
বিদ্যার দেবী সরস্বতি সনাতন ধর্মালম্বী শিক্ষার্থীদের কাছে পরম আরাধ্য। আর তাই সরস্বতি পূঁজাকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝেও থাকে বিপুল উৎসাহ উদ্দিপনা। জ্ঞান আহরণে মা সরস্বতির আর্শিবাদ পেতে নানা আয়োজন চলে পাড়ায় পাড়ায়। সেই স্বরসতি পূঁজার জন্য প্রতিমার হাঁট বসেছে জেলার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীর রাধা মাধব জিউর মন্দিরে। আর তিন দিন পরই পূঁজা, তাই রাতদিন পরিশ্রম করে বানানো নানা ডিজাইনের সরস্বতি প্রতিমার সাজ সজ্জায় ব্যস্ত প্রতিমার হাঁটের কারিগররা।
সোমবার বিকালে সরেজমিনে রাধা মাধব জিউর মন্দিরের প্রতিমার হাঁটে গিয়ে দেখা যায় সরস্বতি প্রতিমার দীর্ঘ সারি। প্রতিমা কারিগর ব্যস্ত প্রতিমায় শেষ মুহুর্তের তুলির টান দিতে আর সাজ সজ্জা নিয়ে। আগামি শনিবার সরস্বতি পূঁজা, তাই শিক্ষার্থীরা এসে তাঁদের অর্ডার দেওয়ার প্রতিমার কাজ কতটুকু এগিয়েছে তা দেখছেন। সবার প্রত্যাশা অন্যদের চাইতে যাতে নিজেদের প্রতিমাটি আকর্ষনীয় হয়। গণিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন ছাত্রী এসেছিলেন প্রতিমা দেখতে। তাঁদের মতে মা সরস্বতি জ্ঞানের ভান্ডার। অধিক জ্ঞান লাভের আশায় তাঁরা এই দেবীর পূঁজা করেন।
প্রতিমার হাঁটের প্রধান কারিগর অমল পাল জানান, তাঁর অধীনে এখানে প্রতিমা তৈরীতে কাজ করেছেন ১৬জন কারিগর। ইতোমধ্যে ২’শটি সরস্বতি প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ হয়েছে। রঙের কাজ ও পোষাক পরানোর কাজ চলছে। একই সাথে চলছে সাজ সজ্জা আর গহণা পরানোর কাজ। প্রথমে ১৪০টি প্রতিমার অর্ডার ছিলো। এখন সবগুলোই বিক্রি হয়ে গেছে। শুক্রবার সকাল থেকেই প্রতিমা সরবরাহ করা হবে।
শরিয়ত পুরের বাসিন্দা এই প্রতিমা কারিগর জানালেন এবার প্রতিটি প্রতিমার দাম ধরা হয়েছে সর্বনিম্ন এক হাজার টাকা আর সর্বোচ্ছ ১০ হাজার টাকা। প্রতিমার সাজসজ্জা, নকশা ও সাইজের ভিত্তিতে দামের তারতম্য হবে। তিনি এবং প্রতিমার কারিগর গৌতম পাল ও সুধীর পাল মিলে নোয়াখালীর সেবার হাট মন্দির ও মাইজদী দেবালয়ে সরস্বতি প্রতিমা তৈরীর কাজ করছেন। সেবার হাটে ৫০টি এবং দেবালয়ে ১০০টি প্রতিমা তৈরী করা হয়েছে।
রাধা মাধব জিউর মন্দিরের পরিচালনা কমিটির সদস্য দুলাল চক্রবর্তী জানান, মাঘ মাসের পঞ্চম তিথিতে বিদ্যা দেবী সরস্বতির পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পাড়ায় পাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাত্রছাত্রীরা পূজা করে থাকে। চৌমুহনীর এই মন্দিরে প্রতিবছর প্রতিমা কারিগররা এসে এই অঞ্চলের পূঁজারীদের চাহিদা অনুযায়ী প্রতিমা তৈরী করে দিয়ে থাকে।






