নোয়াখালীতে পানিতে ডুবে ঘর চাপায় নিহত-৪ : ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দী

চ. নো. রিপোর্ট- ঘূণিঝড় আইলার প্রভাবে নোয়াখালী উপকূলে ৭ফুট উচ্ছতার জোয়ারের পানিতে আটকা পড়ে পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছে ২০ হাজার পরিবার। নিঝুম দ্বীপ, নলের চর, কেরিংচর, ঢালচরসহ আশপাশের চরগুলোতে জোয়ারের তোড়ে ভেসে গেছে শতাধিক ঘরবাড়ি। পানিতে ডুবে এবং ঘর চাপা পড়ে নিহত হয়েছে ৫জন। তবে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা হচ্ছে। সরকারের উদ্ধার তত্পরতা এবং দূর্যোগ প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে য়তির বেশি হয়েছে বলে চরাবাসীর ক্ষোভের সাথে জানায়। হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসেম জানিয়েছেন নিঝুম দ্বীপে নাজমা (১০) নামের এক শিশু পানিতে ডুবে মারা যায়। প্লাবিত এলাকা ঘুরে এসে হাতিয়ার কানুনগো শ্রীমান ভট্ট জানিয়েছে বয়াচরের গাবতলী এলাকাল বেড়ি বাইরে ঘর চাপা পড়ে রাজিব (২৪) ও আরিফ (১৭) নামের দুইজনের মৃত্যু ঘটেছে। কেরিংচরের পার্শ্ববর্তী চরবাশারের কাছে একটি নৌকা উল্টে ১২ বছরের এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এদিকে কেরিংচর থেকে সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার উন্নয়কর্মী আলাউদ্দিন মোবাইলে জানান, কেরিংচরের ৪ হাজার ঘরের ৯০ ভাগ ঘরে জোয়ারের তোড়ে ভেসে গেছে। এখন পর্যন্ত তিনি এখানে ৪জনের মৃতুর খবর শুনেছেন। হাতিয়া উপজেলা রেডক্রিসেন্টের উপপরিচালক গোলাম কিবরিয়া জানিয়েছেন সুখচরে দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন তবে নিশ্চিত হননি এখনো।

জানা যায়, সকাল ৯টায় জোয়ারের তীব্রতা বেড়ে যায় ৬/৭ ফুট উচ্ছতায় নোয়াখালীর সর্বদেিণর জনপদ নিঝুম দ্বীপে রাস্তাঘাট সব তলিয়ে যায়। ৭ ফুট পানিতে আটকা পড়ে এখানকার ১০ হাজারেরও বেশি পরিবার। এছাড়া জেয়ারের তোড়ে দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার তমরুদ্দি ইউনিয়নের আঠারবেগি, খিরুলিয়া ও কোরালিয়া এলাকা এবং সোনাদিয়া ও সুখচর ইউনিয়নে বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে জোয়ারের পানি প্রবেশ করে ৭/৮ ফুট পানিতে প্লাবিত হয়। চরচেঙ্গা বাজার এলাকায় বেড়ি বাঁধ ভেঙ্গে এবং বাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করে সহস্রাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। প্রচন্ড বাতাসের কারণে ভাটা নামলেও জোয়ারের পানি নামতে পারছেনা । এদিকে জোয়ারের তোড়ে হাতিয়ার নলের চর, কেরিংচর, নঙ্গলিয়ার চরে ৬ ফুট উচ্চতার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। জোয়ার আঘাত হানে বয়ারচরেও। এসকল এলাকায় জোয়ারের তোড়ে বেঁড়ি বাঁধ ভেঙ্গে যায়। কেরিংচর এবং নলের চরে ১১ হাজার পারিবার পানিবন্দী হয়ে পড়ে। তবে কেরিংচরের সাহেবানি বাজার, বাতানখালী বাজার এবং মজিব বাজার এলাকায় শতাধিক ঘরবাড়ি জোয়ারের তোড়ে ভাসিয়ে গেছে বলে জানা যায়। তিগ্রস্থ মানুষজন তাদেরকে উদ্ধারে সরকারের তত্পরতার ছিলোনা বলে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। এসব নিয়ে জানতে চাওয়া হলে হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসেম বলেন, মানুষজনকে মাইকে রোববার রাতে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। মানুষজন সরে না আসায় তি বেশি হয়েছে। উদ্ধার তত্পরতার বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান।

বিশেষ প্রতিবেদন