সরগরম নিউইয়র্কের নোয়াখালী
11

রুদ্র মাসুদ
জীবিকা আর উন্নত জীবনের টানে নিরন্তর সংগ্রামী জনপদের নাম নোয়াখালী। একাতবদ্ধ আর অতিথিপরায়ন হিসাবেও খ্যাতির কমতি নেই। দেশের মধ্যে নিজ জেলার বাইরে রাজধানী, বিভাগীয় শহর কিংবা অন্য যে কোন জেলা-উপজেলায় যেমন, বিদেশ বিভুইয়েও তেমন। এর ব্যতয় হয়নি বিশ্বের সবচে ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্টের নিউইয়র্কেও। নোয়াখালীর বাসিন্দাদের আধিক্য যেসব এলাকায় সেখানে হঠাৎ করে যে কেউ গেলেই মনে হতে পারে এটি বৃহত্তর নোয়াখালীর কোনো অঞ্চল নয় তো ?
নিউইয়র্কে বসবাসরত বৃহত্তর নোয়াখালীর বাসিন্দরা বিভিন্ন নামে নিজেদের মধ্যে সংগঠন চর্চার মাধ্যমে আত্মিক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। এরই মধ্যে মূল সংগঠন হচ্ছে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি। যার যার কাজ শেষে বিকাল থেকেই সোসাইটি কার্যালয়ে শুরু হয় আনাগোনা। আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ব্রুকলিনের চার্চ-ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউ’র কোনায় অবস্থিত নোয়াখালী ভবন এখন সরগরম।
প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সহায়তা, ঐক্যবদ্ধ অবস্থান, আনন্দ আয়োজন-আচার অনুষ্ঠানে নিজেকে যুক্ত করতে নবাগতদের মাঝে সদস্য হতে যেমন আগ্রহ দেখা গেছে তেমনি সদস্য অন্তভুক্ত হতে নতুনদের উৎসাহও জুগিয়েছেন প্রবীন সদস্য এবং কর্মকর্তাবৃন্দ। নতুন সদস্য অন্তভূক্তি, আজীবন সদস্য অন্তভূক্তি, নবায়ন, সদস্য বাছাই, ভোটার তালিকা প্রণয়ন থেকে নানান কাজে ব্যস্ত সোসাইটির কর্মকর্তারা। আগামি অক্টোবরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিচালনা কমিটিও নিযুক্ত হয়েছেন।
সোসাইটি সুত্রে জানা যায়, আজীবন সদস্যসহ সাড়ে সাত হাজার সদস্য রয়েছেন। এ বছরও ৩’শর মতো নতুন সদস্য হয়েছেন। পুরাতন সদস্যদের অনেকের চাঁদা অপরিশোধিত রয়ে গেছে। তাই নতুন ও পুরাতন সদস্যদের তথ্য হালনাগাদ করে ভোটার তালিকা চুড়ান্ত করণের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অধ্যাপক করিমুল হককে আহবায়ক করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যবৃন্দ হচ্ছেন- আবুল কাসেম, সোহেল হেলাল, আশিষ রঞ্জন ভৌমিক ও সুভাষ চন্দ্র মজুমদার।
সোসাইটির পক্ষ থেকে সদস্যদের মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে প্রেরণ কিংবা নিউইয়র্কে দাফনের জন্য সহায়তা করা হয়। এছাড়া প্রয়াতদের স্মরণে মিলাদ ও দোয়া, বার্ষিক বনভোজনের কর্মসূচী নিয়মিতই হয়ে হয়ে থাকে। এছাড়া বৃহত্তর নোয়াখালীর বিভিন্ন উপজেলা সমিতিগুলোর সাথে ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখা এবং বাংলাদেশ সোসাইটিতে জেলার প্রতিনিধিতে¦র বিষয়টি দেখভাল করা হয় সোসাইটির পক্ষ থেকে।
সরেজমিনে নোয়াখালী ভবনে গেলে কথা হয় বেগমগঞ্জের গোপালপুরের বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের (৩৭) সাথে। এবারই প্রথমবারে মতো সদস্য হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন- সবচে বড় কথা হচ্ছে প্রবাস জীবনে স্বাভাবিকভাবে নিজ এলাকার মানুষের সাথে দেখা হলে,কথা হলে সর্বপরি সুসম্পর্ক বজায় রাখতে কে না চায়। তাছাড়া ঐক্যবদ্ধ থাকলে যে কোন সুবিধা-অসুবিধায় সোসাইটি পাশে থাকে, সেজন্যই সদস্য হওয়া। নিজে সদস্য হওয়ার পাশাপাশি তিনি নিজেও অনেককে সদস্য হতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।
সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজু মিয়া জানান- দুইযুগ পেরিয়েছে নোয়াখালী সোসাইটি। সদস্য সংখ্যাও সাত হাজারের বেশী। নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ২০০৩ নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম শুরু করে নোয়াখালী সোসাইটি। সদস্য অন্তুভূক্তি হওয়ার ইতিবাচক দিক ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এককথায় তিনি বলেন- এটি ইন্স্যুরেন্সের মতো। সোসাইটির সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকে সদস্যদের পাশে দাঁড়ানোর। এতে করে প্রবাস হলেও একজন  সদস্য কখনোই নিজেকে একা মনে করেননা।
দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে নোয়াখালী সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদ মিন্টু চলমান নোয়াখালীকে জানান, সাড়ে সাত হাজার মেম্বারের মধ্যে পেইড মেম্বার প্রায় দেড় হাজার। নির্বাচনকে সামনে রেখেই নয় সারাবছরই সদস্য তথা নিউইয়র্কস্থ নোয়াখালীর বাসিন্দাদের কল্যাণে সোসাইটি স্বাভাবিক নিয়মেই কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে। এরমধ্যে প্রধান হচ্ছে মরদেহ দাফন কিংবা দেশে প্রেরণের বিষয়টি। ইতোমধ্যে সোসাইটির নিজস্ব অর্থায়নে ৪’শ কবরের জন্য জায়গা কেনা হয়েছে।
এছাড়া নিউইয়র্কে আসার পর অনেকেই ডকুমন্টের জন্য নানান বিড়ম্বনায় পড়ে থাকেন। সোসাইটির পক্ষ থেকে বৃহত্তর নোয়াখালীর বাসিন্দা এমন কারে প্রয়োজন হলে রেফারেন্স লেটার প্রদান করে থাকে। সদস্য এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের চাকুরিসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের সুবিধার্থে ভবিষ্যতে সোসাইটি কার্যালয়েই একটি তথ্যসেবা কেন্দ্র করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আগামি দিনের কর্মকর্তা নির্বাচনে সকল সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহবান জানান।