চ. নো. রিপোর্ট- নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় সন্তান প্রসব করাতে গিয়ে নবজাতকের দেহ খন্ডিত করার অভিযোগ উঠেছে দন্ত বিভাগের প্রশিণপ্রাপ্ত মেডিক্যাল এ্যাসিস্টেন্টের বিরুদ্ধে। শুক্রবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল এ্যাসিস্টেন্ট ইকবাল আনসারীর লোভাতুর কর্মযজ্ঞে পড়ে তিন দিন ধরে অসহনীয় যন্ত্রণায় ছটপট করার পর নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রোবাবার সকালে অস্ত্রপ্রচারের পর এ যাত্রায় বেঁচে গেছে প্রসূতি আলেয়া বেগম (২২)। এনিয়ে গোটা জেলায় তোড়পাড় শুরু হলে রোববার তাৎণিকভাবে অভিযুক্ত মেডিক্যাল এ্যাসিস্টেন্ট ইকবাল আনসারীকে কবিরহাট উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলী করা হয়েছে। এছাড়া হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ নাজিম উদ্দিনকে আহবায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন সিভিল সার্জন। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হাতিয়া উপজেলার তমরুদ্দি ইউনিয়নের আঠারভিটি গ্রামের বাসিন্দা আলেয়া বেগমের স্বামী আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, শুক্রবার তার স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হলে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। জরুরী বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেডিকেল এ্যাসিসটেন্ট ইকবাল আনসারী রোগীনির ঝুকিঁমুক্ত ডেলিভারি করাতে ১২ হাজার টাকা দাবী করে। পরে সাড়ে ৮ হাজার টাকায় চুক্তি হবার পর রোগীকে অপারেশন রুমে নিয়ে ইকবাল আনসারী ডেলিভারি করাতে গিয়ে গলার নিæ ভাগ দেহ থেকে দ্বি-খন্ডিত করেন। বহু চেষ্টার পর শিশুটির মাথা বের করতে পারেনি। এছাড়া ফোরসেপের নামে রোগীণীর নিæাঙ্গে তবিত করে। অতিরিক্ত রক্ত রণ ও রোগীনির অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে জেলা শহর মাইজদীতে নিয়ে যাওয়া পরমর্শ দিয়ে দায়মুক্ত হন। শনিবার বিকালে যন্ত্রণাকাতর আলেয়া বেগমকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোববার সকালে গাইনী বিভাগের কনসাল্টেন্ট ডাঃ সামছুন্নাহার অস্ত্রপ্রচারের মাধ্যমে নবজাতকের মাথাটি বের করেন। রক্তসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়ার পর হতভাগ্য প্রসূতি এখন শংকামুক্ত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাতিয়ার স্থানীয় অধিবাসী স্বাস্থ্য সহকারি ইকবাল আনসারী তার চাকুরীর শুরু হতে প্রায় ২০ বছর এখানে কর্মরত থেকে একচ্ছত্র মতার অধিকারী হয়ে উঠেন । উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনী কনসাল্টেন্ট কিংবা প্রসূতি বিদ্যায় প্রশিণপ্রাপ্ত মেডিক্যাল অফিসার না থাকায় তিনি হরহামেশাই গর্ভবতী মায়েদের ডেলিভারীর মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করেন মোটা অংকের টাকা নিয়ে। এনিয়ে জানতে চাওয়া হলে ম্যাডিক্যাল এ্যাসিস্টেন্ট ইকবাল আনসারী নবজাতকের দেহ খন্ডিত করা অভিযোগ অস্বীকার করে সমকালকে বলেন, আলোয়া বেগমের প্রসব যন্ত্রনা ওঠার পর বাড়িতে ডেলিভারীর চেষ্টা করার হয় এতে নবজাতকের পা আগে চলে আসায় টানাটানি করার কারনে চামড়া ঢিলে হয়ে যায়। রোগীর আত্মীয় স্বজনের পীড়াপীড়ির পর তিনি নোয়াখালী প্রাইভেট হাসপাতালের ডাক্তার মাসুম আক্তারের সাথে পরামর্শ করেন চিকিৎসা দেন। প্রসূতির অবস্থার আশংকা জনক হওয়ায় তিনি জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন। দাঁতের প্রশিন প্রাপ্ত হয়ে গাইনী রোগী দেখা কারণ এবং কোন প্রশিণ রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কয়েকজন মেডিক্যাল অফিসারের নাম উল্লেখ করে বলেন তাঁদের সাথে কিছুদিন কাজ করেছি; কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের গাইনী বিভাগের কনসাল্টেন্ট ডাঃ সামছুন্নাহারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বাচ্ছার পা আগে আসায় এ সমস্যা হয়েছে। এমটি হতে পারে তবে যেহেতু হাতিয়ায় কোন গাইনীর ডাক্তার নেই তাই এভাবে চেষ্টা করা ঠিক হয়নি। প্রয়োজনীয় অস্ত্রপচার ও চিকিৎসা দেয়ার পর এখন মা (আলেয়া বেগম) ভালো আছে। এদিকে সিভিল সার্জন ডাঃ কামাল উদ্দিন তদন্ত কমিটি গঠন এবং ইকবাল আনসারীকে প্রত্যাহারের কথা স্বীকার করেন। তদন্ত কমিটির প্রধানের সাথে ইকবাল আনসারীর সখ্যতার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন কোন ভাবেই তদন্তে গাফিলতি মেনে নেয়া হবে না।






