চ. নো. রিপোর্ট- নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে ক্রমাগত ডাকাতির ঘটনায় অতিষ্ট সাধারণ মানুষের ােভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। শনিবার গভীর রাতে ুব্ধ গ্রামবাসীর গণপিটুনীতে নিহত হয়েছে ৩ ডাকাত এবং ১ ডাকাত আহত হয়। উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের হাসেম বাজার এলাকায় এই ঘটনায় নিহত ডাকাতরা হচ্ছে মোস্তফা (৪০), মাঈন উদ্দিন (৩৫) ও মমিন উল্যা (৩৮)। আহত ডাকাত সদস্যের নাম আজাদ (৩৮)। এ সময় ডাকাতদের হামলায় আহত হয়েছে ৬ গ্রামবাসীও। আহত ডাকাত ও গ্রামবাসীদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় (রোববার বিকাল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত) পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ ও এলাবাসী জানায়, গত ক’দিন ধরে কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ক্রমাগত ডাকাতির ঘটনা ঘটে। শনিবার গভীর রাতে চরএলাহী ইউনিয়নের গাংচিল গ্রামের আবুল হাশেম ও ফুলবানুর বাড়িতে পৃথক দুইটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ১০/১২ জনের সশস্ত্র ডাকাত দলর বাড়ি দুটিতে বসত ঘরের দরজা ভেঙ্গে ও সিঁদ কেটে ঘরের লোকজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ ৭০ হাজার টাকাসহ প্রায় ১ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ডাকাতদল চলে যাওয়ার সময় বাড়ি দুইটির লোকজন শোরচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ডাকাতেরা গ্রামবাসির উপর হামলা চালিয়ে কয়েকজনকে আহত করে। এতে গ্রামবাসি আরো উত্তেজিত হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে আশপাশের গ্রামের লোকজনও ডাকাতদের ধাওয়া করে চরের হাসেম বাজারের বেঁড়ি বাঁধের কাছে চারজনকে আটকে গনপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তিন ডাকাতের মৃত্যু হয়। আহত হয় এক ডাকাত এবং অন্যরা পালিয়ে যেতে সম হয়। এসময় ডাকাতদের হামলায় নুরু (৩৫), খলিল (৩৮), সেলিম (২৮), সামছু উদ্দিন (৩২), মোহাম্মদ উল্যা (৩১), জাহাঙ্গীর (৩২) নামের ৬ গ্রামবাসী গুরুতর আহত হয় । আহত গ্রামবাসীদের নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহত তিন ডাকাতের মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ও আহত ডাকাতকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে। নিহত ও আহত ডাকাতদের বাড়ি পাশ্ববর্তী কবিরহাট উপজেলার নবগ্রামে। এনিয়ে জানতে চাওয়া হলে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসাইন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এটি মানুষের ােভেরই বহিঃপ্রকাশ। ঘটনাস্থল থেকে তদন্ত করে পুলিশ এখনো ( রোববার বিকাল সাড়ে ৫টা) ফিরেনি। তবে ডাকাতির ঘটনায় একটি মামলা এবং ডাকাত নিহত হবার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৪/৫’শ মানুষের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। উল্লেখ্য, এর আগে শুক্রবার রাতে উপজেলার পান্ডিতের হাট ও চরফকিরা চরকালী গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের তিন সদস্য ল²ীপরের রামগঞ্জ থানার ডুমুরিয়া গ্রামের জালাল আহম্মদের ছেলে ডাকাত সর্দার মহসিন (৩৮), নোয়াখালীর চরজব্বর থানার চররশিদ গ্রামের মনতাজ উদ্দিনের ছেলে আজাদ (৩৫) ও কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া গ্রামের মোর্শেদ সর্দারের ছেলে আলা উদ্দিন (৩৭) কে আটক করে গণপিটুনি দেয় স্থানীয় জনতা। পরে গুরুতর আহতাবস্থায় পুলিশ তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে পরে রাতে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।






