নোয়াখালীর চৌমুহনীতে আওয়ামীলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ আহত-২০,গ্রেপ্তার-৫

চ. নো. রিপোর্ট- নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব মামুনুর রশিদ কিরনের প্রাণনাশের চেষ্টার প্রতিবাদে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে প্রতিপ গ্র“পের হামলা এবং এনিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ উভয়পরে কমপে ২০জন আহত হয়েছে। শনিবার বিকাল ৫টায় বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয় থেকে সংঘর্ষের সুত্রপাত ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে যুবলীগ নেতা ফয়েজ উল্যা মহিন (৩৫), উপজেলা যূবলীগ সভাপতি জহিরুল ইসলাম (৩৫), যুবলীগকর্মী লেলিন (২৮), মাসুম (২৬), জহিরু ইসলাম (৩৫), সুজন(২৮), ও রিয়াজ (২৮)কে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় কিনিকে ভর্তি করা হয়। বিকাল ৭টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলাকালে জেলার প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনী রণেেত্র পরিণত হয়। এসময় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেদড়ক লাঠিচার্জ করে। সন্ধ্যা সোয়া ৮টা পর্যন্ত পুলিশ অভিযান চালিয়ে সালাহ উদ্দিন(১৭), সম্রাট ওরপে পিন্টু (২৩), নুর হোসেন ওরপে মুন্না (১৮), ইয়াকুব ওরপে রাজু (১৮) ও জয়নাল আবেদীন (১৮) নামে ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে। যে কোন সময় সংঘর্ষের আশংকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও চৌমুহনীতে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

জানা যায়, শনিবার বিকাল ৫ টায় জেলার প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র চৌমুহনীর গোলাবাড়িয়ায় আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশিদ কিরন তাঁর প্রাণনাশের চেষ্টার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন আহবান করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১ টায় লোক মারফত তাকে তাকে বোমা মেরে হত্যা করার ষড়যন্ত্র ও নাজিরপুরের আজিম মিয়ার বাড়িতে বোমা সহ সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে বলে জানতে পারেন। এখবর পেয়ে তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও সন্ত্রাসীদের জামা কাপড় পড়ে থাকতে দেখেন। তবে তিনি যাবার পূর্বেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। বিষয়টি রাতে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশে খবর দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পালিয়ে আসা সন্ত্রাসী গ্র“পের সদস্য দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে মামুনুরি রশিদ কিরণের ওপর হামলার জন্য তাকে ভাড়া করার বিস্তারিত বর্ণনা শুরু করলে হৈ চৈ শুরু করে কয়েকজন আওয়ামীগ ও যুবলীগ নেতা। সংবাদ সম্মেলনে দেলোয়ার আরো জানায়, কিলার গ্র“পের প্রধান কসাই জাহাঙ্গীর(৩০), মাসুদ(২৬), সোহেল (২৮), আনোয়ার হোসেন ওরপে বাংলা আনোয়ার (২৬), রুবেল (২৫), হেলাল (২৬) ও স্বপন (২৫) ছিল। সাংবাদিক সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ উল্যার সমর্থিত উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী বেলায়েত হোসেন রাজু চেয়ার থেকে ওঠে হট্রগোল সৃষ্টি করলে উভয় পরে মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে উভয় পরে মধ্যে হাতাহাতি ও চেয়ার মারামারি হয়। এসময় দৈনিক যায়য়াদিনের বেগমগঞ্জ সংবাদদাতা মিজানুর রহমান ও দৈনিক নয়াদিগন্তের জেলা সংবাদদাতা মুহাম্মদ হানিফ ভূঁইয়া আহত হয়।

এ অবস্থায় মামুনুর রশিদ কিরণ সাংবাদিক সম্মেলন শেষ করে দলীয় কার্যালয় ত্যাগ করে চলে যাবার পর তাঁর অনুসারীরা মিছিল নিয়ে চৌরাস্তা যাবার পথে করিমপুর রোডে পৌঁছলে চৌমুহনী পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম , যুবলীগ কর্মী ফরহাদ ও ছাত্রলীগ নেতা হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বে মিছিলের ওপর হামলা হয়। এতে যুবলীগ নেতা ফয়েজ উল্যা মহিনসহ কমপে ১৫জন আহত হয়। এনিয়ে উভয় পরে মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। এসময় পাশে দিয়ে যাবার সময় হামলায় উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জহির উদ্দিনের মাথা ফেটে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ বেদড়ক লাঠিচার্জ কÍে উভয়পকে ছাত্রভঙ্গ করে দেয়। দুই ঘন্টাব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষে চৌমুহনীর প্রধান সড়ক রণেেত্র পরিণত হয়। আতংকিত মানুষ দিগি¦দিক ছুটেছুটি করতে থাকে। এসময় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫জনকে গ্রেফতার করে।

এরিপোর্ট লিখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) বেগমগঞ্জ থানায় কোন পই মামলা করেনি বলে জানিয়েছে বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম। তিনি জানান পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক মামুনুর রশিদ কিরন জানানা, তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে কারো তাঁর হত্যা প্রচেষ্টার জন্য নির্দিষ্টভাবে কাউকে দায়ী করেননি। তিনি বিষয়টি পুলিশের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। প্রকৃত অপরাধীদের খুঁজে বের করা দরকার।

রাজনৈতিক সংবাদ