চ. নো. রিপোর্ট- পারিবারিক কলহ আর বিপুল পরিমান আর্থিক ঋণ পরিশোধ করতে না পারার হতাশায় নোয়াখালী জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব মুক্তিযোদ্ধা নেপাল চন্দ্র দে’র আত্মহত্যা করেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি নোয়াখালী শহীদ ভুলু ষ্টেডিয়ামের দোতলার একটি কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। রোববার বিকালে জেলা শহর মাইজদীর দেবালয় শ্মশাণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ক্রীড়া সংস্থা সুত্রে জানা যায়, পৌরকল্যাণ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক মুক্তিযোদ্ধা নেপাল চন্দ্র দে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব হিসেবে চাকরীরত ছিলেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামের দোতলার রেস্টরুমের একটি কক্ষে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে সুধারাম থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেন। ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। এছাড়া ঐ কক্ষ থেকে আত্মহত্যার কারণ উল্লেখ করে একটি চিঠি তাঁর লিখে যাওয়া চিঠিও উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নোয়াখালীর ক্রীড়াঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলেসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে যান। রোববার সকালে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে পুলিশ পরিবারের কাছে তার লাশ হস্তান্তর করে। বিকালে শেষকৃত্যানুষ্ঠানে একরামুল করিম চৌধুরী এমপি, বরকত উল্যা বুলু এমপি, জেলা প্রশাসক মো: মিজানুর রহমান, পুলিশ সুপার খন্দকার লুৎফল কবির, পৌর মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজন উপস্থিত ছিলেন। জানা যায়, নেপাল দে আর্থিক টানাপাড়োনের কারণে ঋণগ্রস্থ ছিলেন। বিপুল পরিমান ঋণ পরিশোধ নিয়ে তাঁর মধ্যে কয়েকদিন ধরে হতাশা দেখা দেয়। তাছাড়া পরিবারের সদস্যদের সাথে তাঁর বনিবনা হচ্ছিলোনা কয়েকদিন ধরে। মৃত্যুর পূর্বে তিনি পূর্বে তিনি আত্মহত্যার কারণ হিসাবে একটি চিঠি লিখে যান। তাতে উল্লেখ করা হয় আর্থিক টানাপোড়েনের কারণে তিনি জেলা ক্রীড়া সংস্থার কিছু টাকা বেআইনীভাবে খরছ করেছেন। এছাড়া তাঁর ছেলেকে যাতে নোয়াখালী পৌরসভায় একটি চাকরী দেয়া হয় এবং বর্তমানে বসবাসরত জায়গা (বাসা) থেকে তাঁর পরিবার পরিজনদের উচ্ছেদ করা না হয়।






