
আমাদের মা ক্যান্সার আক্রান্ত, তাঁর চিকিৎসার জন্য আপনার সামান্য আর্থিক সহযোগীতা আমাদের বড় সহায়ক হবে, এমন আকুতি নিয়ে সাধারণ মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সহপাঠি এপ্লায়েড ক্যামিষ্ট্রি এন্ড ক্যামিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের মেধাবী ছাত্র শোভন ভট্টাচার্য্যরে ক্যান্সারে আক্রান্ত মায়ের চিকিৎসার জন্য তহবিল গঠনের জন্য তাঁদের সেই আহবানে সাড়াও মিলেছে। তাঁদের মানবিক আবেদনের সংবাদ ‘আসুন মাকে বাঁচাই : চিকিৎসায় সহপাঠীদের উদ্যোগ’ শিরোনামে চলমান নোয়াখালীসহ বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়।
শোভনের সহপাঠিদের সেই আবেদনে সাড়া দিয়েছেন নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী। তিনি ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা প্রদান করেন শোভনের মায়ের চিকিৎসার জন্য। বৃহস্পতিবার শোভনের হাতে সেই টাকা তুলে দিয়েছেন নোবিপ্রবি উপাচার্য প্রফেসর এ কে এম সাঈদুল হক চৌধুরী। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো: মমিনুল হক, শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মোহাম্মদ সেলিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জনাব মো: আনিসুজ্জামানসহ শোভনের সহপাঠিরা উপস্থিত ছিলেন।
নোবিপ্রবি রেজিষ্টার অধ্যাপক মমিনুল হক জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরাও শোভনের মায়ের চিকিৎসার্থে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার মায়ের চিকিৎসার জন্য ১লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি শোভনের মায়ের চিকিৎসা সহায়তা তহবিলের জন্য অগ্রণী ব্যাংক নোবিপ্রবি শাখায় জন্য একটি একাউন্ট খোলা হয়েছে, যার নম্বর-৭৭২৯। এই একাউন্টে যে কোন মহৎপ্রাণ ব্যক্তি আর্থিক সহায়তা পৌঁছাতে পারবেন।
এপ্লায়েড ক্যামিষ্ট্রি এন্ড ক্যামিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ইউসুফ মিয়া বলেন, অনার্সে শোভন প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছে। মাষ্টার্সেও সে ভালো ফলাফল করতে পারলে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপাচার্য।
শোভন ভট্টাচার্য জানান, তাঁর মায়ের চিকিৎসার খরছ যোগাতে নোবিপ্রবির সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই মানবিক উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেছে, অর্থ দিয়েছে নিজেরাও। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন। সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর দেওয়া ২ লাখ টাকাসহ এ পর্যন্ত ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাওয়া গেছে। আগামি ২৯ জানুয়ারি আবারও ভারতে চিকিৎসার জন্য নিতে হবে তাঁর মাকে। মায়ের চিকিৎসায় সহায়তার জন্য সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীসহ এগিয়ে আসা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দোয়া কামনা করেন।






