দূর্যোগপ্রবণ নোয়াখালী উপকূলের বিপদাপন্ন মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবে কে ?

চ. নো. রিপোর্ট- নোয়াখালী উপকূলের দূর্যোগপ্রবণ চরাঞ্চলগুলোতে বিপদাপন্ন মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াবে কে এই প্রশ্ন এখন সর্বত্র। ঘূর্ণিঝড় আইলার প্রভাব থেকে বাঁচতে নলের চরের থানার হাঁট ক্যাম্পের পুলিশ নদী পেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বয়ারচরে। অথচ নোয়াখালীর মূলভুখন্ড সংলগ্ন নলের চর, কেরিংচর, চরবাশারসহ ছোট ছোট চরের মানুষগুলোকে সরিয়ে আনতে সরকারি তত্পরতা তেমন চোখে পড়েনি। হাতিয়া ভূমি অফিসের কানুনগো ছাড়া দিনের বেলায় কোন সরকারি কর্মকর্তা যায়নি দূর্গম চরগুলোতে। এনিয়ে হাতিয়া উপজেলা এবং জেলা প্রশাসন থেকে বলছে মাইকিং করা হয়েছে লোকজন যাতে নিরাপদ দূরত্বে সরে যায় কিন্তু মানুষ আসেনি। কেরিং চরের বাতানখালী বাজারে নিজের ঘরের চালে অবস্থান নেয়া উন্নয়নকর্মী আলাউদ্দিন মোবাইলে এ প্রতিনিধি ােভে সাথে জানালেন জোয়ারের পানিতে যেখানে চরের ৯০ভাগ ঘর ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সেখানে প্রশাসনের কাউকেই তাঁরা দেখেননি বিপদগ্রস্থ মানুষগুলোকে উদ্ধার করে নিয়ে যেতে। কত মানুষ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে তা পানি নামা ছাড়া বলা যাবে না। নলের চরের আল-আমিন বাজারের সফি উল্যা জানালেন, কোন দূর্যোগ দেখা দিলে রেডক্রিসেন্ট, এনজিও, পুলিশসহ সরকারের লোকজন আগে নিজেরা নিরপদ দূরত্বে সরে যায়। কিন্তু চরের মানুষকে উদ্ধার করতে তাদের তত্পরতা চোখে পড়ে না। গতকাল সোমবারও তাই ঘটেছে। নলের চরের খবর জানার জন্য থানার হাঁট ক্যাম্পের ইনচার্জের মোবাইল নাম্বার জানতে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নাম্বারে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পানি উঠে যাওয়ায় বিকালেই ক্যাম্পের সকল সদস্য বয়ারচরে আশ্রয়কেন্দ্রের আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে পুলিশের কোন লোক নেই। এটিই যখন বাস্তবতা তখন হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসেম, প্লাবিত এলাকা ঘুরে আসা হাতিয়ার কানুনগো শ্রীমান ভট্ট জানালেন, রোববার রাত থেকে মাইকে লোকজনকে নিরাপদ দুরত্বে সরে যেতে বলা হয়েছে। মানুষজন গরু-ছাগল কিংবা ঘরবাড়ির মায়া ছেড়ে যেতে না চাইলে তারা কি করবেন। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জেলা প্রশাসন থেকে কোন কর্মকর্তা প্লাবিত এলাকা পরিদর্শনে যাননি। কেবলমাত্র জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুবর্নচর উপজেলার বেড়ি সংলগ্ন ভূমিহীন বাজারে গিয়েছেন। উল্লেখ্য, শুধুমাত্র নোয়াখালীর মূলভুখন্ড সংলগ্ন এলাকার বিচ্ছিন্ন চরগুলোতেই প্রায় ১৫ হাজার পরিবারের বসবাস। এ প্রসঙ্গে বয়ারচরে অবস্থানরত হাতিয়ার কানুনগো জানিয়েছে বয়ারচরে যে দুজন মারা গেছে তাদের পরিবারকে ১ হাজার টাকা করে দেয়া হয়েছে। বয়ারচরে ১টি ট্রলার প্রস্তুত রয়েছে। যে কেউ আসতে চাইলে তাকে নিয়ে আসা হবে। জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দীপক চক্রবর্তীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জেলা শহর থেকে তিগ্রস্থ এলাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেও গাছ উপড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে থাকায় তারা ফিরে আসতে হয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদন