নোয়াখালীতে তিন দিনব্যাপী প্রথম বাংলাদেশ ক্লামেট ক্যাম্প শুরু : জলবায়ু বিপর্যয় জঙ্গিবাদের চেয়েও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি-সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি
11
হাসান মাহমুদ-
দেশের উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীতে শুরু হয়েছে প্রথম বাংলাদেশ ক্লাইমেট ক্যাম্প-০৯। শুক্রবার সকাল ১১টায় নোয়াখালী বিআরডিবি মিলনায়তনে সারাদেশ থেকে আসা দেড়শতাধিক যুব সংগঠক, উন্নয়কর্মী, পরিবেশকর্মী, গবেষক ও বিদেশী সাহায্য সংস্থার তরুণ প্রতিনিধির অংশগ্রহণে তিন দিনের এই ক্যাম্প উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড এনভায়রনমেন্ট-এর সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি।
ক্যাম্পের উদ্বোধনী বক্তৃতায় প্রধান অতিথি সাবের হোসেন চৌধুরী এমপি বলেন, জলবায়ুর বিপর্যয় জঙ্গিবাদের চেয়েও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ জঙ্গীবাদ আমাদের দেশের অন্যতম একটি সমস্যা হলেও আমরা তা প্রাশাসনিকভাবে সমাধান করার চেষ্টা করছি। কিন্তু জলবায়ুর বিপর্যয় বা হুমকি মোকাবেলার সামর্থ আমাদের দেশের এখনো অর্জন হয়নি। জাতীয় নিরাত্তার এ ইস্যুতে আমাদের সকল রাজনৈতিক দল ও মতকে একত্রিত কাজ করতে হবে এবং জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এটি হওয়া দরকার আগামি ৭-১৮ ডিসেম্বর ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জাতিসংঘের আয়োজনে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক শীর্ষ সম্মেলন এর পূর্বে। তাহলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোরালো ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।  কিন্তু আমাদের বড় ব্যর্থতা হচ্ছে জাতীয় ইস্যুগুলোতে আমরা একমত হতে পারিনা। যার প্রমান মাত্র ক’দিন আগের দারিদ্র্য বিরোধী জাতীয় কর্মসূচী।
তিনি বলেন, যে সব দেশ জলবায়ুর বিপর্যয়ের জন্য দায়ী তারা অনেক শক্তিশালী। তারা এটিকে বিপর্যয় না বলে পরিবর্তন বলছে। জলবায়ুর এই মহাসমস্যা সৃষ্টিতে বাংলাদেশের মতো যাদের ন্যূনতম অবদান নেই তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। সারা দেশ থেকে এমন আওয়াজ তুলে তাঁদের বোঝাতে হবে এটি আমাদের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনছে। আমরা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য প্রভাব মোকাবেলায় সাহায্য চাই না ক্ষতিপূরণ চাই। আর তাই কোপেনহেগেন সম্মেলনে যে সিদ্ধান্ত হবে তার অবশ্যই আইনগত ভিত্তি থাকতে হবে যাতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতিপূরণ আদায়ে আমরা আন্তর্জাতিক ট্র্যাবুন্যালে যেতে পারি।
সাবের হোসেন চৌধুরী জলবায়ু পরিবর্তনে বিরূপ প্রভাবের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় প্রান্তিক জনগোষ্ঠি বিশেষ করে কৃষক এবং মহিলা ও শিশুরা। আমাদের উপকূলীয় অঞ্চলের আড়াই থেকে তিন কোটি লোক জলবায়ু উদ্বাস্তুতে পরিণত হওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন যেমন জাষ্টিস এবং হিউম্যান রাইটস ইস্যু, একইভাবে জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুও হয়ে উঠেছে। আমরা কেবল উন্নত দেশের দিকে তাকিয়ে থাকলেই হবে না। আমাদেরকেও কাজ করতে হবে। তাই এই ক্যাম্প শেষে অংশগ্রহণকারীরা সারা দেশে জলবায়ু পরিবর্তনজণিত ঝুঁকি মোকাবেলায় সচেতনতা তৈরীতে কাজ করতে হবে। জলবায়ুর পবির্তনের সম্ভব্য বিপর্যয় থেকে বাঁচতে হলে উপকুলে সবুজ বেষ্টনী তৈরী করতে হবে। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পাঠ্য পুস্তকে পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়কে অর্ন্তভূক্ত করার বিষয়টিও সরকার বিশেষভাবে বিবেচনা করছে।
জলবায়ূ পরিবর্তনের সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে বাংলাদেশকে রক্ষার দাবিতে পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক (প্রান), ইয়ুথ ইন অ্যাকশন অন ক্লাইমেট (ইয়াক) ও অক্সফ্যাম ইন্টারন্যাশনাল-এর যৌথ উদ্যোগে এ ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রান-এর নির্বাহী প্রধান নুরুল আলম মাসুদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করীম চৌধুরী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচর্য্য ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারী, নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোঃ মিজানুর রহমান, নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র হারুনুর রশীদ আজাদ, অক্সপাম জিবি’র পলিসি এন্ড অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার জিয়াউল হক মুক্তা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অক্সপাম সাইথ এশিয়ার ক্যাম্পেইন এন্ড অ্যাডভোকেসী ম্যানেজার মিশেল এ্যাঙলেড, অক্সপাম জিবি’র হেড অব অ্যাডভোকেসী কাস্টি হিউস, ডানিডার প্রকল্প ব্যাবস্থাপক রেশাদ আলম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য্য ড. সঞ্জয় কুমার অধিকারী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার সঙ্গে আমাদের কৃষকেরা নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারছেন না। তাই আমাদের বিদ্যমান কৃষি ব্যবস্থার ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে প্রান-এর প্রধান নির্বাহী নূরুল আলম মাসুদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদী ভাঙন, খরা, অতিবৃষ্টি, লবণাক্ততা, অস্বাভাবিক গরম ইত্যাদি বেড়ে যাওয়ার কারণে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশের দরিদ্র জনসাধারণের জীবন-জীবিকা হুমকীর মুখে পড়েছে।
অপরাধ ও সংগঠন সংবাদ