রুদ্র মাসুদ- অব্যাহত নদী ভাঙ্গনের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে নোয়াখালী উপকূলের সর্ববৃহৎ মাছ ঘাট দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট। ফলে এখানকার মাছের আড়তদার, মাছ ব্যবাসায়ীসহ দুই শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্টান নদীতে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ অবস্থায় ভাঙ্গন রোধে আপতত কোন উদ্যোগ নেই বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চেয়ারম্যান ঘাটের ব্যবসায়ীরা জানায়, নোয়াখালীর মূলভুখন্ডের সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ থাকায় ২০০৬ সাল থেকে হাতিয়ার বয়ারচরের চেয়ারম্যান ঘাট ব্যাপক প্রসার লাভ করে। হাতিয়া থেকে মাছের আড়তদাররা এসে জড়ে হয় এই ঘাটে। বর্তমানে এই ঘাটে বৃহৎ আকারের ৫৪টি মাছের আড়ত ছাড়াও অসংখ্য মাছ ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা মাছ কিনে বরফ দিয়ে
প্রকৃয়াজাত করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করেন। মাছ ব্যবসা এবং হাতিয়ার সাথে নোয়াখালীর মূলভুখন্ডের নৌপথে যোগাযোগের েেত্র এই ঘাট ব্যবহৃত হওয়ায় এখানে খাবারের হোটেলসহ নানাবিদ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন জেলে, মাঝি, আড়তদার আর যাত্রীদের কোলাহলে মুখরিত থাকে ঘাট। সরেজমিনে গেলে চেয়ারমঘান গিয়ে দেখা যায় হাতিয়া নদীর তীব্র জোয়ারের ধাক্কায় প্রতিদিন ভাঙ্গছে চেয়ারম্যান ঘাট। মাছে আড়তদারা খুঁটি গেড়ে কলাগাছ ফেলে ঢেউয়ের ধাক্কার তীব্রতা কমাতে প্রাণান্তকর চেষ্টা করছে। ভাঙ্গন ঠেকাতে বালুর বস্তাও ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানায়। কিন্তু তাতে কোন কাজ হয়নি। ভাঙ্গন চলছে আপন গতিতে।
ঘাটের আড়তদার আজাদ জানান, গত ২/৩ মাস থেকে ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এমনকি জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা এই ঘাট দিয়ে যাতায়তের সময় ভাঙ্গন প্রত্য করলেও কেউই ভাঙ্গন রোধে এগিয়ে আসেনা। অথচ এই ঘাট থেকে প্রতিবছর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। দ্রুত ভাঙ্গন রোধ করা না গেলে এই ঘাটের অস্তীত্ব বিলীন হয়ে পড়বে। মাথায় হাত পড়বে মৎস ব্যবসার সাথে সংশ্লিষ্ট শত শত পরিবারের। এনিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়ে নোয়াখালীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ ভাঙ্গনের তীব্রতার কথা স্বীকার করে বলেন, বয়ারচরে বর্তমানে চরউন্নয়ন বসতি স্থাপন প্রকল্পের আওতায় বেঁড়ি বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। ভাঙ্গন বেঁড়ি বাধ থেকে দেড়শ মিটার দূরত্বে থাকলেও আপাতত ভাঙ্গন রোধে কোন উদ্যোগ নেই তাদের। তবে হাতিয়া নদীতে শীঘ্রই দুটি কোজার নির্মাণের কাজ শুরু হবে। কোজার দুটি নির্মাণের পর আশাকরি ভাঙ্গন কমে যাবে।






