
চ. নো. রিপোর্ট- বিক্ষিপ্ত কিছু ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ন পরিবেশে নোয়াখালীতে উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। ব্যালটপেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। তবে ভোট কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি কম হলেও অধিকাংশ উপজেলাই আওয়ামীলীগ প্রার্থী ও তাদের লোকজনের প্রভাব দেখা লক্ষ্য করা গেছে। ভোট গ্রহন চলাকালে কেন্দ্রের বাহিরে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে অন্তত ১৫জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে সোনাইমুড়ী উপজেলার কালিকাপুর কেন্দ্রে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী আ ফ ম বাবুর কর্মীরা কেন্দ্র থেকে ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনায় ১ ঘন্টারও বেশি সময় ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে সেখানে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মোবাইল টিম পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ভোটার তালিকা উদ্ধার করে দিলে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। একেন্দ্রে মোট ভোট ৩ হাজার ৭০৮জন। দুপুর ১২টায় সেনবাগের ইটবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একদল সন্ত্রাসী ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান কোন পক্ষ ব্যালট পেপার ছিনতাই করেছে এবং কত ব্যালট ছিনতাই হয়েছে তা জানাতে পারেনি। সকাল ১১টায় সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের রতনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন ১’শ ব্যালটের একটি বই ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এঘটনায় তাৎক্ষণিক ভোট গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়। একেন্দ্রের মোট ভোটার ২হাজার ৪১৭জন। একেন্দ্রে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ১রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষন করে বলে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন স্বীকার করেন। একই উপজেলার অশ্বদিয়া নুরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে একই দলের সমর্থকরা ১০০টি ব্যালট পেপার ছিনতাই করলে প্রায় দু’ঘন্টা ভোট গ্রহণ বন্ধ থাকে। পরে প্রার্থীর সিল মারা ৭৫টি ব্যালট পেপার উদ্ধার করা হলেও বাকিগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। দূর্গানগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলায় কেন্দ্রের বাইরে সেনবাগ, সোনাইমুড়ী, সদর, সুবর্নচর ও কবিরহাট উপজেলায় প্রতিদ্বন্ধী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৫জন আহত হয়েছে খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচনে সহিংসতা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে রিটার্ণিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজান উল আলম ভোট সুষ্ঠু হয়েছে দাবি করে বলেন, দু’একটি কেন্দ্রের বাইরে বিচ্ছিন্ন সমস্যা হলেও কেন্দ্রের মধ্যে কোন সহিংসতার খবর তিনি পাননি। স্থগিত হওয়া দুটি কেন্দ্রে প্রয়োজন হলে পরবর্তীতে ভোট গ্রহণ করা হবে।






