নোয়াখালীতে উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একমাত্র নারী প্রার্থী কামরুন্নাহার শিউলি

চেয়ারম্যান পদে একমাত্র নারী প্রার্থী কামরুন্নাহার শিউলি


রুদ্র মাসুদ- নোয়াখালীর সর্বত্র এখন উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া। ভোর থেকে গভীর রাত অবদি প্রার্থীদের পদচারণায় মুখরিত গ্রামীন জনপদ। এতসবের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে চেয়ারম্যান পদে একমাত্র নারী প্রার্থী কামরুন্নাহার শিউলী। কবিরহাট উপজেলায় তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন ৯জনের সাথে। প্রতিদ্বন্ধীতায় থাকা প্রার্থীদের অন্যতম হচ্ছেন তাঁর ভাসুর মোঃ ইব্রাহিম । শিউলির ব্যক্তিগত ইমেজ এবং পারিবারিক ঐতিহ্য এবং স্বামী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর জনপ্রিয়তার কারণে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সহকরি রিটার্ণিং অফিসার ও কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম হুমায়ুন কবির সরকার জানান, ৭টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ৯জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪জন প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। তন্মধ্যে মোট ভোটার হচ্ছে ৯৮ হাজার ৩৭২জন। নির্বাচনে এখন পর্যন্ত শান্তিপূর্ন পরিবেশ বজায় রয়েছে। ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এখানকার নির্বাচনে বরবরাই দানবীর হাজী ইদ্রিসের পরিবারের প্রভাব থাকে। দীর্ঘদিন থেকে এ পরিবারটি আওয়ামীলীগের বিশাল ভোট ব্যাংক হিসাবেও পরিবিচিত। এ পরিবারের পুত্রবধূ হচ্ছে কামরুন্নাহার শিউলী। পাশাপাশি চেয়ারম্যান পদ এ পরিবারের আরেক সন্তান ইব্রাহিমও প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। বিএনপি থেকে লড়ছেন কবিরহাট পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম দুলাল। এই তিনজনই বর্তমানে ভোটের মাঠে লড়াই চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ফখরুল ইসলাম দুলাল এবং কামরুন্নাহার শিউলীর মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে ধারণা করছে ভোটাররা। কারণ ২০০১ সালের নির্বাচনে নোয়াখালী ৫ (কোম্পানীগঞ্জ-বর্তমান কবিরহাট) আসন থেকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন না পেয়ে পারিবারিক ইমেজ ও আঞ্চলিকতার জোরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে ভোট করে কামরুন্নাহার শিউলির স্বামী বর্তমান জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ৪২ হাজার ৪৮ ভোট পান। দলমত নির্বিশেষে এলাকার মানুষ তাকে ভোট দেয়। সে নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী ওবায়দুল কাদের পান ৪৫ হাজার ৯৭২ ভোট। এবারের নির্বাচনে নোয়াখালী-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য হয়েছেন একারমুল করিম চৌধুরী। ২২ বছর পর তিনি একসময়ের আওয়ামীলীগের ঘাঁটি এ আসনটি পুনরুদ্ধার করেন। তাই হিসাব কষে ভোটাররা ঝুকছে কামরুন্নাহার শিউলির দিকে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের পছন্দ দেয়াল ঘড়ি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামা নোয়াখালীর একমাত্র নারী চেয়ারম্যান প্রার্থীর দিকে। তাছাড়া ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও বিভিন্ন দলের ভোটারদের মাঝে একতা লক্ষ্য করা গেছে তাঁর পক্ষে। তরুণ ভোটার আবু সায়েম (২২) এর মতে, কামরুন্নাহার শিউলীর জয়ের মধ্যে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও জড়িত। কারণ বাকী ৮ উপজেলায় যেই জিতুক তিনি পুরুষ। একমাত্র নারী প্রার্থী হওয়ায় কামরুন্নাহার শিউলিকে তারা ভোট দিবেন। প্রার্থী কামরুন্নাহার শিউলিও মনে করেন ভোটাররা সকল ভয়ভীতির উর্ধ্বে থেকে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারলে এবং আল্লাহ সহায় হলে তিনি জিতবেন। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে উপজেলা নির্বাচনে কোন নারী প্রার্থী বিজয়ী হয়নি। কামরুন্নাহার শিউলির জিতলে এটি রেকর্ড হবে।

রাজনৈতিক সংবাদ