নোয়াখালী সরকারি কলেজে ফরম পুরনে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ, প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
13
নিজস্ব প্রতিনিধি
নোয়াখালী সরকারি কলেজে অনার্স চতুর্থ (ফাইনাল) বর্ষের পরীক্ষার ফরম পুরনে নানা খাত দেখিয়ে কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে ক্যাম্পাসে পরীক্ষার্থীরা মানববন্ধন-সমাবেশ করেছে। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবী অযৌক্তিক বলে দাবী মানতে রাজি হয়নি।
ক্যাম্পাসে সরেজমিনে গেলে একাধিক শিক্ষার্থী জানান, জেলার অন্যতম এ বিদ্যাপিঠে বর্তমানে ১৫টি বিষয়ে অনার্সকোর্স চালু রয়েছে। চলতি বছর অনার্স ফাইনাল পরীক্ষায় প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেয়ার কথা রয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ আগামী ১৬-২০ তারিখের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের ফরম পুরনের তারিখ নির্ধারণ করে নোটিশ টানিয়ে দেয়। নোটিশে ফরম পুরনের নিমিত্তে বাংলা, ইংরেজি, দর্শন, ইসলামের ইতিহাসন, ইসলাম শিক্ষা, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, হিসাব বিজ্ঞান ও ব্যবস্থা বিভাগকে ৩৫৭৫ টাকা এবং সেশান ফি বাবত ২৬৫০ টাকা করে মোট ৬২২৫ টাকা বেঁধে দেয়। এছাড়া পদার্থ বিজ্ঞানে ফরম পুরনের নিমিত্তে ৩৬৯৫ ও সেশান ফি বাবত ২৫৫০ করে ৬২৪৫, রসায়নে ফরম পুরনে ৪০৯৫ ও সেশান ফি ২৫৫০ করে ৬৬৪৫ টাকা, উদ্ভিদ বিজ্ঞানে ফরম পুরনে ৩৬৯৫ ও সেশান ফি ২৫৫০ করে ৬২৪৫ টাকা, প্রাণি বিজ্ঞানে ফরম পুরনে ৩৮৯৫ ও সেশান ফি ২৬৫০ করে ৬৫৪৫ টাকা এবং গণিতে ফরম পুরনে ৩৮৯৫ ও সেশান ফি বাবদ ২৬৫০ টাকা করে ৬৫৪৫ টাকা বেঁধে দেয়।
শিক্ষার্থীদের দাবী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতি বষয়ে পরীক্ষার ফি বাবত ২০০ টাকা, মৌখিক পরীক্ষার জন্য ২০০, ইনকোর্স ৩০০, সাময়িক সনদ ৩০০, নম্বরপত্রের জন্য ৩০০ টাকা ও কেন্দ্রীয় ফি বাবত ৪৫০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে এর বাহিরে ব্যবস্থাপনার জন্য ৫০, ব্যবহারিক ফি ১৫০ ও বিবিধ ১০০ টাকা ধরেছে। এর বাহিরে কোনো প্রকার খাত উল্লেখ না করে শুধুমাত্র সেশান ফি বলে বেশিরভাগ বিভাগ থেকে ২৬৫০ এবং দুটি বিভাগ থেকে ২৫৫০ টাকা আদায় করছে। ইনকোর্স পরীক্ষার সময় কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষার্থী থেকে ২০০ টাকা করে নিলেও এখন আবার ফরম পুরনের সময় একই টাকা নিচ্ছে। সব মিলিয়ে নানা খাত দেখিয়ে ১৫০০ হাজার থেকে ২০০০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করছে। যার ফলে বাধ্য হয়ে তারা ক্যাম্পাসে মানববন্ধন সমাবেশ করেছে। পরে কলেজ প্রশাসন তাদের কয়েকজন প্রতিনিধিকে ডেকে নিলেও অতিরিক্ত ফি কমাতে রাজি হয়নি।
নাম প্রকাশে এক শিক্ষার্থী জানান, অধ্যক্ষ কলেজে নেই, তবে উপাধ্যক্ষ তাদের ডেকে নিয়ে বলেছে আগামী মার্চ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়ায় পরিবহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সে জন্য শুধুমাত্র পরিবহণ বাবত ২০০ টাকা করে অতিরিক্ত ধরা হয়েছে। যেহেতু তোমরা পরিবহণের আওতায় পড়োনি সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ওই ২০০ টাকা করে কম নিতে পারবেন তারা এর বাহিরে কোনোভাবেই কম নেয়া সম্ভব নয়। প্রতি বছর পরীক্ষার সময় নানা খাত দেখিয়ে অতিরিক্ত লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কলেজ প্রশাসন।
জানতে চাইলে উপাধ্যক্ষ সালমা আক্তার অতিরিক্ত ফি আদায়ের কথা অস্বীকার করে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বেঁধে দেওয়া ফির বাহিরে তারা কোনো ফি আদায় করছে না। সেশান ফি প্রতি বছর উত্তির্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দেয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থী দেয় না বলেই পরীক্ষার সেশান ফি যোগ হলে অনেক বেশি দেখায়। শিক্ষার্থী বলেছে ইনকোর্স পরীক্ষার ফি কলেজের ২০০ টাকা ইনকোর্স পরীক্ষার সময় আগেই নিয়ে নেয়া হয়েছে, তার পরও কেন ২০০ টাকা এখন আবার নেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এ বিষয় তার জানা নেয়। সেশান ফির বিষয়ে তিনি বলেন, কোন কোন খাতে সেশান ফি নেয়া হয় তাও তিনি জানেন না। খাতওয়ারি সেশান ফি এর একটি কপি চাইলে তিনি বলেন, অধ্যক্ষ ট্রেনিং এ বাহিরে আছেন। তিনি কলেজে আসলে তাঁর কাছ থেকে চেয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।