রুদ্র মাসুদ- নোয়াখালীর ৯টি উপজেলায় চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যন পদে ২৭টি পদের জন্য লড়ছে ১৬৪জন প্রার্থী। তন্মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৭২জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫৯জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৩জন প্রার্থী লড়ছে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে। অধিকাংশ উপজেলায়ই এ লড়াই হচ্ছে চারদলীয় জোট এবং মহাজোটের প্রার্থীদের মধ্যে। তবে এ লড়াই জমে উঠেছে চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের মধ্যে। শেষমুহুর্তে অনেক প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় নির্বাচনী আমেজে নতুন মাত্রা লাভ করেছে। এদিকে অধিকাংশ উপজেলায় সংসদ সদস্যরা নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ায় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়েও চিন্তিত প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীরা। অর্ধেকেরও বেশি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ন হওয়ায় এ আশংকা আরো বেড়ে গেছে। সোমববার সন্ধ্যায় সংখ্যালঘু ও নিরীহ ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিনের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীরজুমলা মিঠুকে। নির্বাচনের দিন পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে হলে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আগেই গ্রেফতারের দাবি ভোটারদের। রিটার্ণিং অফিসারের কার্যালয় এবং জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা সুত্রে জানা যায়, নোয়াখালীর ৯টি উপজেলায় ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৭১০জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। মোট ৬২৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৩০টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং ২৯৩টি কেন্দ্রকে সাধারণ হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি আমর্ড ব্যাটেলিয়ান পুলিশ, বিডিআর, র্যাব ও সেনাবাহিনীর ভ্রাম্যমান টিম থাকবে। হাতিয়ায় থাকবে নৌবাহিনীর টিম। গতকাল মঙ্গল জেলার ৯টি উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের শেষমুহর্তের ব্যস্ত প্রচারণা। এক্ষেত্রে চারদলীয় জোট এবং মহাজোটের বাইরে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতার বিষয়টিও চিন্তায় আনছে ভোটারা। চেয়ারম্যান পদে উপজেলাগুলোর লড়াইয়ের মধ্যে- বেগমগঞ্জে চতুমুখী লড়াই- এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ১১জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৫জন। তবে শেষমুহুর্তে লড়াই হবে চতুমুখী। এখানে মহাজোট থেকে চেয়ারম্যান পড়ে লড়ছেন ভিপি মোহাম্মদ উল্যা। তার বিপরীতে বিএনপির রয়েছে ৩জন। তন্মধ্যে স্থানীয় এমপি বরকত উল্যা বুলুর সমর্থন নিয়ে এডভোকেট আব্দুর রহিম বিএনপির প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালালেও বিএনপির আরো দুজন প্রার্থী রয়েছে। এ দ’জনের মধ্যে ইউসুফ লিটন আঞ্চলিকতা এবং শাহ আব্দুল্যাহ আল বাকী সাধারণ নেতাকর্মী ও সচেতন ভোটারদের ভোট টানতে মরিয়া। শেষহুর্তে ৪জনের মধ্যেই লড়াই হবে। সেনবাগে মহাজোট প্রার্থীর বিপরীতে বিএনপির ৩জন- এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ১২জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন। শেষমুহুর্তে এসে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়িয়ে মহাজোট প্রার্থী বাহার উল্যা বাহারের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর টিপু। বাহার উল্যা বাহারের বিপরীতে এখানে বিএনপির প্রার্থী ৩জন। তন্মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য সমর্থিত আবুল কালা আজাদ, জেলা বিএনপি সমর্থিত কাজী মফিজুর রহমান এবং তৃণমূল নেতাদের সাথে নিয়ে সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাসান মঞ্জুর লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। ১/১১র পরবর্তী সময়ে তিনি বিএনপির হাল ধরেন এখানে। এখানে টাকার খেলা ভোটারদের চিন্তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। কোম্পানীগঞ্জে জোট মহাজেটের লড়াই- নোয়াখালীর ভিআইপি উপজেলা কোম্পানীগঞ্জে চলছে চারদলীয় জোট এবং মহাজোটের লড়াই। এখানে চেয়ারম্যান পদে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি সাহাব উদ্দীন এর বিপরীতে লড়ছেন জামাত নেতা ফখরুল ইসলাম ফারুক। ভাইস চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও দুই জোট থেকে দুইজন করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ফখরুল ইসলাম ফারুক সাংবাদিক সম্মেলন করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরীর দাবি জানিয়েছেন। অপরদিকে সাহাব উদ্দীন বলছেন ভোটাররা ঠিকমতো ভোট দিতে পারলে তাঁর জয় নিশ্চিত। সোনাইমুড়ীতে ত্রিমুখী লড়াই- সোনাইমুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে চলছে ত্রিমুখী লড়াই। চারদলীয় জোট প্রার্থী আব্দুল কাইয়ুম, মহাজোট প্রাথী আ ফ ম বাবু এবং নাগরিক কমিটির মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়ার মধ্যে এ লড়াইয়ে ভোটারদের পছন্দ পরিচ্ছন্ন ব্যক্তি ও বিগত দিনে জনগণের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে। দলীয় প্রভাব না থাকলে শেষ মুহুর্তে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে যেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে চেয়ারম্যান পদে ৭জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪জন লড়ছেন। হাতিয়ায় অধ্যাপক ও অধ্যক্ষের দ্বিমুখী লড়াই- দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় চেয়ারম্যান পদে এখন চলেছে দ্বিমুখী লড়াই। বর্তমান সংসদ সদস্য প্রকৌশলী ফজলুল আজিমের সমর্থন নিয়ে সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ওয়ালী উল্যাহ এবং সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর সমর্থন নিয়ে অধ্যক্ষ এনামুল হকের মধ্যে এ লড়াইয়ে চরাঞ্চলের ভোট যে বেশি টানতে পারবে শেষ পর্যন্ত তিনি জয়ী হবেন এমন ধারণা গোটা দ্বীপ জুড়ে। এখানে চেয়ারম্যান পদে ১০জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন লড়ছেন। সদরে জোট মহাজোটের লড়াই- এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে চলছে জোট মহাজোটের লড়াই। মহাজোট থেকে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক উকিলের ভাতিজা এডভোকেট শিহাব উদ্দীন শাহীন। তার বিপরীতে লড়ছে চারদলীয় জোট প্রার্থী একসময়ে জনপ্রিয় ছাত্রনেতা মাহবুব আলমগীর আলো। এ দুইজনের লড়াইয়ে ব্যবধান টানতে পারেন সচেতন ভোটাররা। এখানে চেয়ারম্যান পদে ৯জন ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৯জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪জন লড়াই করছেন। কবিরহাটে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন একমাত্র নারী- জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে এ উপজেলায়ই চেয়ারম্যান পদে একমাত্র নারী প্রার্থী রয়েছে। নারী প্রার্থী কামরুন্নাহার শিউলী বর্তমানে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছেন। তাঁর স্বামী নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীর জনপ্রিয়তা তাঁর অন্যতম পূঁজি। তার সাথে লড়ছেন ভাসুর মোঃ ইব্রাহিম ও চারদলীয় জোট প্রার্থী ফখরুল ইসলাম দুলাল। শেষ পর্যন্ত কামরুন্নাহার শিউলী নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখানে চেয়ারম্যান পদে ৯জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪জন প্রতিদ্বন্ধীতা করছেন। সুবর্নচরে জোট মহাজোটের লড়াই- আওয়ামীলীগের ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত সুবর্নচর উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে চলছে মহাজোট প্রার্থী অধ্যক্ষ খায়রুল আ ন ম সেলিম ও চারদলীয় জোট প্রার্থী এডভোকেট এবিএম জাকারিয়ার মধ্যে। এখানে ভূমিহীনদের ভোট যেদিকে বেশি পড়বে শেষ পর্যন্ত তিনি জয়ী হবে এমন ধারণা করছে ভোটারা। এখানে চেয়ারম্যান পদে ৩জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩জন লড়াই করছেন। চাটখিলে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা- এ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভবনা রয়েছে। এখানে মহাজেটের সমর্থন নিয়ে এগিয়ে রয়েছেন হাসান আহম্মেদ। অন্যদিকে জামাতের মোহাম্মদ উল্যার সাথে রয়েছে বিএনপির একাংশ এবং স্থানীয় সাংসদ ব্যারিষ্টার খোকনের সমর্থন রয়েছে বিএনপি নেতা বজলুর রশিদ চৌধুরীর প্রতি। শেষপর্যন্ত হাসান আহম্মেদ নির্বাচনী বৈতরণী পার হয়ে যেতে পারেন বলে ভোটারদের ধারণা। এখানে চেয়ারম্যান পদে ৯জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪জন লড়াই করছেন। ভোটাদের ভাবনা- তরুণ ভোটার মহসিন আলী (২২) এর মতে দল নয় ভোট দিতে চাই ব্যক্তি দেখে। এক্ষেত্রে বিগত দিনে প্রার্থীর সততা, ব্যক্তিগত চরিত্র এবং দুর্নীতির বিষয়টি বিবেচনায় আনা উচিত। প্রবীন ভোটার জিন্নাত মিয়া (৬৫)র মতে, বিগত দিনে যারা জনপ্রতিনিধি ছিলেন এমন প্রার্থীদের বেলায় তাদের অতীত কর্মকান্ড দায়িত্বশীল ভূমিকা, সততা এবং দূর্নীতির বিষয়টি বিবেচনা করেই ভোট দিব। এদিকে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে রিাটণিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজান উল আলম বলেন, হাতিয়ায় পুলিশের পাশাপাশি নৌবাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। ম্যাজিষ্টেটের নেতৃত্বে আমর্ড পুলিশ ও বিডিআরের টহল দলের পাশাপাশি র্যাব ও সেনাবাহিনীর ষ্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে সার্বিক নজরদারিতে। কোন ধরণের সহিংসতা কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের রেহাই দেয়া হবে না। নির্বাচনের পূর্বেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।






