লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করে সপ্তাহে ২-৩দিন অফিস করেই পাড়ি জমান কক্সবাজারে। অনিয়মিত অফিস করার মাঝেই তিনি ঘটিয়েছেন এক কান্ড। সার্টিফিকেট প্রদানের নাম করে জোরপূর্বক রোগীর আত্মীয়দের নিকট থেকে আদায় করেছেন নগদ ১১ হাজার টাকা। কিন্তু বিধি বাম। সে টাকা ভোগ করে আয়েসি ঢেকুর তুলতে পারেননি তিনি। চাপের মুখে তাকে ফেরত দিতে হয়েছে ৮ হাজার টাকা। বাকী টাকা তিনি মা চেয়ে নিয়েছেন। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটিয়েছেন রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার কালিপ্রদ দাস (কে.পি দাস)। ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষের আহত কাঞ্চনপুর গ্রামের ভূইয়া বাড়ির জনৈক রোগীকে ১৫-১৬ দিন পূর্বে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। সংঘর্ষের ঘটনায় রোগীর পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপ ডাক্তারের সনদ চাইলে তিনি তা দিতে গড়িমসি করেন। এর এক পর্যায়ে তার সহকারী জনৈক জাকিরের মাধ্যমে যোগাযোগ হয় রোগীর লোকজনের। ১১ হাজার টাকার বিনিময়ে দফারফায় তিনি সার্টিফিকেট প্রদানে সম্মত হন। যথারিতি ১১ হাজার টাকা নিয়ে সার্টিফিকেট প্রদান করেন কে.বি দাস। কিন্তু সার্টিফিকেট পেয়ে ডাক্তারের জিম্মি দশা থেকে উদ্ধার পেয়ে বেঁকে বসেন রোগীর লোকজন। তারা ঘুষ নেওয়া টাকা ফেরত প্রদানের জন্য ডাক্তারকে চাপ প্রদান করেন। রোগীর লোকজন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করেন। ডাক্তারের সহকারী জাকির স্বাস্থ্য কর্মকর্তার সম্মুখে টাকা গ্রহণের ঘটনা স্বীকার করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে ছুটি নিয়ে কক্সবাজারস্থ বাড়িতে চলে যান ডাঃ এবং ফিরেন গত সোমবার। রোগীর লোকজন সিভিল সার্জনের নিকট যেতে চাইলে কে.পি দাস গত বৃহস্পতিবার হাসপাতাল সম্মুখস্থ এস.জাহান ফার্মেসীর মাধ্যমে রোগীকে ৮ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে বাকী টাকা খরচ হয়ে বলে মাফ করে দিতে বলেন। এদিকে টাকা গ্রহণের মধ্যস্থতাকারী জাকির হোসেন সাংবাদিকদের নিকট ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। হাসপাতাল সম্মুখস্থ এস.জাহান ফার্মেসীর মালিক আকরাম হোসেন বলেন, ডাক্তার কে.বি দাসের রেখে যাওয়া ৮ হাজার টাকা তাঁর কথামতো এক ব্যক্তিকে প্রদান করা হয়েছে। এর বেশি কিছু আমরা জানিনা। তবে এটি ঘুষের টাকা ফেরত বলে পরে আমরা শুনেছি। ঘুষ প্রদানকারী রোগীর আত্মীয় নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা ডাক্তারের চাপের মুখে ১১ হাজার টাকা ঘুষ প্রদান করতে বাধ্য হই। আমাদেরকে ১১ হাজার টাকা মধ্যে ৮ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। বাকী টাকা তিনি মাফ চেয়ে নিয়েছেন। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত ডাক্তার কে.বি দাস বলেন, আমি ধরণের কোন ঘটনায় জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করা হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ মফিজুল আলম বলেন, ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি রোগী ও তার লোকজন আমাকে অবহিত করেছিল। কিন্তু লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় কোন ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। অনিয়মের বিষয়টি আমি দেখবো।



