রুদ্র মাসুদ- এখন দল মতায় অথচ জেলায় দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কোন কর্মসূচী পালিত হয়নি এটা দুঃখজনক। প্রতিষ্ঠাবার্ষীকিতে কোন কর্মসূচী না থাকায় তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা হতাশ হয়েছে। সরকারি দল আওয়ামীলীগের ৬০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে কোন কর্মসূচী পালন না করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সমকালের কাছে এভাবেই নিজের প্রতিক্রীয়া ব্যক্ত করেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সুবর্নচর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্য খায়রুল আনম সেলিম। শুধু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয় মহাজোট মতায় আসার পর জোটের প্রধান শরিক আওয়ামীলীগের কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচীগুলোর অবস্থা এরকমই। সর্বশেষ দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতেও মঙ্গলবার কোন কর্মসূচী পালিত হয়নি জেলার কোথাও। একে অন্যের ওপর দোষ চাপিয়ে দায় এড়াতে চাইছেন নেতারা। অথচ গত ৬ মাস ধরেই তারা ব্যস্ত রয়েছেন ভাগবাটোয়ারা নিয়ে। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে নোয়াখালীর জেলা পরিষদের ইজারার সিডিউল নিয়ে লংকা কান্ড বাধায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ হানিফ ঢাকায় অবস্থান করছেন। আর সংসদ অধিবেশনে অংশ নিতে ঢাকায় অবস্থান করছেন সাধারণ সম্পাদক সদর আসনের এমপি একরামুল করিম চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরাও এগিয়ে আসেনি দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে। ফলে জেলা ও উপজেলা শহরে মঙ্গলবার কোন কর্মসূচী পালিত হয়নি। এনিয়ে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে ােভ দেখা দিয়েছে। তবে বুধবার বিকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের উদ্যোগে শেষ পর্যন্ত বসুরহাট বাজারে র্যালী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক আওয়ামীলীগ নেতা জানান, মহাজোট সরকার মতায় আসার পর নোয়াখালীতে ক্রমেই আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক কর্মকান্ড স্থবির হতে থাকে। বিএনপি জমাত জোট সরকারের সময়ে যারা আন্দোলনের পরিবর্তে আঁতাত করেছে তারাই এখন আওয়ামীলীগের ত্রাণ কর্তা। কেউ কেউ ভায়রা, বেয়াই এবং বন্ধুর স্বার্থ রায় আবার কেউ বিএনপি-জামাত জোটের সময়ে নেয়া সুযোগ সুবিধার প্রতিদান দিতে ব্যস্ত। এসকল নেতারা সেজেগুজে প্রতিদিন সকাল থেকে অফিস চলা পর্যন্ত সড়ক ও জনপথ বিভাগ, এলজিইডি, ফ্যাসিলিটিজ, গণপূর্ত, পাবলিক হেলথ্, জেলা পরিষদসহ সরকারি দপ্তরগুলোতে বসে ভাগবাটোয়ারায় ব্যস্ত থাকে। কেউ কেউ আবার সরকারি, বেসরকারি এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলোর কমিটির পদ দখলের লড়াইয়ে রয়েছেন। কমিটি গঠনের সময় গ্র“পিংয়ের কারণে অযোগ্য লোক এবং ভিন্ন জেলার হওয়া স্বত্তে¡ও অনেকে কমিটির গুরুত্বপূণ পদে স্থান পাওয়ায় এমনটি হচ্ছে বলে তারা ােভের সাথে জানান। তাদের মতে সরকারি অফিসগুলোতে যে পরিমান নেতাকর্মী ঘোরাফিরা করে তারা একত্রিত হলেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান করা যেতো। কারণ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচীতে অংশ নিতে জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে সাধারণ নেতাকর্মীরা গেলেও শুধুমাত্র নেতৃবৃন্দ না থাকায় কোন কর্মসূচী পালিত হয়। একই অবস্থা উপজেলা পর্যায়েও। এনিয়ে জানতে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ হানিফের মোবাইলে বারবার যোগাযোগ করেও মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি বলেন, সংসদে বাজেট অধিবেশন চলায় তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে অন্যরা উদ্যোগ নিয়ে কর্মসূচী পালন করতে পারতো। আগামি দিনগুলোতে সাংগঠনিক কর্মকান্ড সক্রিয় রাখতে তিনি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিবেন।






