রুদ্র মাসুদ, নোয়াখালী উপকূল থেকে ফিরে- নোয়াখালী উপকূলের নলের চর এবং কেরিংচরের মাঝামাঝি অবস্থিত পাতার চরের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব মমিন উল্যা। স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে থাকেন নদীর তীরের ঝুপড়ি ঘরে। ঘূর্ণিঝড় আইলায় তাঁর ঘরটি ফেলে দিলেও এযাত্রায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি। আতংকিত মমিন উল্যার মতে ‘সিডরের মত তুফান ওইলে বে¹ুন মরি ছাফ অইযাইতো’ (সিডরের মতো ঝড় হলে সবমানুষ মরে যেতো)। শুধু মমিন উল্যা নয় তাঁর মতো চরের সব মানুষই মনে করে য়তি হলেও তাঁরা বেঁচে গেছে। নলের চরের আবুল কাসেম জানালেন, প্রলয়ংকরি ঘূর্ণিঝড় সিডরের সময় এখানে মারা গেছে মাত্র ১টি শিশু। সেদিন সিডর এই চরগুলোতে আঘাত হানলে কি পরিণতি হতো এই চরে এসেছে তাদের সবাই তা অনুমান করতে পারছে এখন। আবুল কাসেম আর মমিন উল্যার মতে চরের মানুষ এখনো আঁতকে উঠে মাত্র ৪দিন আগে চোখের সামনে ঘূর্ণিঝড় আইলার ভয়াবহতা দেখে। সরেজমিনে চরের বসবাসরত ভূমিহীনদের সাথে আলাপ করে, নোয়াখালীর উপকূলের নলেরচর, কেরিংচর, চরবাশার, পাতার চর, নামার চর, দমার চর, মৌলভীর চর, নঙ্গলিয়ার চর এবং নিঝুম দ্বীপের একটি অংশে কোন বেড়ি বাঁধ নেই। অথচ এখানে বসবাস করে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার। একসময় এ চরগুলোতে ছিলে গাঢ় সবুজ বন। সেই বন উজাড় করে বনদস্যুরা ৫’শ থেকে ৫ হাজার টাকায় দাগ (প্লট) বিক্রি করেছে ভূমিহীনদের কাছে। নাম মাত্র দামে দেড়/দুই একরের প্লট লুপে নিয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচরে পূর্বে জাতীয় পরিচয় পত্র তথা ভোটার আইডি কার্ডও করেছে চরের মানুষগুলো। কিন্তু সরকারি ভাবে এই চরগুলোতে কিছু টিউবওয়েল বসানো ছাড়া কোন ধরণে মানবিক সাহয্যের ব্যবস্থাও নেই। স্বাভাবিক জোয়ারের যেখান চরগুলো প্লাবিত হয় সেখানে দূর্যোগ মোকাবেলায় কোন বেঁড়ি বাঁধ নির্মাণ কিংবা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র এমনকি মাটির কিল্লাও নেই। পাশাপাশি দুর্যোগকালীন সময়ে এচরগুলোতে বসবাসরত পরিবারগুলোকে উদ্ধারেও সরকারের কোন প্রস্তুতি নেই। ঘূর্ণিঝড় আইলায় ব্যাপক য়তির পরও এখানকার মানুষ রেডক্রিসেন্টের কোন কর্মকর্তা কিংবা কর্মীকে দেখেনি। এ পরিস্থিতিতে চরগুলো পরিণত হয়েছে রীতিমতো মৃত্যু উপত্যাকায়। তাই ভূমিহীনদের দাবি চরাঞ্চলের মানুষকে বাঁচাতে হলে অভিলম্বে বেঁড়ি বাঁধ নির্মাণ, কিল্লা কিংবা ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণের। উল্লেখ্য, সোমবার ঘূর্ণিঝড় আইলার প্রভাবে নোয়খালী উপকূলে পানিতে ডুবে এবং ঘর চাপা পড়ে মারা গেছে ৩০জন। জোয়ারের তোড়ে ভেসে এবং বিধ্বস্থ হয়েছ ৫ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি। এবিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে হাতিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসেম এচরগুলোর বাসিন্দারা দূর্যোগজনিত মৃত্যু ঝুঁকিতে থাকার কথা স্বীকার করে শুধু বলেন, আমরা সাইকোন সেন্টার ও বেড়ি নির্মাণের জন্য লিখেছি। এগুলো ছাড়া মানুষজনকে দূর্যোগ থেকে বঁচানো যাবে না।






