বেগমগঞ্জ মুক্তিযোদ্ধার নাম তালিকাভুক্তি নিয়ে বিতর্ক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিনিধি
বেগমগঞ্জ উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে নাম অন্তুভূক্তির জন্যবেগমগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেযারম্যান ও  জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহর আবেদন বাতিল হওয়ার পর এ বিতর্ক দেখা দেয়। স্বাধীনতা পরবর্তী বিগত ৪৬ বছরে বিভিন্ন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ৪টি তালিকা হলেও কোন তালিকায়ই নাম না থাকলেও হঠাৎ করে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করে অনলাইনে তালিকাভুক্তির আবেদন করেন তিনি। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে আবেদনটি বাতিল করলে ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহর অনুসারীদের নানা কর্মসূচী গ্রহণের প্রেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁদের অবস্থান পরিস্কার করেন বেগমগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নেতৃবৃন্দ।
যাচাই-বাছাইয়ে নাম তালিকাভূক্তির আবেদন বাতিলের প্রতিবাদে মোহাম্মদ উল্যাহর অনুসারীরা গত বুধবার বেগমগঞ্জের চৌমুহনী শহরে পাবলিকহল গেইটে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের কর্মসূচি দিয়েছিলেন। পরে অবশ্য দলের নেতাদের হস্তক্ষেপে কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়। এর পরের দিন বৃহস্পতিবার মোহাম্মদ উল্যাহর আবেদন বাতিলের যৌক্তিকতা তুলে ধরে উপজেলা পরিষদের কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। এ সময় সংসদের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাই কমিটির বিরুদ্ধে ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহ ও তাঁর অনুসারীদের অপপ্রচারের নিন্দা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের বিএলএফ কমান্ডার আবদুল মান্নান। বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহ নিজেকে সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক পরিচয় দিলেও সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট। বরং মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি কিছুদিন আত্মগোপন করে পাক বাহিনীর নোয়াখালীর প্রধান মেজর বোখারীর কাছে আত্মসমার্পন করেন। শুধু তাই নয়, তিনি নৌকা পা দিয়ে ভুল করেছেন উল্লেখ করেও একাধিকস্থানে বক্তব্য দেন।
আবদুল মান্নান আরও বলেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছরে মুক্তিযোদ্ধাদের চারটি তালিকা করা হলেও কোনোটিতে মোহাম্মদ উল্যাহর নাম নেই। তিনিও কখনও নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করেননি। এবার হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করেন। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের সংজ্ঞানুযায়ী মোহাম্মদ উল্যাহর নাম কোনোভাবে তালিকাভূক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে কমিটির পাঁচজন সদস্য একমত হয়ে তাঁর আবেদন বাতিল করেন।
জানতে চাইলে ভিপি মোহাম্মদ উল্যাহ সংবাদ সম্মেলনে তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মনগড়া বলে উল্লেখ করেন। মুঠোফোনে তিনি বলেন, চৌমুহনী সরকারি কলেজের ভিপি ছাড়াও তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা ছাত্র সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক ছিলেন। আজকে যাঁরা তাঁকে নিয়ে কথা বলছেন, সেদিন তাঁরা কেউই ছিলেন না। তিনি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যের একটিও যদি সত্য কেউ প্রমাণ করতে পারেন তা হলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দিবেন। এ ছাড়া তিনি শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আবুল হোসেন বাঙ্গালী, মুক্তিযুদ্ধকালীন জোনাল কমান্ডার রফিক উল্যাহ ওরফে রফিক নেতা, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা আবুল হোসেন ছাড়াও শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।
এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হোসেন বলেন, বেগমগঞ্জে বর্তমানে তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ১ হাজার ৬৭০ জন। আর নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য ৬৩০টি আবেদনের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১২০টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কর্মসূচী/অনুষ্ঠান ও প্রবাসের খবর