রুদ্র মাসুদ-
দেড় মাস হয়ে গেলেও নো
য়াখালীর বেশিরভাগ উপজেলা এবং পৌরসভায় শুরু হয়নি সদস্য সংগ্রহ অভিযান। নির্ধারিত সময়ের প্রায় একমাস পেরিয়ে গেলেও জেলার ৬টি ইউনিটে গঠিত হয়নি আহবায়ক কমিটি। সংসদ সদস্যদের একচ্ছত্র প্রভাবের কারণেই কমিটি গঠনে একদিকে যেমন বিলম্ব হচ্ছে অন্যদিকে যোগ্যতা থাকার পরও অনেকের স্থান হচ্ছে না জেলা উপজেলা কমিটিতে। একই কারণে বিগত তিনটি জেলা কমিটিও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। এ অবস্থায় তৃণমূল নেতাকর্মীর প্রশ্ন আওয়ামীলীগ বিরোধী ভোট দিয়ে আর কত দল চলবে ? কবে সাংগঠনিক শক্তির ওপর দাঁড়বে বিএনপি ?
একই ভাবে সাংগঠনিক দিক থেকে বিপর্যস্থ যুবদল ও ছাত্রদলের রাজনীতিও। বিএনপির এ দুটি সহযোগী সংগঠনের জেলা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। কবে নাগাদ নতুন কমিটি গঠন করা হবে তাও কেউ বলতে পারে না।
কমিটি নিয়ে এমপিদের আধিপত্যের কারণে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব । যে কারণে জেলার একমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান সেনবাগ উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মফিজুর রহমান, বেগমঞ্জ-সোনাইমুড়ি থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য এবং বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এম এ হাসেম কিংবা দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শাহ্ আব্দুল্যাহ আল বাকীর মতো নেতাদের স্থান হয়নি জেলা কমিটিতে। এ অবস্থায় স্ব স্ব সংসদীয় এলাকায় সাংগঠনিক জেলা কমিটি গঠনের কথাও উঠেছে। জেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহানও একমত এমন সিদ্ধান্ত হলে। এদিকে একমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান হলেই জেলা কিমিটিতে স্থান পেতে হবে বলে মনে করেন না চাটখিল-সোনাইমুড়ি আসনের সাংসদ ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালীর ৯টি উপজেলা ৮টি পৌরসভার মধ্যে ৪টি পৌরসভা এবং ২টি উপজেলার এখনো আহবায়ক কমিটিই হয়নি। এর মধ্যে যুবদল সভাপতি বরকত উল্যা বুলু এমপির নির্বাচনী এলাকা বেগমগঞ্জে উপজেলা এবং চৌমুহনী পৌরসভার আহবায়ক কমিটি গঠন কবে হবে তা কেউ বলতে পারে না। উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার অভিযোগে পূর্বের আহবায়ক কমিটিও ভেঙ্গে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুনুর রশিদ আজাদ। বর্তমানে সেখানে কোন কমিটিই নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী নতুন কমিটি না হলে পূর্বের কমিটি দায়িত্ব পালন করার কথা থকালেও এখানে সেটা হয়নি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। কারণ পূর্বের উপজেলা আহবায়ক হচ্ছেন সাবেক সাংসদ এম এ হাসেম। এ কমিটি এবং চৌমুহনী পৌর কমিটি তাঁর অনুসারী ছিলো বিধায় বরকত উল্যা বুলু এবারের নির্বাচনে জয়ী হবার পর তা ভেঙে দিতে নেপথ্য থেকে ভূমিকা রাখলেও নতুন করে আহবায়ক কমিটি দিতে পারছেন না। ফলে ১/১১’র পরবর্তী সময়ে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের মাঝে ােভ বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে বেগমগঞ্জ উপজেলা কমিটির পূর্বের আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক শাহ আব্দুল্যাহ আল বাকী বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে গঠিত সাবজেক্ট কমিটির ভোটে তিনি ২৮ ভোটের মধ্যে ২২ ভোট পেয়েছেন তারপরও তাকে মনোয়ন দেয়া হয়নি। আবার কমিটিও ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনীতির জীবনের শুরু থেকে বিএনপি রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দলের নাম ভাঙিয়ে কখনো থানার দালালী, টার্মিনালে চাঁদাবাজি, টেন্ডার ভাগাভাগি কিংবা সন্ত্রাসের সাথে জড়িত না থকালেও এখন বরকত উল্যা বুলুর প্রতিহিংসা শিকার হতে হচ্ছে।
এদিকে সেনবাগে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুকের প্রতিপ হিসাবে পরিচিত উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মফিজ কিংবা তাঁর অনুসারি কারোই ঠাঁই হয়নি জেলা-উপজেলা কমিটিতে। কমিটি গঠিত হয়নি খালেদা জিয়া পরিবারের অন্যতম আইনজীবী ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপির নির্বাচনী এলাকার চাটখিল পৌরসভা এবং সোনাইমুড়ি পৌরসভায়ও। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর মাত্র ৬৮০ ভোট পাওয়া নোয়াখালী-৬ নির্বাচনী এলাকার হাতিয়া উপজেলাও একই অবস্থা।
অপরদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর ঘটা করে জেলায় বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও বেশিরভাগ উপজেলা ও পৌরসভায় এখনো তা শুরুই হয়নি। যেখানে শুরু হয়েছে সেখানেও কতজন সদস্য সংগৃহীত হয়েছে তা কেউ বলতে পারে না। তবে সদস্য সংগ্রহের দিক থেকে এগিয়ে আছে আওয়ামীলীগের এমপিদের নির্বাচনী এলাকায়। অর্থাৎ কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট, সদর ও সুবর্নচরে।
এনিয়ে জানতে চাওয়া হলে সেনবাগ পৌর বিএনপির আহবায়ক জাহিদুল হক সবুজ বলেন, সেনবাগ পৌরসভা এবং উপজেলার সবকটি ইউনিটিতে তারা নতুন কমিটি গঠনের কাজ শেষ করেছেন। তাই সদস্য সংগ্রহের কাজ শুরু করতে পারেননি। ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হতে পারে। কাজী মফিজ গ্র“পকে কোন কমিটিতে স্থান না দেয়ার বিষয়ে বলেন, যারা বিএনপি করে তাদেরকেই কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। সোনাইমুড়িতে আহবায়ক কমিটি হলেও এখনো শুরু হয়নি সদস্য সংগ্রহ অভিযান। একই ভাবে বেশিরভাগ উপজেলা ও পৌরসভায় এখনো শুরু হয়নি নতুন সদস্য নেয়া।
সদর উপজেলা আহবায়ক এডভোকেট আব্দুর রহমান বলেন, সদর ও সুবর্নচরে এপর্যন্ত ১০ হাজার ফরম আনা হয়েছে। সদস্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ফরম সংকট দেখা দেয়ায় তারা ফরমের জন্য ঢাকায় যোগাযোগ করছেন।
সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর ৬টি আসনের মধ্যে ৩টি আসন পেলেও বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দাঁড়াতে পারেনি উল্লেখ করে জেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, শুধু মাত্র আওয়ামীলীগ বিরোধী ভোট দিয়ে নির্বাচনে জেতা যায় কিন্তু সংগঠন চালানো যায় না। সংগঠন চালাতে হলে রাজনৈতিক কর্মী এবং সংগঠকের প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে অলিখিত নিয়ম হচ্ছে স্ব স্ব সংসদীয় এলাকার দলীয় রাজনীতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সিদ্ধান্তের ওপর। দল পুর্নগঠন ও দলকে শক্তি শালী করার েেত্র এখন এটি বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে ৯১’র পরবর্তী সময়ে গঠিত বিএনপির তিনটি জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গতা পায়নি।
বিএনপির রাজনীতির সাথে দীর্ঘ দিনের সঙ্গী সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুর রউপ বলেন, বিগত জোট সরকারের সময়ে যারা টেন্ডার থেকে শুরু করে সকল সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছেন তাদের এখন দেখা যায় না। সে সময় আওয়ামীলীগের যাদের সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন তাদের সাথে মিলে এসব নেতা এখন প্রতিদান নিতে ব্যস্ত। পাশাপাশি এমপিদের পছন্দের মূল্য দিতে গিয়ে দল বিভেদ তৈরী হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
এমপিদের কব্জায় জেলায বিএনপির রাজনীতি এমন প্রশ্নের জবাবে চাটখিল-সোনাইমুড়ির এমপি ব্যারিষ্টার খোকন বলেন, এটি ঠিক নয়। কারণ গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটাভুটির মাধ্য সোনাইমুড়ি এবং চাটখিলে বিএনপির আহবায়ক কমিটি হয়েছে। দুটি পৌরসভা কমিটি গঠনের কাজও চলছে। সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে শুক্রবার থেকে। নতুন করে আহবায়ক কমিটি না হলে পুরাতন কমিটিই দায়িত্ব পালন করার কথা কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এমনটিই তো হওয়া উচিত। সোনাইমুড়ি এবং চাটখিল পৌরসভায় তো তা-ই হচ্ছে।
এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান কমিটি গঠনের েেত এমপিদের কতৃত্বের কথা স্বীকার করে বলেন, একারণেই বিএনপিতে ফিরে আসা চাটখিলের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট সালাহ উদ্দিন কামরান, বেগমগঞ্জের সাবেক সাংসদ এম এ হাসেম, একমাত্র উপজেলা চেয়াম্যান কাজী মফিজসহ অনেককেই স্থান দেয়া যায়নি ৫১ সদস্যের জেলা কমিটিতে । বিএনপির যে জন সমর্থন রয়েছে তা কাজে লাগাতে হলে গণতান্ত্রিক উপায়ে দলকে শক্তিশালী করা দরকার, ব্যক্তিগত পছন্দ দিয়ে নয়।
স্ব স্ব সংসদীয় এলাকায় এমপিদের কতৃত্বের বিষয়টি গঠনতন্ত্রে রয়েছে কিনা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, সংবিধানে নেই তবে রেওয়াজ চালু আছে। এবিষয়গুলো পরিবর্তন জরুরী, না হয় স্ব স্ব সংসদীয় এলাকায় সাংগঠনিক জেলা কমিটি করা যেতে পারে। কারণ জেলা কমিটি এখন পারাহাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া ছাড়া উপায় নেই।
দেড় মাস হয়ে গেলেও নো
য়াখালীর বেশিরভাগ উপজেলা এবং পৌরসভায় শুরু হয়নি সদস্য সংগ্রহ অভিযান। নির্ধারিত সময়ের প্রায় একমাস পেরিয়ে গেলেও জেলার ৬টি ইউনিটে গঠিত হয়নি আহবায়ক কমিটি। সংসদ সদস্যদের একচ্ছত্র প্রভাবের কারণেই কমিটি গঠনে একদিকে যেমন বিলম্ব হচ্ছে অন্যদিকে যোগ্যতা থাকার পরও অনেকের স্থান হচ্ছে না জেলা উপজেলা কমিটিতে। একই কারণে বিগত তিনটি জেলা কমিটিও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। এ অবস্থায় তৃণমূল নেতাকর্মীর প্রশ্ন আওয়ামীলীগ বিরোধী ভোট দিয়ে আর কত দল চলবে ? কবে সাংগঠনিক শক্তির ওপর দাঁড়বে বিএনপি ? একই ভাবে সাংগঠনিক দিক থেকে বিপর্যস্থ যুবদল ও ছাত্রদলের রাজনীতিও। বিএনপির এ দুটি সহযোগী সংগঠনের জেলা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। কবে নাগাদ নতুন কমিটি গঠন করা হবে তাও কেউ বলতে পারে না।
কমিটি নিয়ে এমপিদের আধিপত্যের কারণে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে জেলা বিএনপির নেতৃত্ব । যে কারণে জেলার একমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান সেনবাগ উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মফিজুর রহমান, বেগমঞ্জ-সোনাইমুড়ি থেকে নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য এবং বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক এম এ হাসেম কিংবা দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে বিএনপি রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক শাহ্ আব্দুল্যাহ আল বাকীর মতো নেতাদের স্থান হয়নি জেলা কমিটিতে। এ অবস্থায় স্ব স্ব সংসদীয় এলাকায় সাংগঠনিক জেলা কমিটি গঠনের কথাও উঠেছে। জেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শাহজাহানও একমত এমন সিদ্ধান্ত হলে। এদিকে একমাত্র উপজেলা চেয়ারম্যান হলেই জেলা কিমিটিতে স্থান পেতে হবে বলে মনে করেন না চাটখিল-সোনাইমুড়ি আসনের সাংসদ ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নোয়াখালীর ৯টি উপজেলা ৮টি পৌরসভার মধ্যে ৪টি পৌরসভা এবং ২টি উপজেলার এখনো আহবায়ক কমিটিই হয়নি। এর মধ্যে যুবদল সভাপতি বরকত উল্যা বুলু এমপির নির্বাচনী এলাকা বেগমগঞ্জে উপজেলা এবং চৌমুহনী পৌরসভার আহবায়ক কমিটি গঠন কবে হবে তা কেউ বলতে পারে না। উপজেলা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার অভিযোগে পূর্বের আহবায়ক কমিটিও ভেঙ্গে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক হারুনুর রশিদ আজাদ। বর্তমানে সেখানে কোন কমিটিই নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী নতুন কমিটি না হলে পূর্বের কমিটি দায়িত্ব পালন করার কথা থকালেও এখানে সেটা হয়নি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। কারণ পূর্বের উপজেলা আহবায়ক হচ্ছেন সাবেক সাংসদ এম এ হাসেম। এ কমিটি এবং চৌমুহনী পৌর কমিটি তাঁর অনুসারী ছিলো বিধায় বরকত উল্যা বুলু এবারের নির্বাচনে জয়ী হবার পর তা ভেঙে দিতে নেপথ্য থেকে ভূমিকা রাখলেও নতুন করে আহবায়ক কমিটি দিতে পারছেন না। ফলে ১/১১’র পরবর্তী সময়ে সক্রিয় থাকা নেতাকর্মীদের মাঝে ােভ বাড়ছে।
এ প্রসঙ্গে বেগমগঞ্জ উপজেলা কমিটির পূর্বের আহবায়ক কমিটির যুগ্ম আহবায়ক শাহ আব্দুল্যাহ আল বাকী বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে গঠিত সাবজেক্ট কমিটির ভোটে তিনি ২৮ ভোটের মধ্যে ২২ ভোট পেয়েছেন তারপরও তাকে মনোয়ন দেয়া হয়নি। আবার কমিটিও ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, রাজনীতির জীবনের শুরু থেকে বিএনপি রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার পাশাপাশি দলের নাম ভাঙিয়ে কখনো থানার দালালী, টার্মিনালে চাঁদাবাজি, টেন্ডার ভাগাভাগি কিংবা সন্ত্রাসের সাথে জড়িত না থকালেও এখন বরকত উল্যা বুলুর প্রতিহিংসা শিকার হতে হচ্ছে।
এদিকে সেনবাগে বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুকের প্রতিপ হিসাবে পরিচিত উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মফিজ কিংবা তাঁর অনুসারি কারোই ঠাঁই হয়নি জেলা-উপজেলা কমিটিতে। কমিটি গঠিত হয়নি খালেদা জিয়া পরিবারের অন্যতম আইনজীবী ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপির নির্বাচনী এলাকার চাটখিল পৌরসভা এবং সোনাইমুড়ি পৌরসভায়ও। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর মাত্র ৬৮০ ভোট পাওয়া নোয়াখালী-৬ নির্বাচনী এলাকার হাতিয়া উপজেলাও একই অবস্থা।
অপরদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর ঘটা করে জেলায় বিএনপির নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হলেও বেশিরভাগ উপজেলা ও পৌরসভায় এখনো তা শুরুই হয়নি। যেখানে শুরু হয়েছে সেখানেও কতজন সদস্য সংগৃহীত হয়েছে তা কেউ বলতে পারে না। তবে সদস্য সংগ্রহের দিক থেকে এগিয়ে আছে আওয়ামীলীগের এমপিদের নির্বাচনী এলাকায়। অর্থাৎ কোম্পানীগঞ্জ, কবিরহাট, সদর ও সুবর্নচরে।
এনিয়ে জানতে চাওয়া হলে সেনবাগ পৌর বিএনপির আহবায়ক জাহিদুল হক সবুজ বলেন, সেনবাগ পৌরসভা এবং উপজেলার সবকটি ইউনিটিতে তারা নতুন কমিটি গঠনের কাজ শেষ করেছেন। তাই সদস্য সংগ্রহের কাজ শুরু করতে পারেননি। ১৩ অক্টোবর থেকে শুরু হতে পারে। কাজী মফিজ গ্র“পকে কোন কমিটিতে স্থান না দেয়ার বিষয়ে বলেন, যারা বিএনপি করে তাদেরকেই কমিটিতে স্থান দেয়া হয়েছে। সোনাইমুড়িতে আহবায়ক কমিটি হলেও এখনো শুরু হয়নি সদস্য সংগ্রহ অভিযান। একই ভাবে বেশিরভাগ উপজেলা ও পৌরসভায় এখনো শুরু হয়নি নতুন সদস্য নেয়া।
সদর উপজেলা আহবায়ক এডভোকেট আব্দুর রহমান বলেন, সদর ও সুবর্নচরে এপর্যন্ত ১০ হাজার ফরম আনা হয়েছে। সদস্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ফরম সংকট দেখা দেয়ায় তারা ফরমের জন্য ঢাকায় যোগাযোগ করছেন।
সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালীর ৬টি আসনের মধ্যে ৩টি আসন পেলেও বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দাঁড়াতে পারেনি উল্লেখ করে জেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা বলেন, শুধু মাত্র আওয়ামীলীগ বিরোধী ভোট দিয়ে নির্বাচনে জেতা যায় কিন্তু সংগঠন চালানো যায় না। সংগঠন চালাতে হলে রাজনৈতিক কর্মী এবং সংগঠকের প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতিতে অলিখিত নিয়ম হচ্ছে স্ব স্ব সংসদীয় এলাকার দলীয় রাজনীতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সিদ্ধান্তের ওপর। দল পুর্নগঠন ও দলকে শক্তি শালী করার েেত্র এখন এটি বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে ৯১’র পরবর্তী সময়ে গঠিত বিএনপির তিনটি জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গতা পায়নি।
বিএনপির রাজনীতির সাথে দীর্ঘ দিনের সঙ্গী সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুর রউপ বলেন, বিগত জোট সরকারের সময়ে যারা টেন্ডার থেকে শুরু করে সকল সুযোগ সুবিধা হাতিয়ে নিয়েছেন তাদের এখন দেখা যায় না। সে সময় আওয়ামীলীগের যাদের সুযোগ সুবিধা দিয়েছেন তাদের সাথে মিলে এসব নেতা এখন প্রতিদান নিতে ব্যস্ত। পাশাপাশি এমপিদের পছন্দের মূল্য দিতে গিয়ে দল বিভেদ তৈরী হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
এমপিদের কব্জায় জেলায বিএনপির রাজনীতি এমন প্রশ্নের জবাবে চাটখিল-সোনাইমুড়ির এমপি ব্যারিষ্টার খোকন বলেন, এটি ঠিক নয়। কারণ গণতান্ত্রিক উপায়ে ভোটাভুটির মাধ্য সোনাইমুড়ি এবং চাটখিলে বিএনপির আহবায়ক কমিটি হয়েছে। দুটি পৌরসভা কমিটি গঠনের কাজও চলছে। সদস্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে শুক্রবার থেকে। নতুন করে আহবায়ক কমিটি না হলে পুরাতন কমিটিই দায়িত্ব পালন করার কথা কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, এমনটিই তো হওয়া উচিত। সোনাইমুড়ি এবং চাটখিল পৌরসভায় তো তা-ই হচ্ছে।
এসব বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান কমিটি গঠনের েেত এমপিদের কতৃত্বের কথা স্বীকার করে বলেন, একারণেই বিএনপিতে ফিরে আসা চাটখিলের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট সালাহ উদ্দিন কামরান, বেগমগঞ্জের সাবেক সাংসদ এম এ হাসেম, একমাত্র উপজেলা চেয়াম্যান কাজী মফিজসহ অনেককেই স্থান দেয়া যায়নি ৫১ সদস্যের জেলা কমিটিতে । বিএনপির যে জন সমর্থন রয়েছে তা কাজে লাগাতে হলে গণতান্ত্রিক উপায়ে দলকে শক্তিশালী করা দরকার, ব্যক্তিগত পছন্দ দিয়ে নয়।
স্ব স্ব সংসদীয় এলাকায় এমপিদের কতৃত্বের বিষয়টি গঠনতন্ত্রে রয়েছে কিনা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, সংবিধানে নেই তবে রেওয়াজ চালু আছে। এবিষয়গুলো পরিবর্তন জরুরী, না হয় স্ব স্ব সংসদীয় এলাকায় সাংগঠনিক জেলা কমিটি করা যেতে পারে। কারণ জেলা কমিটি এখন পারাহাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া ছাড়া উপায় নেই।






