ভিআইপি শূন্য নোয়াখালীর ঈদ রাজনীতি ॥ গণসংযোগ আর শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত সাম্ভাব্য প্রার্থীরা

রুদ্র মাসুদ- নোয়াখালীর দুই প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদ কারাগারে আর সাবেক প্রতিমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের চিকিৎসার জন্য ভারতে। যারফলে এবার ভিআইপ শূন্য থেকেছে নোয়াখালীর ঈদ রাজনীতি। তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং সাম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থীরা গণসংযোগ আর শুভেচ্ছা বিনিময়ে ব্যস্ত ছিলেন। পিছিয়ে নেই উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থীরাও। নোয়াখালী-১ সেনবাগ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী জাহাঙ্গীর আলম মানিক সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের শায়েস্তা নগরের গ্রামের বাড়িতে নেতাকর্মীদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এছাড়া ঈদের দিন বিকাল থেকে তিনি ছাতারপাইয়া, কানকির হাট, গাজির হাট, সেনবাগ, ছমিরমুন্সিরহাটসহ সেনবাগের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এসময় তাঁর সাথে উপজেলা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ছিলেন। ৪ বারের সাবেক সংসদ সদস্য দোর্দন্ড প্রতাপশালী নেতা জয়নুল আবেদীন ফারুক সেনবাগে আসেন শুক্রবার। তিনি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ছাতারপাইয়া, গাজিরহাট, সাহপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এলাকায় ছিলেন আরেক মনোনয়ন প্রত্যার্শী কাজী মফিজুর রহমানও। নোয়াখালী-২ বেগমগঞ্জ-সোনাইমুড়ী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শিল্পপতি এমএ হাসেম কারামুক্তির পর রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। শীর্ষ দুর্ণীতিবাজদের তালিকায় নাম ওঠার পর থেকেই এলাকায় অনুপস্থিত যুবদল সভাপতি ও সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্ট বরকত উল্যা বুলু। তার ওপর তারেক রহমানকে দেখতে গিয়ে গণরোষে পড়ে লাঞ্চিত হন তিনি। তাঁর শিষ্যদের তৎপরতাও খুব একটা চোখে পড়েনি। বিএনপির সাম্ভাব্য প্রার্থীদের কারো তেমন প্রচারণা ছিলো না। তবে আওয়ামীলীগের সাম্ভাব্য প্রার্থী সাবেক ডাকসু সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এটিএম এনায়েত উল্যা এবং তাঁর ভাই মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক চেয়ারম্যান ডাঃ এবিএম জাফর উল্যা শুক্রবার তাদের আলীপুরস্থ বাসভবনে ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করেন। জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ হানিফসহ। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামীলীগ, যুবলীগ এবং ছাত্রলীগ নেতারা এতে অংশ নেয়। এছাড়া এনায়েত উল্যা শনিবার কুতুবপুর এবং কাদিরপুর এলাকায় বিভিন্ন দাওয়াতে অংশগ্রহণ ও গণসংযোগ করেন। তবে বেগমগঞ্জে উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থীদের তৎপরতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। এ আসনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী এটিএম এনায়েত উল্যা এবং মামুনুর রশিদ কিরণের পক্ষ থেকে নোয়াখালী-৩ চাটখিল আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট মাহবুবুর রহমান এলাকায় অনুপস্থিত রয়েছেন দীর্ঘদিন। এআসনের বিএনপির অন্যান্য কোন সাম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতাও চোখে পড়েনি। ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম নেতা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি নুরুল ইসলাম ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে এলাকায় অবস্থান করে চাটখিলের ৯টি ইউনিয়ন চাটখিল পৌর এলাকায় এবং ঈদের পরদিন থেকে আওয়ামীলীগ নেতা শিল্পপতি এইচ এম ইব্রাহিম ৭টি ইউনিয়ন এবং পৌর এলাকায় গণসংযোগ ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নোয়াখালী-৪ সদর-সুবর্নচর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক দীর্ঘদিন পর এলাকায় ফিরেন রমজানে। ঈদের দিন থেকে তিনি জেলা শহর মাইজদীর বাসায় নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ আসনের আওয়ামীলীগ প্রার্থী একরামুল করিম চৌধুরী এবং বিকল্পধারা মহাসচিব মেজর (অবঃ) মান্নান দুই একদিনের মধ্যে এলাকায় আসবেন বলে তাদের ঘনিষ্ঠারা জানিয়েছেন। নোয়াখালী-৫ কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট আসনের দুই ভিআইপি প্রার্থীর মধ্যে ব্যারিষ্টার মওদুদ আহম্মদ বর্তমানে কারাগারে। অপর ভিআইপি প্রার্থী ওবায়দুল কাদের ভারতে গেছেন চিকিৎসা করাতে। এখানে প্রার্থীদের তেমন কোন উপস্থিতি নেই। নোয়াখালী-৬ দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া আসনের বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী ফজলুল আজিম ঈদের দিন তাঁর ওছখালীর বাসায় নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করে। পরবর্তীতে তিনি গত তিনদিনে জাহাজমারা, তমরুদ্দীন, চৌমুহনী, সাগরিয়া, আফাজিয়া এবং ওছখালীতে ব্যাপক গণসংযোগ করেন। তবে এবার ৯টি উপজেলার মধ্যে উপজেলা নির্বাচনের প্রার্থীদের পদচারনাই ছিলো বেশি। নতুন এসকল প্রার্থীরা ইতোমধ্যে ঈদ রাজনীতি জমিয়ে তুলেছেন। এক্ষেত্রে বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন অন্যান্য দলের প্রার্থীদের চেয়ে।

রাজনৈতিক সংবাদ