আশীষ চক্রবর্তী, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে-
এক হিসেবে তিনি স্রেফ ৫ লক্ষ ২০ হাজারের একজন, তবে আরেক বিবেচনায় তিনি অনন্য। একাধারে তিনি নায়ক, পরিচালক, মডেল- আরো কত কী! বলছি বাংলাদেশী যুবক মাহবুবুল আলমে কথা। শ্রমিক হিসবে দক্ষিণ কোরিয়া গিয়েমাহবুব আজ অনেক কোরীয়রও প্রিয় তারকা।
সরকারি হিসাবে এ মুহুর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট অভিবাসীর সংখ্যা ৫ লক্ষ ২০ হাজার। ক’দিন আগেও মাহবুব ছিলেন স্রেফ তাদেরই একজন বাংলাদেশ থেকে এসে কাজের জন্য কত ছুটেছেন এখানে-ওখানে। কোথাও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ নেই। থাকলেও সে সুযোগ তিনি পান না। কারণ কোরিয়ায় তার হিসাব বিজ্ঞানে ডিগ্রির কোন দাম নেই। অগত্যা কী আর করা, আর দশজনের মতো মাহবুব আলমকেও বেছে নিতে হয় কারখানা শ্রমিকের জীবন। বড় কষ্টের সে জীবন। দশবছর আগের সে অতীত আজও ভুলতে পারেন না মাহবুব।
সেই কষ্টের স্মৃতি তার জন্য অমূল্য সম্পদও। এক সময় অতি সাধারণ এক অভিবাসী ছিলেন বলেই ভালো করে জানেন অভিবাসী জীবনের দুৎখ, কষ্ট, বেদনা, বঞ্চনার কথা। সব সময় একটা তাগিদ কাজ করতো অভিবাসীদের জন্য কিছু একটা করার। সেই তাগিদ বা প্রেরণা থেকেই মাহবুব আলম আজ চিত্র পরিচালক। এ মুহুর্তে তাঁর অন্য একটি পরিচয় খুব গুরুত্ব পাচ্ছে। সাপ্তাহান্তে সিউলে শুরু হতে যাচ্ছে অভিবাসী শ্রমিকদের চলচ্চিত্র উৎসব (এমডব্লিইএফএফ)। এ উৎসবের পরিচালক মাহবুবুল আলম।
অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য চলচ্চিত্র, তা নিয়ে আবার বিশেষ উৎসব কেনো ? মাহবুব আলম বললেন ‘আমরা উৎসবটিকে দেখি বহু সংস্কৃতির মিলনভূমি হিসেবে’। এমডব্লিইএফএফ আত্মপ্রকাশ করে ২০০৬ সালে। তারপর থেকে প্রতি বছরই আয়োজন করছে চলচ্চিত্র উৎসব। এবারেরটি এফডব্লিইএফএফ-এর
চতুর্থ আয়োজন। এ আয়োজনে থাকছে ১৪টি দেশের ২২টি ছবি। মাহবুব আলম থাকছেন নায়ক, পরিচালক দুই পরিচয়েই। শিন ডং পরিচালিত রেমান্টিক হাঁসির ছবি ‘বান্ধবী'তে দেখা যাবে নায়ক মাহবুবের অভিনয় আর ত্যচিত্র ‘রিটানি'তে পাওয়া যাবে পরিচালক মাহবুবের সৃষ্টিশীলতা।
এমনিতে অভিবাসী হিসেবে কিছু বিষয় সবসময়ই খুব ভাবায় তাঁকে। বিশেষ করে কোরিয়াতে দীর্ঘদিন থাকার পরও অভিবাসীদের বিচ্ছিন্ন থাকার ব্যাপারটা। কেনো এমন হয় ? ৩২ বছর বয়সী তরুণ মাহবুব মনে করেন, অভিবাসীদের মাঝে কোরিয়ার সংস্কৃতিকে কখনোই আপন করে না নেয়ার প্রবণতা এর বড় একটা কারণ,তবে এর পেছনে মিডিয়ারও কিছুটা ভূমিকা আছে, ‘প্রেস সব সময়ই আমাদের কেমন যেনো করুণার পাত্র হিসেবে তুলে দরে, এর ফলে (কোরীয়) লোকজনের মধ্যে একধরণে অস্বাচ্ছন্দ্যবোধ তৈরি হয় এবং এর ফলে তারা আমাদের এড়িয়ে চলে’।
অভিবাসী হলেও এখন আর কেই তাঁকে এড়িয়ে চলে বলে মাহবুব আলমের মনে হয় না। এক কোরীয়কে বিয়ে করে সংসার জীবন ভালোই উপভোগ করছেন। তারকা মর্যাদাও পাচ্চেন কোথাও কোথাও বিদেশ বিভুঁইয়ে একটুকুই বা কম কিসে ?
অতৃপ্তি যদি থেকেই থাকে সেটা অভিবাসীদের চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে। এবার উৎসব আয়োজনের দায়িত্ব নিয়েছে অভিবাসী শ্রমিকদের টেলিভিশন (এমডব্লিউটিভি), ছোটখালো স্পন্সরও পাওয়া গেছে। কিন্তু আগামি বছর কী হবে এনিয়ে মাহবুব খুব চিন্তিত। শুরুতে চিন্তার কথা জানালেও পরে অবশ্য নিজেকে প্রাবোধও দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নাম কামানো এই বাংলাদেশী, ‘ আশা করছি, আগামিবারও অনেক অতিথি আসবেন এবং আমাদের সঙ্গে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ভাগাভাগি করবেন’ এমন অভিমত মাহবুবের।

এক হিসেবে তিনি স্রেফ ৫ লক্ষ ২০ হাজারের একজন, তবে আরেক বিবেচনায় তিনি অনন্য। একাধারে তিনি নায়ক, পরিচালক, মডেল- আরো কত কী! বলছি বাংলাদেশী যুবক মাহবুবুল আলমে কথা। শ্রমিক হিসবে দক্ষিণ কোরিয়া গিয়েমাহবুব আজ অনেক কোরীয়রও প্রিয় তারকা।
সরকারি হিসাবে এ মুহুর্তে দক্ষিণ কোরিয়ার মোট অভিবাসীর সংখ্যা ৫ লক্ষ ২০ হাজার। ক’দিন আগেও মাহবুব ছিলেন স্রেফ তাদেরই একজন বাংলাদেশ থেকে এসে কাজের জন্য কত ছুটেছেন এখানে-ওখানে। কোথাও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ নেই। থাকলেও সে সুযোগ তিনি পান না। কারণ কোরিয়ায় তার হিসাব বিজ্ঞানে ডিগ্রির কোন দাম নেই। অগত্যা কী আর করা, আর দশজনের মতো মাহবুব আলমকেও বেছে নিতে হয় কারখানা শ্রমিকের জীবন। বড় কষ্টের সে জীবন। দশবছর আগের সে অতীত আজও ভুলতে পারেন না মাহবুব।
সেই কষ্টের স্মৃতি তার জন্য অমূল্য সম্পদও। এক সময় অতি সাধারণ এক অভিবাসী ছিলেন বলেই ভালো করে জানেন অভিবাসী জীবনের দুৎখ, কষ্ট, বেদনা, বঞ্চনার কথা। সব সময় একটা তাগিদ কাজ করতো অভিবাসীদের জন্য কিছু একটা করার। সেই তাগিদ বা প্রেরণা থেকেই মাহবুব আলম আজ চিত্র পরিচালক। এ মুহুর্তে তাঁর অন্য একটি পরিচয় খুব গুরুত্ব পাচ্ছে। সাপ্তাহান্তে সিউলে শুরু হতে যাচ্ছে অভিবাসী শ্রমিকদের চলচ্চিত্র উৎসব (এমডব্লিইএফএফ)। এ উৎসবের পরিচালক মাহবুবুল আলম।
অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য চলচ্চিত্র, তা নিয়ে আবার বিশেষ উৎসব কেনো ? মাহবুব আলম বললেন ‘আমরা উৎসবটিকে দেখি বহু সংস্কৃতির মিলনভূমি হিসেবে’। এমডব্লিইএফএফ আত্মপ্রকাশ করে ২০০৬ সালে। তারপর থেকে প্রতি বছরই আয়োজন করছে চলচ্চিত্র উৎসব। এবারেরটি এফডব্লিইএফএফ-এর
চতুর্থ আয়োজন। এ আয়োজনে থাকছে ১৪টি দেশের ২২টি ছবি। মাহবুব আলম থাকছেন নায়ক, পরিচালক দুই পরিচয়েই। শিন ডং পরিচালিত রেমান্টিক হাঁসির ছবি ‘বান্ধবী'তে দেখা যাবে নায়ক মাহবুবের অভিনয় আর ত্যচিত্র ‘রিটানি'তে পাওয়া যাবে পরিচালক মাহবুবের সৃষ্টিশীলতা।এমনিতে অভিবাসী হিসেবে কিছু বিষয় সবসময়ই খুব ভাবায় তাঁকে। বিশেষ করে কোরিয়াতে দীর্ঘদিন থাকার পরও অভিবাসীদের বিচ্ছিন্ন থাকার ব্যাপারটা। কেনো এমন হয় ? ৩২ বছর বয়সী তরুণ মাহবুব মনে করেন, অভিবাসীদের মাঝে কোরিয়ার সংস্কৃতিকে কখনোই আপন করে না নেয়ার প্রবণতা এর বড় একটা কারণ,তবে এর পেছনে মিডিয়ারও কিছুটা ভূমিকা আছে, ‘প্রেস সব সময়ই আমাদের কেমন যেনো করুণার পাত্র হিসেবে তুলে দরে, এর ফলে (কোরীয়) লোকজনের মধ্যে একধরণে অস্বাচ্ছন্দ্যবোধ তৈরি হয় এবং এর ফলে তারা আমাদের এড়িয়ে চলে’।
অভিবাসী হলেও এখন আর কেই তাঁকে এড়িয়ে চলে বলে মাহবুব আলমের মনে হয় না। এক কোরীয়কে বিয়ে করে সংসার জীবন ভালোই উপভোগ করছেন। তারকা মর্যাদাও পাচ্চেন কোথাও কোথাও বিদেশ বিভুঁইয়ে একটুকুই বা কম কিসে ?
অতৃপ্তি যদি থেকেই থাকে সেটা অভিবাসীদের চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে। এবার উৎসব আয়োজনের দায়িত্ব নিয়েছে অভিবাসী শ্রমিকদের টেলিভিশন (এমডব্লিউটিভি), ছোটখালো স্পন্সরও পাওয়া গেছে। কিন্তু আগামি বছর কী হবে এনিয়ে মাহবুব খুব চিন্তিত। শুরুতে চিন্তার কথা জানালেও পরে অবশ্য নিজেকে প্রাবোধও দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ায় নাম কামানো এই বাংলাদেশী, ‘ আশা করছি, আগামিবারও অনেক অতিথি আসবেন এবং আমাদের সঙ্গে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি ভাগাভাগি করবেন’ এমন অভিমত মাহবুবের।





