চৌমুহনী কলেজে ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষন : ভর্তি হতে এসে কপালে গুলি বিধলো রাসেলের
ম. হাসান,
চলমান নোয়াখালী ডট কম-
তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিনা উস্কানিতে চৌমুহনী সরকারি এসএ কলেজের ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে কয়েকদফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় 11পুলিশের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষন ও টিআরসেলে নিক্ষেপের ঘটনায় চারপুলিশ, ছাত্রলীগ ও ছাত্রদল নেতাসহ কমপক্ষে ৩৫জন আহত হয়েছে।  এসময় পুলিশের ছাত্রদের ইটের আঘাতে পুলিশের একটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আহত ছাত্রদের কলেজ সংলগ্ন রাবেয়া হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মধ্যে রাসেল (১৭) একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি এসেই কপালে গুলিবিদ্ধ হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ৩১ রাউন্ড রাবার বুলেট এবং ৫ রাউন্ড টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি চলায় ক্যাম্পাসে অধ্যায়নরত ছাত্রছাত্রী ছাড়াও ভতিচ্ছু ছাত্রছাত্রীদের বিপুল উপস্থিতি ছিলো। এ ঘটনায় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে পরবর্তীতে কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে পুলিশ এবং ছাত্র সংঠনগুলোর নেতাদের নিয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে ছাত্রদের ওপর পুলিশী হামলায় বেগমগঞ্জ থানায় কোনো মামলা না হলেও পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত।
এদিকে সাধারণ ছাত্র এবং ছাত্রসংগঠনগুলো এ ঘটনার জন্য পুলিশকে দায়ী করলেও বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দাবি পুলিশকে আক্রমন করায় পুলিশ লাঠিচার্জ ও গুলিবর্ষণ করেছে। অপরদিকে বিনাকারণে ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে আনায় অধ্যক্ষকে দায়ী করে ছাত্ররা।
সাধারণ ছাত্রছাত্রী এবং আহত ছাত্ররা জানায়,  সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে দু জন ছাত্রদের মাঝে তুচ্চ ঘটনা নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। এসময় কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক শাহ আজীম মীর্জা, যুগ্ম আহবায়ক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী, ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক খোরশেদ আলম, আনিছ, হারুনসহ ছাত্রনেতারা ঝগড়া থামাতে এগিয়ে যায়। একময় ক্যাম্পাসে পূর্বথেকে মোতায়েন জেলা পুলিশ ল্ইানের সদস্যরা সাধারণ ছাত্র ও ছাত্রনেতাদের ওপর বেদড়ক লাঠিচার্জ করে। এনিয়ে সাধারণ ছাত্রছাত্রীর মাঝে ক্ষোভের সঞ্চার করে। একপর্যায়ে ছাত্ররা পুলিশের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ছাত্র পুলিশের সাথে শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ। একপার্যায়ে পুলিশ ছাত্রদের ওপর শর্টগানের গুলি বর্ষন ও টিআরসেল নিক্ষেপ করে। খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশও ক্যাম্পাসে যায়। তখন বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
সংঘর্ষে পুলিশের চার সদস্য এবং কলেজ ছাত্রলীগের আহবায়ক শাহ আজীম মীর্জা, অনার্স ২য় বর্ষের সানজিদ হোসেন, দ্বাদশ শ্রেণীল টিপু সুলতান, অনার্স ৩য় বর্ষের খোরশেদ আলম, বিবিএস ২য় বর্ষের এনামুল হাসান ও ফয়সল, ভর্তি হতে আসা ছাত্র রাসেল, সবুজসহ অন্তত ৩৫জন আহত হয়।
খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল আলম, পরিদর্শক (তদন্ত) ইব্রাহিম খলিল, জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আমিনুল হক মুন্না, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমাম হোসেন রাজু, স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন, পৌর ছাত্রলীগের আহবায়ক ইউসুফ মোল্লা, কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রহমত উল্যা মিন্টুসহ শিক্ষক ও ছাত্রনেতাদের নিয়ে বৈঠকে বসেন কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহিদ উল্যা ভূঞা। এসময় তিনি ভর্তি কার্যক্রম চালিয়ে এবং আগামি দুই দিনের জন্য ক্লাস বন্ধ ঘোষণার কথা জানান। এবং পরবর্তীতে সবাইকে নিয়ে বৈঠকের কথা জানান।
এদিকে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে দুপুর ২টার দিকে পুনরায় বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা দোষী পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবিতে এবং বিনা কারণে ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে আনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে।
বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা জনায়, ক্যাম্পাসে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনাই ছিলোনা অথচ কলেজ কর্তৃপক্ষ বিনা কারণে ক্যাম্পাসে পুলিশ ডেকে আনে। আর সেই পুলিম বিনা উস্কানীতেই ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্য, গুলিবর্ষন আর টিআরসেল নিক্ষেপ করেছে।
এনিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহিদ উল্যা ভূঁঞা  বলেন, একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি শুরু হবার পর থেকেই ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন ছিলো।  বৃহস্পতিবারও একই ধারাবাহিকতায় ক্যাম্পাসে পুলিশ আসে। ঝগড়ায় লিপ্ত ছাত্রদের বহিরাগত দাবি করেন অধ্যক্ষ। এজন্যই পুলিশ এ্যাকশনে যায়।
বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল আলম বলেন, বিনা কারণে পুলিশ এ্যাকশনে যায়নি। পুলিশের ওপর আক্রমন করলে পুলিশ কি বসে থাকবে ? সংঘর্ষে ৩১ রাউন্ড শর্টগানের গুলি এবং ৫রাউন্ড টিআরসেল নিক্ষেপ করা হয় বলে তিনি জানান। তিনি আরো জানান, পুলিশের ওপর ও পুলিশের গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় বেগমগঞ্জ থানায় একটি মামলা হবে। এখন (বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ভর্তি হতে এসে কপালে গুলি বিধলো রাসেলের
কলেজে এখনো ক্লাশ শুরু হয়নি। ছড়ায়নি রাজনৈতিক উত্তাপও। তারপরও কলেজে এসে প্রথম দিনেই কপালে গুলি বিধেছে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হতে আসা রাসেলের। চৌমুহনী পৌর এলাকার উত্তর হাজিপুর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে রাসেল  বৃহস্পতিবার প্রথম বারের মতো কলেজের আঙিনায় পা রেখেই রক্তাক্ত হয় পুলিশের গুলিতে।
আহত রাসেল জানায়, পুলিশের সাথে ছাত্রদের সংঘর্ষে বাঁধলে তিনি কলেজের প্রশাসনিক ভবনের দোতলায় গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানেই দাঁড়ানো অবস্থায়ই হঠাৎ গুলি এসে তাঁর কপালে লাগে। এসময় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে ছাত্ররা এসে তাঁকে উদ্ধার করে এবং হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়।
11
চলতি সংবাদ