দেয়। ভাতৃঘাতি সেই দাঙ্গা নিরসনে ৭ নভেম্বর নোয়াখালীতে আগমন ঘটে মহাত্মা গান্ধীর। সে সময় গান্ধী শান্তিকর্মীরা গ্রামে গ্রামে হেঁটে হেঁটে শোনান শান্তির অভয়বানী। পাশে গিয়ে দাঁড়ান দাঙ্গপীড়িত মানুষের। গান্ধী শান্তি কর্মীদের শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেস্টা সেই শিশু বয়সেই উজ্জীবিত করে শিশু ঝর্ণা ধারাকে। সেই থেকে তিনি যুক্ত হন গান্ধীর আদর্শ প্রচারের সাথে। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ভারতে গিয়ে ত্রাণ ক্যাম্প চালু করেন তিনি। শিশু গান্ধীকর্মী ঝর্ণা ধারা চৌধুরী আজকের গান্ধী আশ্রম ট্রাষ্টের সচিব।
সমাজসেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে ঝর্ণা ধারা চৌধুরী ১৯৯৮ সালে ‘ আন্তার্জাতিক বাজাজ এওয়ার্ড, ২০০২ সালে অনন্যা পদক, ২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওল্ড বেরী ইউনিভার্সিটি শান্তি পদক, ২০০৮ সালে সরকার কর্তৃক সাদা মনের মানুষ, ২০১০ সালে চ্যানেল আই কীর্তিমতি নারী পদক লাভ করেন।







