দলীয় কার্যালয়ের তালা খোলেনি, পাঁচশ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, ওসি ক্লোজড্
11
বিশেষ প্রতিনিধি-
চলমান নোয়াখালী ডট কম-
নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি চাওয়াকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী শহরে সড়ক অবরোধ, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ে করা হয়েছে। শুক্রবার সুধারাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইয়াছিন ফারুক বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৫’শ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এ মামলা দায়ের করেন।
উদ্ধুদ পরিস্থিতিতে আজ শনিবার জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ও জেলা শহরে অবস্থানরত সদর ও নোয়াখালী শহর আওয়ামীলীগের নেতাদের এক অনানুষ্ঠানিক সভা আহবান করা হয়েছে। তবে; বৃহস্পতিবার সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরী কর্তৃক ঘোষিত ১০ দিনের আল্টিমেটামের কারণে গতকাল শুক্রবার জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয় তালাবন্ধ ছিলো। যে কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয় এবং জেলা শহরের প্রধান সড়কে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিলো।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জেলা শহর মাইজদীতে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পুলিশের কার্যকর কোন পদক্ষেপ না থাকায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে শুক্রবার সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন তরফদারকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড্ করা হয়। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নওশের আলীর নির্দেশে শুক্রবার বিকালে পুলিশ সুপার হারুন উর রশীদ হাযারী ওসিকে নোয়াখালী পুলিশ লাইনে ক্লোজড্ করেন। একই সাথে চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সুধারাম মডেল থানায় বদলী করা হয়েছে বলে পুলিশ সুপারের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে।
সুধারাম মডেল থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা শহরে আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সড়ক অবরোধ, ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনায় এসআই ইয়াছিন ফারুক বাদী হয়ে রেহান রউফ, সেলিম, জহির, অপু, ইউসুফ, কাউছার, করিম, নাসির, রাসেল ও সুমন নামের ১০ জনের নাম উলেøখ করে এবং অজ্ঞাত আরো ৪/৫’শ লোককে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। শুক্রবার দায়েরকৃত মামলা নম্বর ৪৭ এবং নাম উল্লেখ করা অভিযুক্তদের সবার পিতার নাম অজ্ঞাত।
এদিকে বৃহস্পতিবারের ঘটনার জের ধরে শুক্রবার জেলা শহর জুড়ে আতংক বিরাজ করে। সকাল থেকে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয় এবং শহরে প্রধান সড়কে পুলিশকে টহল দিতে দেখা যায়। তবে; আওয়ামীলীগ কার্যালয় ছিলো তালাবদ্ধ।
এনিয়ে জানতে গতকাল শুক্রবার দিনভর যোগাযোগ করেও জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। যোগাযোগ করা হলে নোয়াখালী শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ পিন্টু সমকালকে বলেন, শনিবার সকালে আমরা (শহরে অবস্থানরত জেলা, শহর ও উপজেলা নেতৃবৃন্দ) বিষয়টি নিয়ে বসবো। এরবেশি কিছু তিনি জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
পুলিশ সুপার হারুনুর রশিদ হাজারী সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন তরফদারকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড্ করার সত্যতা নিশ্চিত করে  বলেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নওশের আলীর নির্দেশে তাঁকে ক্লোজড্ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁকে চরজব্বার থানায় বদলী করা হয় এবং চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম চৌধুরীকে বদলী করে সুধারাম থানায় দেওয়া হয়েছে। তিনি পুলিশ বাদি হয়ে মামলা দায়েরের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।
চলতি সংবাদ