রুদ্র মাসুদ-বিএনপির দূর্গ হিসেবে পরিচিত নোয়াখালীতেই বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। জেলার ১৭টি ইউনিটের মধ্যে এখনো ১২টি ইউনিটে সম্মেলন করতে পারেনি দলটি। তন্মধ্যে আবার যুবদল সভাপতি বরকত উল্যা বুলু এমপি’র নির্বাচনী এলাকার বেগমগঞ্জ উপজেলা ও চৌমুহনী পৌরসভায় আহবায়ক কমিটিও গঠন করা সম্ভব হয়নি। কমিটি গঠনে এমপিদের কর্তৃত্ব এবং নেতৃত্বের দ্বন্ধের কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে মনে করে দলটির সাধারণ নেতাকর্মীরা। এসব বিষয়ে জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির একাধিক নেতার সাথে যোগাযোগ করা হলে সরাসরি কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি তারা। কেউ কেউ আগ বাড়িয়ে বলছেন ক’দিন বাদেই সম্মেলন এখন কিছু বলা ঝুঁকিপূর্ণ।
এদিকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সম্মেলনের মাধ্যমে জেলা কমিটি গঠনে কেন্দ্রের নির্দেশনা থাকলেও নোয়াখালী বিএনপির সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ ডিসেম্বর। সম্মেলনকে ঘিরে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে আগ্রহ যেমন রয়েছে তেমনি শংকা রয়েছে আদৌ সম্মেলন হবে কিনা এনিয়ে। কারণ ৯১’র পরবর্তী সময়ে জেলা বিএনপির তিনটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবার পর একটি কমিটিও পূর্ণাঙ্গতা পায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা বিএনপির নয়টি উপজেলা ও আটটি পৌরসভা কমিটির মধ্যে সদর, সুবর্নচর ও সেনবাগ উপজেলা এবং নোয়াখালী ও সেনবাগ পৌরসভা কমিটি গঠিত হয়েছে। তন্মধ্যে বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুকের নির্বাচনী এলাকার সেনবাগ উপজেলা ও সেনবাগ পৌরসভায় উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মফিজের নেতৃত্বে দুটি পাল্টা কমিটিও গঠিত হয়েছে। বিগত উপজেলা নির্বাচনের সময়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা ও চৌমুহনী পৌর বিএনপির কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পর থেকে কোন ধরণের নেতৃত্ব ছাড়াই চলছে এই দুটি ইউনিট। গঠিত হয়নি আহবায়ক কমিটিও। যুবদল সভাপতি বরকত উল্যা বুলু এমপি’র নির্বাচনী এলাকার এ দুটি ইউনিটে কবে নাগাদ কমিটি হবে তাও কেউ বলতে পারেনি। ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি’র নির্বাচনী এলাকার চাটখিল ও সোনাইমুড়ি উপজেলা ও পৌরসভা কমিটির কোন সম্মেলন হয়নি। একই অবস্থা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিষ্টার মওদুদ আহমদের এলাকার কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলা ও পৌরসভা কমিটির ক্ষেত্রেও। হাতিয়ায় বিএনপি অনেকটাই নিশ্চিহ্ন।
ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মতে নোয়াখালীর মানুষ বিএনপিকে যতটা ভালোবেসে ভোট দেয় ততটা সাংগঠনিক সামর্থ্য অর্জন করা যায়নি নেতাদের কারণে। ৯১’র পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে দলের কতৃত্ব চলে গেছে সংসদ সদস্যদের কাছে। বর্তমানেও এর ব্যাত্যয় ঘটছেনা। ফলে নেতাকর্মীরা দলের চেয়ে এমপিদের পেছনে বেশী সময় ব্যয় করতে হচ্ছে পদ পদবির জন্য। এজন্যই ১৭টি ইউনিটের মধ্যে মাত্র ৫টি ইউনিটে সম্মেলন হয়েছে, অন্যগুলোতে হতে পারেনি। একথার মানতে রাজী নন ব্যারিষ্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এমপি। তাঁর মতে সোনাইমুড়ি এবং চাটখিল উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে সর্বনিম্ন ৩’শ করে সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এ কারণেই সম্মেলন করতে দেরি হয়েছে। তাছাড়া ৩০ নভেম্বর তো শেষ হয়ে যায়নি।
বেগমগঞ্জ উপজেলা ও চৌমুহনী পৌরসভায় আহবায়ক কমিটিই গঠন না হওয়া এবং কেন্দ্র নির্ধারিত তারিখের পরে জেলা বিএনপির সম্মেলন প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এডভোকেট আব্দুর রহিম বলেন, এ দুটি ইউনিটে আহবায়ক কমিটি গঠনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় সাংসদ বরকত উল্যা বুলুর সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে কমিটি করার কথা। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতৃবৃন্দ সময় করে বসতে না পারায় দেরি হচ্ছে। তবে দু’একদিনের মধ্যেই কমিটি হতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত করেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সম্মেলনের তারিখ আগেই ৪ নভেম্বর নির্ধারিত ছিলো। তবে কেন্দ্রে কাউন্সিলর লিষ্ট পাঠাতে অসুবিধা হবে না বলেও তিনি দাবি করেন।






