প্রকৌশলী আমিরুল মোমিন বাবলুএকদিন আমাদের সবই ছিলো, গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ আর ফসল ভরা জমি। আজ সে কেবল দুঃস্বপ্ন- আদিকালের কথা, মিথ্যা-বানোয়াট গল্প-কাহিনী। মেঘনার করাল গ্রাসে হারিয়ে গেলো সে সাজানো গ্রাম, প্রাণচঞ্চল বাজার আর রাত-জাগা উৎসব গান-বাজনা, নাটক-যাত্রা, জারি আর মাইজভান্ডারীর গান। এখন আমরা নোয়াখালীর দক্ষিণে আমাদেরই পূর্বপুরুষের ঠিকানায় জেগে ওঠা খন্ড খন্ড চরের বাসিন্দা।
সভ্যতার নত্র যেনো ছিটকে পড়ে গেলো অমবশ্যার করাল গ্রাসে। আমাকে আজ কেউ চেনে না, আমিও নিজকে যেনো চিনি না; অন্ধকারের মনে হয় এটাই ধর্ম। হিন্দু মুসলমান, বধুআলা-ভুল্যাআলা, নারী-পুরুষ সবাই জেনো সমান। ঘোর কালোয় হারিয়ে যায় আমাদের অতীত, চেনা পৃথক স্বত্তা, যে কোনো পরিচিতি। আমরা যেনো আজ যে কোন জীবন্ত প্রাণী। মানুষ কি আমরা কোনোদিন, কোনোকালে ছিলাম
বা হতে পারবো ? সে এক নিদারুন প্রশ্ন। হারিয়ে গেছে আমাদের যৌবনের রূপ, শরীরের শক্তি আর মনের আবেগ। সঙ্গীত নেই ভালোবাসা নেই; জীবন যেন নিশ্চল নিশ্চুপ পাথরের মুর্তি। আমাদের প্রেম ভালোবাসা শুধু এক বহুদূরের কাল্পনীক কাহিনী। আমাদের বেড়ে ওঠা ছেলে মেয়েরা শৈশব আর যৌবনের সুখআহলাদ থেকে বঞ্চিত। আধুনিকতার ছোঁয়া তাদের গায়ে কোনোদিন লাগবেনা- সেটা নিশ্চিত। হারিয়ে গেলো এক প্রজন্ম, জোয়ারের বানে ভেসে গেলো অতীত সভ্যতা, আগামিদিনের স্বপ্ন আর- বর্তমানের হাসি-কান্না।
বাবা বলেছিলো একদিক আমরাও সুখী হবো। সে সুখ আমার আর কোনদিন দেখা হলো না। চৌদ্দপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে আমি এক পথ হারা পাখি এই চরের বুকে। সেই গ্রাম, সেই চেনা পথ, গোয়ালের গরু, রাখালের বাঁশি- আজ সবই যেনো থেকে থেকে বুকের ভেতরে গর্জন করে জেগে; আমাকে মাতাল করে তোলে। বাঁশী আর বাজে না। দস্যুদের অস্ত্রের তান্ডবে আর ক্ষুধার জালায় বাঁশী আজ স্তব্ধ, নির্বিকার। সুরের বদলে আজ চরাপাশে বেদনার রোল। ন্যূনতম বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মনুষত্বহীন যে
কোণ প্রাণী আমরা। ডাকাত বলে, জলদস্যু বলে জীবন দিতে হয় আমাদের প্রজন্মকে বিনা বিচারে, বিনা প্রতিবাদে। তবুও আমরা মানুষ- বেঁচে আছি কেবল বেঁচে থাকার জন্য। শিক্ষার আলো নেই, চলার রাস্তাঘাট নেই, চিকিৎসার ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই। প্রশাসন নেই; দুঃশাসনের মাঝে আমাদের জীবন। তবুও বেঁচে আছি কেবল বেঁচে থাকার জন্য বাবার স্বপ্ন, মায়ের আদর, স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা আমাদের কপালে ঠাঁই পেলো না। আমাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে আমাদের সন্তানরা। বেড়ে উঠবে অশিক্ষায়, কুশিক্ষায়, পুষ্টিহীনতা- সভ্যতা থেকে অনেক দূরে অচেনা, অজানা অন্ধকার এই এঁকে বেঁকে জেগে ওঠা চরের বুকে। কখনও এরা জোয়ারে ভাসবে, বন্যায় ডুববে, কখনও বা বলী হবে জলদস্যু, বনদস্যু অথবা রাজনৈতিক গডফাদারদের হোলী খেলায়। আমরা শুধু কবর থেকে নীরবে দেখবো, আমার ছেলে রক্তাক্ত হচ্ছে, আমার মেয়ে সম্ভ্রম হারাচ্ছে আর আমার বোন বিধবা হচ্ছে। সবই কেবল সর্বস্বহারা নদীভাঙ্গা নিরীহ অসহায় মানুষগুলোর সামান্যতম সুখের আশায়।
বা হতে পারবো ? সে এক নিদারুন প্রশ্ন। হারিয়ে গেছে আমাদের যৌবনের রূপ, শরীরের শক্তি আর মনের আবেগ। সঙ্গীত নেই ভালোবাসা নেই; জীবন যেন নিশ্চল নিশ্চুপ পাথরের মুর্তি। আমাদের প্রেম ভালোবাসা শুধু এক বহুদূরের কাল্পনীক কাহিনী। আমাদের বেড়ে ওঠা ছেলে মেয়েরা শৈশব আর যৌবনের সুখআহলাদ থেকে বঞ্চিত। আধুনিকতার ছোঁয়া তাদের গায়ে কোনোদিন লাগবেনা- সেটা নিশ্চিত। হারিয়ে গেলো এক প্রজন্ম, জোয়ারের বানে ভেসে গেলো অতীত সভ্যতা, আগামিদিনের স্বপ্ন আর- বর্তমানের হাসি-কান্না।বাবা বলেছিলো একদিক আমরাও সুখী হবো। সে সুখ আমার আর কোনদিন দেখা হলো না। চৌদ্দপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে আমি এক পথ হারা পাখি এই চরের বুকে। সেই গ্রাম, সেই চেনা পথ, গোয়ালের গরু, রাখালের বাঁশি- আজ সবই যেনো থেকে থেকে বুকের ভেতরে গর্জন করে জেগে; আমাকে মাতাল করে তোলে। বাঁশী আর বাজে না। দস্যুদের অস্ত্রের তান্ডবে আর ক্ষুধার জালায় বাঁশী আজ স্তব্ধ, নির্বিকার। সুরের বদলে আজ চরাপাশে বেদনার রোল। ন্যূনতম বেঁচে থাকার লড়াইয়ে মনুষত্বহীন যে
কোণ প্রাণী আমরা। ডাকাত বলে, জলদস্যু বলে জীবন দিতে হয় আমাদের প্রজন্মকে বিনা বিচারে, বিনা প্রতিবাদে। তবুও আমরা মানুষ- বেঁচে আছি কেবল বেঁচে থাকার জন্য। শিক্ষার আলো নেই, চলার রাস্তাঘাট নেই, চিকিৎসার ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই। প্রশাসন নেই; দুঃশাসনের মাঝে আমাদের জীবন। তবুও বেঁচে আছি কেবল বেঁচে থাকার জন্য বাবার স্বপ্ন, মায়ের আদর, স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসা আমাদের কপালে ঠাঁই পেলো না। আমাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে আমাদের সন্তানরা। বেড়ে উঠবে অশিক্ষায়, কুশিক্ষায়, পুষ্টিহীনতা- সভ্যতা থেকে অনেক দূরে অচেনা, অজানা অন্ধকার এই এঁকে বেঁকে জেগে ওঠা চরের বুকে। কখনও এরা জোয়ারে ভাসবে, বন্যায় ডুববে, কখনও বা বলী হবে জলদস্যু, বনদস্যু অথবা রাজনৈতিক গডফাদারদের হোলী খেলায়। আমরা শুধু কবর থেকে নীরবে দেখবো, আমার ছেলে রক্তাক্ত হচ্ছে, আমার মেয়ে সম্ভ্রম হারাচ্ছে আর আমার বোন বিধবা হচ্ছে। সবই কেবল সর্বস্বহারা নদীভাঙ্গা নিরীহ অসহায় মানুষগুলোর সামান্যতম সুখের আশায়।-লেখক
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি নেতা।
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বিএনপি নেতা।






