চ. নো. রিপোর্ট- দুর্নীতি ও ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর বিশেষ) প্রকল্পের ৩২০ মেঃ টন চাল আত্মসাতের অভিযোগে দুর্নীতিদমন কমিশনের দায়ের করা মামলায় সাবেক স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীয় জিয়াউল হক জিয়ার জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। নোয়াখালীর স্পেশাল জজ মোঃ কাউসার মঙ্গলবার এ নির্দেশ দেন এবং আগামী ২৩ মার্চ মামলার পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য্য করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪-২০০৫ অর্থ বছরে ল²ীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচীর আওতায় (বিশেষ টিআর) দুই দফায় অনুমোদিত ৯৬টি প্রকল্পের বিপরীতে ৩২০ মেঃ টন চাল বরাদ্ধ দেয়া হয়। কোন কাজ ছাড়াই বরাদ্দকৃত চাউল প্রতিমন্ত্রী জিয়াউল হক জিয়ার নির্দেশে তৎকালীন রামগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসেম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পরিতোষ বাড়ৈ এবং জিয়ার আস্থাভাজন মোঃ আক্তার হোসেন পরস্পর যোগসাজসে চাউল ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন দেলুর কাছে বিক্রি করে তৎকালীন বাজার মূল্য ৫০ লাখ ২৯ হাজার ৭ শ ৬০ টাকা আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে ভুয়া মাষ্টার রোল তৈরী ও দাখিল করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তা সমন্বয় করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩ জুলাই রামগঞ্জ উপজেলার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও আবুল হাসেম জিয়াউল হক জিয়ার ঘনিষ্ট হিসাবে পরিচিত মোঃ আক্তারহোসেনকে সঙ্গে নিয়ে অগ্রনী ব্যাংক রামগঞ্জ শাখায় উপস্থিত হয়ে সেখানে পূর্ব থেকে উপস্থিত চাউল ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন দেলুর কাছ থেকে নগদে এবং চেকের মাধ্যমে ৪১ লাখ ৫০ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। অথচ প্রতিটন চাউলের মূল্য ১৩ হাজার টাকা হিসেবে ৩২০ মেঃ টন চালের দাম ছিলো ৪১ লাখ ৬০ হাজার টাকা। একই সময়ে ইউএনও আবুল হাসেমের সহায়তায় আক্তার হোসেন একই ব্যাংকে একটি সঞ্চয় হিসাব খোলে। ইউএনও নিজে এই সঞ্চয়ী হিসাবে সনাক্তকারী ছিলেন। পরবর্তীতে ৩০ লাখ টাকা মোঃ আক্তার হোসেনের নামে একই তারিখে একই ব্যাংকে একটি এফডিআর একাউন্টে জমা রাখে। যার মূল রশীদ প্রতিমন্ত্রীর ঢাকার বাসায় তার স্ত্রী মিসেস নাছিমা হকের নিকট হস্তান্তর করেন। অবশিষ্ট টাকা ইউএনও আবুল হাসেম তার অফিস সহকারী শম্ভুনাথ কুম্ভুর মাধ্যমে জমা রিসিট লিখিয়ে তার অফিসের বিবিধ হিসাব খাত হিসাব নং-১১২৬ এ একই তারিখে ১১ লক্ষ টাকা জমা রেখে অবশিষ্ট ৫০ হাজার টাকা নিজের কাছে রাখে। ইউএনও বিবিধ খাতে জমাকৃত ১১ লক্ষ টাকার বিবরণ এবং বিভিন্ন সময়ে উক্ত টাকা চেকের মাধ্যমে উত্তোলণ সংক্রান্ত তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট ক্যাশবুকে লিপিবদ্ধ করেনি। দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় কমিশনের সহকারী পরিচালক মঞ্জুরুল আলম বাদী হয়ে গত বছরের ১৪ ফেব্র“য়ারী রামগঞ্জ থানায় ধারা ৪০৯/১০৯ দঃ বিঃ ১৯৪৭ সালের ২নং এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারাসহ জরুরী ক্ষমতা বিধিমালা ২০০৭ এর ১৫ ধারায় ৫জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, আক্তার হোসেন চাল বিক্রি বাবত প্রাপ্ত টাকা এফডিআর হিসেবে রাখা একাউন্ট থেকে ২০০৭ সালের ৩ জুলাই সুদে আসলে ৩৩ লাখ ৮ হাজার ২৬৭ টাকা ট্রেজারী চালানের মাধ্যমে সরকারের কোষাগারে জমা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, ১/১১’র পর জিয়াউল হক জিয়া আত্মগোপন করে বিদেশে থাকাবস্থায় তার অনুপস্থিতিতে ২টি দুর্নীতি মামলায় ২৬ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হয়। এছাড়া ১টি চাঁদাবাজী মামলা ও ওয়াসার দায়ের করা আরো একটি দুর্নীতি মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। গতমাসে তিনি জিয়া আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে সাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করে মোহাম্মদপুরে আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে গত ১৮ ফেব্র“য়ারী তিনি গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। রামগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত এ মামলার কারনে সোমবার তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে নোয়াখালী জেল হাজতে আনা হয়। মামলার অন্যান্য আসামীরা পলাতক রয়েছে। এদিকে আদালতে জিয়াউল হক জিয়া নিজকে নির্দোষ দাবী করে বলেন, তিনি রামগঞ্জ থেকে চার চার বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক জোট সরকারের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তার জনপ্রিয়তা ইর্ষানিত হয়ে তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় পতিপন্ন করার জন্য এ মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। জিয়াউল হক জিয়ার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট সালাউদ্দিন কামরান, এডভোকেট এবিএম জাকারিয়া, এডভোকেট আবদুর রহমান, এডভোকেট শাহাদাত, এডভোকেট আবদুল হক প্রমুখ এবং দুদকের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন দুদকের পিপি এডভোকেট সামছুদ্দিন। জিয়াউল হক জিয়াকে আদালতে হাজির করার খবর পেয়ে ল²ীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সহস্রাধিক নেতাকর্মী আদালত পাড়ায় ভিড় জমায়। এসময় আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।






